kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

নতুন বাজেটে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে পুঁজিবাজারে প্রণোদনা

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৪ জুন, ২০১৯ ০৯:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন বাজেটে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে পুঁজিবাজারে প্রণোদনা

শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী ও বিকশিত পুঁজিবাজার গড়তে বাজেটে একগুচ্ছ প্রণোদনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে স্বল্পমেয়াদি আমানতের বিপরীতে ঋণগ্রহীতাদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ভারসাম্যহীনতা দূর ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে পুঁজিবাজারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। পুঁজিবাজারে নিয়মনীতি যথাযথ পরিপালন ও নজরদারি জোরদারেও তাগিদ দিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা ঘেঁটে দেখা গেছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কম্পানির প্রতারণা ঠেকাতে বোনাস লভ্যাংশে কড়াকড়ি এবং ১৫ শতাংশ করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীর করমুক্ত লভ্যাংশ আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা, তালিকাভুক্ত কম্পানির দ্বৈত করনীতি প্রত্যাহার এবং পুঁজিবাজারের দুর্বল কম্পানিকে গতিশীল করতে সবল কম্পানির সেটিতে আত্তীকরণের সুযোগও রাখার হয়েছে।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এবারের বাজেট পুঁজিবাজারবান্ধব হয়েছে। পুঁজিবাজারের প্রণোদনায় বিনিয়োগকারীর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতে বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজার গতিশীল হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনায় বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা কম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে নগদ বা ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রত্যাশা করেন, ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট কম্পানির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি ও পুঁজিবাজার শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ক্যাশ

ডিভিডেন্ডের পরিবর্তে কম্পানির মধ্যে স্টক বা বোনাস শেয়ার বিতরণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, যাতে বিনিয়োগকারী প্রত্যাশিত প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়। স্টক ডিভিডেন্ডের পরিবর্তে ক্যাশ বা নগদ ডিভিডেন্ড প্রদানকে উৎসাহিত করতে কোনো কম্পানি স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করলে এ লভ্যাংশের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কম্পানির অর্জিত মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডার তথা বিনিয়োগকারীদের ডিভিডেন্ড দেওয়ার পরিবর্তে রিটেইন আর্নিংস বা বিভিন্ন ধরনের রিজার্ভ হিসেবে তা রেখে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এতে প্রত্যাশিত ডিভিডেন্ড প্রাপ্তি থেকে বিনিয়োগকারী বঞ্চিত হচ্ছে এবং পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ প্রবণতা রোধ করতে কোনো কম্পানির আয় বছরে রিটেইন আর্নিংস ও রিজার্ভ ইত্যাদির সমষ্টি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হলে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। যতটুকু বেশি হবে ততটুকুতেই সংশ্লিষ্ট কম্পানিকে ১৫ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের হাতে পাবলিকলি ট্রেডেড কম্পানি থেকে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ড আয়ের করমুক্তসীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নিবাসী কম্পানির ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর একাধিকবার করারোপ রোধ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহী করতে এ বছর নিবাসী ও অনিবাসী সব কম্পানির ক্ষেত্রে এ বিধান কার্যকর করার প্রস্তাব করছি। এর ফলে নিবাসী কম্পানির পাশাপাশি অনিবাসী কম্পানির ডিভিডেন্ড আয়ের ওপরও একাধিকবার করারোপ হবে না।

পুঁজিবাজারের কোনো দুর্বল বা রুগ্ণ কম্পানিকে আর্থিকভাবে সবল করার উদ্যোগও রাখা হয়েছে আগামী বাজেটে। বলা হয়েছে, ‘কোনো সবল কম্পানি দুর্বল কম্পানিকে আত্তীকরণ করতে চাইলে সেটা বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে দর-কষাকষির মাধ্যমে কিছুটা বিনিয়োগ সুবিধা দিয়ে হলেও এ কাজ করা সম্ভব হলে পুঁজিবাজার শক্তিশালী হবে। পুঁজিবাজারের গভীরতা ও স্থিতিশীলতাও বাড়বে।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের বাজেটে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজার এগিয়ে নিতে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। করমুক্ত লভ্যাংশ আয়সীমা বাড়ানোয় বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা বাড়বে, বোনাস লভ্যাংশেও কড়াকড়িতে বিনিয়োগকারী সরাসরি উপকৃত হবে। দ্বৈত করনীতি প্রত্যাহার ও অর্থমন্ত্রীর আশাব্যঞ্জক বক্তব্য পুঁজিবাজারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সহজ হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা