kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

রিটেইন্ড আর্নিংসে কর আরোপ

ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বিদেশি বিনিয়োগে

ফরেন চেম্বারের বাজেট পর্যালোচনা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ জুন, ২০১৯ ০৯:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বিদেশি বিনিয়োগে

অবণ্টিত মুনাফা বা রিটেইন্ড আর্নিংসের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর প্রস্তাবে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে বা এফডিআইয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে মনে বলে করে দেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।

তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনআরবি) চেয়ারম্যান মনে করেন এবারের বাজেট ব্যবসাবান্ধব। অনেক জায়গায় কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর পরও কোনো অসংগতি থাকলে এনবিআর তা বিবেচনায় নেবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের  প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের সভাপতি শেহজাদ মুনিম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। অন্যদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি ফ্রাংকোইস দে মারিকট, নির্বাহী পরিচালক জামিল ওসমান প্রমুখ।

শেহজাদ মুনিম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী বছর থেকে রিটেইন্ড আর্নিংসের ওপর ১৫ শতাংশ হারে করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে প্রায় সব বিদেশি প্রতিষ্ঠানই বিপদে পড়বে। এটা দেওয়াও অসম্ভব বলে মনে করেন এফআইসিসিআই সভাপতি।  

মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আইন বাস্তবায়নে আরো ছয় মাস সময়ের সুপারিশ করে তিনি বলেন, ভ্যাট আইন ও সম্পূরক শুল্ক আইনের ধারাগুলোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে স্বচ্ছ ও ভালো কাঠামোর প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। তাই আরো ছয় মাস সময়ের আহ্বান জানান তিনি।

টেলিকমের টার্নওভারের ওপর ২ শতাংশ ও ইকমার্স ব্যবসায় সাড়ে ৭ শতাংশ কর বৃদ্ধি সরকারের ডিজিটাইজেশন অব বাংলাদেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে করে শেহজাদ মুনিম। তিনি এসব কর অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এবারের বাজেট ব্যবসাবান্ধব। ফলে সরকার বিশাল আকারের বাজেট দেওয়ার পরও কৃষি থেকে শুরু করে হাইটেক পার্ক, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অনেক খাতে কর অব্যাহতি দিয়েছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটিও কমানো হয়েছে। এটা করা হয়েছে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং দেশে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে।

তিনি বলেন, ‘আমরা খুশি ২০১২ সালে নতুন ভ্যাট আইন এবার বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। সবাই এটা সুন্দরভাবে গ্রহণ করেছেন। তবে স্তর বিশিষ্ট আইন হওয়ায় কেউ কেউ এটাকে একটি আদর্শ ভ্যাট আইন হয়নি বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কারণ চিনি এখনো অন্য ভোগ্য পণ্য থেকে অনেক কম। তেলে দুই থেকে তিন টাকা এবং চিনিতে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা বাড়তে পারে।

এদিকে প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের সফটওয়্যার ও তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতের সংগঠন বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, সরকার রূপকল্প ২০২১ সালের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর দেশ হবে। এ সময় অনলাইন শপিংয়ের ওপর কর আরোপ কতটা যুক্তিসম্পন্ন হবে। এর ফলে অনলাইন ভোক্তারা আগ্রহ হারাবে। তাই আগামী পাঁচ বছরের জন্য এ খাতে কর অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিষয়টি কিভাবে বিবেচনায় নেওয়া যায় এ নিয়ে খতিয়ে দেখবেন বলেও আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা