kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

করদাতার তথ্য তৃতীয় পক্ষ থেকে যাচাই!

বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে গঠন করা হবে কর তথ্য ইউনিট

সজীব হোম রায়    

৮ জুন, ২০১৯ ০৮:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করদাতার তথ্য তৃতীয় পক্ষ থেকে যাচাই!

কর দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতারা যে আয়ের উৎস এবং অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করেন তা সঠিক কি না খতিয়ে দেখতে ‘থার্ড পার্টি ইনফরমেশন সিস্টেম’ চালু করা হচ্ছে। অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে করদাতার দেওয়া তথ্য তৃতীয় পক্ষ থেকে যাচাই করা হবে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মূলত কর ফাঁকি রোধ এবং যথাযথ রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষ্যে এটি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাজস্ব আয় পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে এনবিআরের দেওয়া এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, দেশে এমন অনেক করদাতা আছেন যাঁরা নিয়মিত কর পরিশোধ করলেও আইন অনুযায়ী যে পরিমাণ কর পরিশোধ করার কথা তা করেন না। এ ক্ষেত্রে করদাতারা কর ফাঁকি দিতে বৈধ আয়ের উৎস লুকিয়ে থাকেন অথবা আয় কম দেখান। বেসরকারি কম্পানিগুলো লাভ কম দেখানোর মতো কৌশল অবলম্বন করে। আবার ব্যক্তির ক্ষেত্রে কর ফাঁকি দিতে সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানো এবং বার্ষিক আয়ের পরিমাণ কম উল্লেখ করার মতো কৌশল নেওয়া হয়। এসব কারণে সরকার বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। থার্ড পার্টি ইনফরমেশন সিস্টেমে এসব বিষয় ধরা পড়বে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতি চালু আছে। এ পদ্ধতিতে রাজস্ব বোর্ড এবং করদাতার বাইরে যারা আছে তাদের সবাইকে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি বিবেচনা করা হয়। সরকারের বিভিন্ন সংস্থাসহ বেসরকারি সংস্থা যেমন ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিস, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ, ব্যাংক ও বিদেশি মুদ্রার ডিলারদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়। যেসব কাজে বেশি পরিমাণ অর্থ জড়িত এবং রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয় এমন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংস্থাগুলোকে ‘থার্ড পার্টি’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ‘থার্ড পার্টি ইনফরমেশনের’ পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে একটি কর তথ্য ইউনিট গঠন করা হবে।  এতে করদাতার সব তথ্য রাখা হবে। এটি দেশের অন্যান্য সিস্টেমের সঙ্গে আন্ত সংযুক্ত থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য লাভ করবে এবং কর ফাঁকি উদ্ঘাটন এবং করদাতা চিহ্নিতকরণে কাজ করবে। পুরো বিষয়টি বাজেট বক্তৃতায় বিস্তারিত বলবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন সদস্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ সিস্টেম চালু করা হলে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব অনেক বাড়বে। কারা কর ফাঁকি দিচ্ছে তা সহজেই বের করা সম্ভব হবে। বিশ্বের অনেক দেশ সফলভাবে এটি প্রয়োগ করছে। ওই সব দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের দেশে এটি চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এটি উল্লেখ থাকতে পারে।’

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫.৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ ও করনেটের আওতা বাড়ানো হবে। আর আগামী অর্থবছরের মধ্যে এনবিআরের আহরিত মোট রাজস্বে আয়কর খাতের অবদান ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে চাইছে সরকার। সেই কর্মপরিকল্পনার একটি অংশ এই উদ্যোগ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা