kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদ-উত্তাপ মসলার বাজারে

পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও দাম বেড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে, ব্যবসায়ীদের দাবি দারচিনি ও এলাচ ছাড়া অন্য সব মসলার দাম স্থিতিশীল রয়েছে

শওকত আলী    

৪ জুন, ২০১৯ ১১:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদ-উত্তাপ মসলার বাজারে

ঈদের দিন প্রায় প্রতিটি পরিবারই ভালো খাবার তৈরির চেষ্টা করে। ঈদ উদ্‌যাপনে নতুন নতুন পোশাক পরিচ্ছদে যেমন আগ্রহ তেমনি ভালো খাবার আয়োজনেও আগ্রহের কমতি থাকে না। ফলে ঈদের আগে বিভিন্ন মসলার বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েই পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও দাম বেড়ে যায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, দারুচিনি ও এলাচ ছাড়া অন্য সব মসলার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিবছর ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে সাদা এলাচ বাংলাদেশে এলেও এ বছর আসছে না। কারণ ভারতে এলাচের উৎপাদন কম থাকার কারণে তারাই চাহিদা পূরণ করছে আমদানি করে। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই গুয়াতেমালা থেকে এলাচ আমদানি করছে।

গত বছর ১৪০০-১৫০০ টাকা কেজি দরে পাইকারিতে যে এলাচ বিক্রি হয়েছে তা এবার প্রতি কেজি ১৮০০-১৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। নতুন যেসব এলাচ এখন দেশে আমদানি হচ্ছে সেগুলোর দাম আরো বেশি। খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি সাদা এলাচ ২১০০ টাকা থেকে ২৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ গ্রাম সাদা এলাচ কিনতে এবার খরচ হচ্ছে ২১০-২৬০ টাকা। কারওয়ান বাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজারগুলোতে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ২১০০-২৩০০ টাকা কেজি দরে। তবে বিভিন্ন সুপারশপগুলোতে এই পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ২৫০০-২৬০০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারের ইয়াসিন জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে আমাদের কিছু করার নেই। আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। গত বছর এলাচি বিক্রি করেছি ১৮০০ টাকায় কেজি। এবার সেটা বিক্রি করছি ২১০০ টাকা কেজি।’

সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বেড়েছে দারুচিনির। দারচিনির জন্য চীন ও ভিয়েতনামের ওপরই নির্ভর করে বাংলাদেশ। দুটি দেশে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ঠিকমতো পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না বলে জানান পাইকারি বিক্রেতারা। এ কারণে পণ্যটির দাম বেড়েছে।

খুচরা বাজারে ২৫০-২৮০ টাকায় যে দারুচিনি পাওয়া যেত তা এবার বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৫৫০ টাকা কেজি দরে।

বাংলাদেশ হোলসেল স্পাইসেস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৌলভীবাজারের রুবেল ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলাচ ও দারুচিনির দাম বেশি। যেসব দেশ থেকে পণ্য দুটি আমদানি হয় সেখানে সংকট রয়েছে। যে কারণে দাম বেড়েছে। তবে এ দুটি ছাড়া অন্য মসলাগুলোর দাম স্বাভাবিক আছে।’

তবে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে অন্য মসলাগুলোর দামও বেড়েছে। এর মধ্যে প্রতি কেজি জিরা ৩২০-৪৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি লবঙ্গ ৯০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি লবঙ্গ বিভিন্ন মুদি দোকানে ১২০০-১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সুপারশপগুলো কিনতে গেলে খরচ করতে হচ্ছে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। বাংলাদেশে ভালো মানের লবঙ্গ ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি হয় বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশে ইরান ও চীন থেকে আমদানি করা কিশমিশ বিক্রি হয়ে থাকে। এ পণ্যটি প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হয়। যে কারণে এর পাইকারি ও খুচরা দামে পার্থক্য থাকে কম। পাইকারি বাজারে কিশমিশ ২৬০-২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে ক্রেতাকে প্রতি কেজি কিশমিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকায়।

এ ছাড়া পাইকারি বাজারে জায়ফল ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে নানা রকম দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতি কেজি জায়ফল ৭০০-১৮০০ টাকা পর্যন্ত। দেশের বাজারে কাজু বাদাম আসে ভিয়েতনাম ও ভারত থেকে। আলাদা আলাদা দেশ থেকে এলেও বিক্রি হয় কাছাকাছি দামেই। বর্তমানে এই পণ্যটির পাইকারি ৯৭০-৯৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে। প্রতি কেজি ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া আলুবোখারা ৮০০-১০০০ টাকা কেজি ও শাহি জিরা ৭৫০-৮৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

পাইকারি বাজারের দ্বিগুণ দামে পণ্য বিক্রির কারণ জানতে চাইলে শুক্রাবাদ বাজারের মুদি দোকানি শাওন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসব মসলা খুব কম করে কিনে। কোনো কোনো পণ্য এক-দুই কেজি আনলে সারা বছরেও বিক্রি হয় না। শুধু ঈদের সময়েই এসবের বাড়তি চাহিদা থাকে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা