kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

প্রস্তাবিত বাজেট জনমুখী ও ব্যবসাবান্ধব : এফবিসিসিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ জুন, ২০১৯ ০৮:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রস্তাবিত বাজেট জনমুখী ও ব্যবসাবান্ধব : এফবিসিসিআই

প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসা সহায়ক বলে মনে করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশন এফবিসিসিআই। সংগঠনটির মতে, এ বাজেট ব্যবসাবান্ধব এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। বাজেটে ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চমবার্ষিক পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা এবং আর্থিক খাতের পুনর্গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা বেশ ইতিবাচক। আর্থিক খাত পুনর্গঠনে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমবে। উৎস বন্ড, ভেঞ্চার ক্যাপিটালসহ অন্যান্য উৎস থেকে অর্থায়নের সুযোগ প্রশস্ত হবে।

গতকাল শনিবার ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সংগঠনের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এই কথা বলেন। রাজধানীর মতিঝিলে সংগঠনের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এফবিসিসিআই।

শেখ ফাহিম বলেন, ‘আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে গতিশীল বন্ড মার্কেটসহ অন্য উপকরণ যেমন ওয়েজ আর্নার্স বন্ড, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ট্রেজারি বন্ডের বিষয়ে গৃহীত উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। একই সঙ্গে জবাবদিহি নিশ্চিত করে ঋণগ্রহীতাদের এক্সিট ব্যবস্থাকে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের উদ্যোগ সময়োপযোগী। কম্পাউন্ড সুদ হারের বদলে সিঙ্গল ডিজিট সিম্পল ইন্টারেস্ট রেটের সিদ্ধান্ত ঋণ গ্রহণের খরচ কমিয়ে দেবে।’

তিনি বলেন, কৃষকের স্বার্থে শস্যবীমা চালু প্রগতিশীল উদ্যোগ। ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা শিল্প খাতের বিকাশকে উৎসাহিত করবে। তৈরি পোশাক খাতের ১ শতাংশ প্রণোদনা ও হ্রাসকৃত কর হার বহাল রপ্তানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।  

বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে মন্তব্য করে এফবিসিসিআই সভাপতি ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক উৎস, অবকাঠামো তহবিল, অবকাঠামো বন্ড ও অন্যান্য আর্থিক উপাদানের ওপর জোর দেওয়ার অনুরোধ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে অপ্রদর্শিত টাকা বিনিয়োগের সুযোগকে স্বাগত জানিয়ে শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, অপ্রদর্শিত টাকা জমি, ফ্ল্যাট ও শিল্পে বিনিয়োগে সুযোগ দেওয়ার ফলে অর্থপাচার বন্ধ হবে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে শেখ ফাহিম বলেন, গত অর্থবছরে ব্যাংকঋণের সুদ হার কমিয়ে আনতে করপোরেট ট্যাক্সে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। করপোরেট ট্যাক্স কমালে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান বাড়বে নিঃসন্দেহে।

ফাহিম আরো বলেন, বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৬.২৮ শতাংশ বেশি। হয়রানিমুক্ত রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক অটোমেশনের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

এফবিসিসিআই আশা করছে, ছোট ও মাঝারি থেকে বৃহৎ সব পর্যায়ে ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো হয়রানি থাকবে না, ভোক্তাপর্যায়ে কোনো খরচ বৃদ্ধি পাবে না, ব্যবসা সহজীকরণের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না, ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত হবে এবং করের আওতা বৃদ্ধি পাবে। এ বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের অধিভুক্ত সব বাণিজ্যিক সংগঠন প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।

শেখ ফাহিম বলেন, বাজেটের কিছু বিষয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন থেকে আপত্তি পাওয়া গেছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ওয়ার্কিং কমিটিতে আপত্তিগুলো উত্থাপন করা হবে। আলোচনার মাধ্যমে সব জটিলতার সুরাহা করা হবে। বাজেটকে যুগোপযোগী উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, গবেষণা ও তথ্য-প্রযুক্তি, অবকাঠামো, আর্থসামাজিক, দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই সহসভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, হাসিনা নেওয়াজ, নিজাম উদ্দিন রাজেশ, রেজাউল করিম রেজনু  প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা