kalerkantho

শুক্রবার । ২১ জুন ২০১৯। ৭ আষাঢ় ১৪২৬। ১৭ শাওয়াল ১৪৪০

রাজস্ব বাড়ানো ও ব্যাংক খাত সংস্কারের দাবি সিপিডির

সামষ্টিক অর্থনীতি চাপে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ জুন, ২০১৯ ১১:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামষ্টিক অর্থনীতি চাপে

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির কর্মকর্তারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো ও ব্যাংক খাতের সংস্কারে জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। একই সঙ্গে টাকার বিনিময় হারকে নমনীয় রাখারও তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতীয় অর্থনীতির পর্যালোচনা ও আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সিপিডি আরো বলেছে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বেশ চাপের মুখে আছে। বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতি গত ১০ বছরের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে চাপের মুখে রয়েছে। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। উপস্থিত ছিলেন সিপিডির কমিউনিকেশন ও ডায়ালগ বিভাগের পরিচালক আনিসাতুল ফাতেমা ইউসুফসহ অন্যরা।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে চিড় ধরছে, এটি রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ। এর ভেতরে তিনটি বিষয়কে জোর দিতে হবে। একটি হলো রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার এবং টাকার বিনিময় হারকে নমনীয় করে নিচের দিকে ঠিক করে নিয়ে আসা। তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি শক্তিশালী দিক হিসেবে এত দিন বিবেচিত হয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতি গত ১০ বছরের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে চাপের মুখে রয়েছে। কারণ কর আহরণে অপারগতা এখন একটি অমোচনীয় প্রতিবন্ধকতায় রূপ নিয়েছে। এটা যদি অতিক্রম করা না যায়, তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়নের যে অভিলাষ তা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সুযোগ কমে যাবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক খোলাবাজারে ডলার বিক্রি করে টাকার মূল্যমান স্থিতিশীল রাখার যে নীতি নিয়েছে, তা যৌক্তিক নয়।

সংস্থাটির মতে, বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মুদ্রার মান অবনমন হওয়ায় তারা রপ্তানি বাণিজ্যে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কাজেই ডলার বাজারে ছেড়ে টাকার মান স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখার যৌক্তিকতা কমছে বলে মনে করে সংস্থাটি। টাকার মান কমানো হলে রপ্তানিকারকদের নগদ প্রণোদনা দেওয়ার চাপও কমবে বলে মনে করে সিপিডি। সিপিডি জানায়, রপ্তানিকারকদের দাবি অনুযায়ী যদি ৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হয়, তাহলে ১৪ হাজার কোটি টাকার দরকার হবে। টাকার মূল্যমান কমিয়ে তাদের এ সুবিধা দেওয়া সম্ভব বলে মনে করে সিপিডি।

পুঁজিবাজার নিয়ে তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে একটা দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে এবং এখানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। বাজারে পুঁজির ক্ষেত্রে দেখা যায়, চারটি খাত পুঁজিবাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে। এগুলো হলো—ব্যাংক, টেলিকম, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি। কিন্তু লেনদেন চিত্রে দেখা যায় যেসব খাতের বাজারে মূলধন কম তারা আধিপত্য দেখাচ্ছে।

এ ছাড়া বিগত বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়া কৃষকদের স্বস্তি দিতে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।

মন্তব্য