kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

বিশেষজ্ঞদের চোখে এবারের বাজেট

বাজেটের যে অংশটি বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ জুন, ২০১৯ ২১:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজেটের যে অংশটি বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে

ছবি : পিআইডি

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। বাজেট বক্তৃতা পড়তে পড়তে তিনি অসুস্থ বোধ করলে বাকি অংশ পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাজেটের কোন অংশটি সবচেয়ে বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে? চারজন বিশেষজ্ঞের কাছে এই প্রশ্ন করেছে ডয়চে ভেলে। 

আসুন দেখে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞরা কি বললেন ...

অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বিগত কয়েক বছরে ঘোষিত বাজেটের চেয়ে কিভাবে বাস্তবায়ন হয় সেই দিকেই আমার মনোযোগ বেশি। গত বছরের বাজেটে কী ছিল, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কেন অর্জিত হয়নি সেটা যদি বুঝতে পারি তাহলে এবারের বাজেট হয়ত আরো ভালো বুঝতে পারব। আর কর কীভাবে পরিবর্তন হল সেটা তো বোঝা গেল না। একটা জিনিস আমার ভালো লেগেছে, করের হার না বাড়িয়ে কিভাবে আওতা বাড়ানো যায় সেই চেষ্টা করা হয়েছে। এটা নীতিগতভাবে ভালো দিক'।

অধ্যাপক কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘আমার ভালো লেগেছে তারুণ্যের ব্যবহার। আওয়ামী লীগের ২০১৮ সালের ইশতেহারে এটাকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তারুন্যের শক্তি বাংলাদেশের সমৃদ্ধি।

আমাদের এখানে ৫ কোটি ২৮ লাখের মতো তরুণ প্রজন্ম আছে, এদেরকে ব্যবহার করার উপর খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বারবার বলা হয়েছে, এটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আরেকটা জিনিস ভালো লেগেছে, ইশতেহারেও ছিল, আমার গ্রাম আমার শহর, মানে গ্রামগুলোকে শহরের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা। এটাও একটা উল্লেখযোগ্য দিক। এবারও অন্য বছরের মতো শিক্ষার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেটাও ভালো দিক। কিন্তু বাস্তবায়ন করতে করতে সময় লেগে যায়, খুবই ধীরে শুরু হয় বাস্তবায়ন। এবার আগে থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে বলে আশা করব। আরেকটা জিনিস ব্যাংকিং খাতে যে বিশৃঙ্খলা আছে, সেটা দূর করার জন্য কিছু প্রস্তাবনা আছে, সেই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্রুত কমিশন গঠন করে যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো চিহ্নিত হরে সমাধান করতে হবে। কিছু সমস্যা তো আগে থেকেই চিহ্নিত আছে, সেগুলো সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আর বাজেটে প্রতি বছরই রাজস্ব আদায় ঘাটতি থাকে। এবার আগে থেকে চেষ্টা করলে সেটা হয়ত পূরণ করা সম্ভব'।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘বাজেট আসলে গতানুগতিক হয়েছে। এর মধ্যে এমন কোন বিশেষ বিষয় নেই। তবে ভ্যাট বাস্তবায়ন করতে পেরেছে এটাই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। যদিও ভ্যাটের নিয়ম অনুযায়ী একটি হার হওয়া উচিৎ ছিল সেটা হয়নি। তবুও অনেক ঝামেলার পর এটি বাস্তবায়ন হয়েছে। আরেকটি জিনিস হল তরুণ-যুবকদের জন্য একটা মূলধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদিও এটা খুবই কম তারপরও যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সেটি বড় দিক। এই দুটি জিনিস আমার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে'।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার পর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এবারের বাজেটে সরকার ধারাবাহিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। সেটার ব্যাপারে নিরাপত্তাবলয় বাড়ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ভাতাও বেড়েছে এবং অন্যান্য যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আছে তাদের জন্যও বরাদ্দ বেড়েছে। বিশেষ করে এর আগে নারী বাজেটের সাথে এখন শিশু বাজেট যুক্ত হচ্ছে। প্রবীণদের ব্যাপারেও কথা আছে, এই মানবিকতার দিকটি আমার কাছে পছন্দ হয়েছে'।

সূত্র : ডয়চে ভেলে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা