kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

অর্থপাচার রোধে নানা ব্যবস্থা

ফারজানা লাবনী   

৩ জুন, ২০১৯ ০৮:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থপাচার রোধে নানা ব্যবস্থা

কোনো আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের আমদানীকৃত কাঁচামালের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে ৩০ শতাংশের বেশি উল্লেখ করা হলে ওই পণ্য আমদানির অনুমতি না দিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো রপ্তানীকৃত প্রতিষ্ঠানের রপ্তানির পরিমাণ কাঁচামাল আমদানির পরিমাণের চেয়ে ৩০ শতাংশের কম হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পণ্য রপ্তানিতে অনুমতি না দিতে বলা হয়েছে।

অর্থপাচার রোধে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে এনবিআর এসব পদক্ষেপসহ আরো কিছু প্রস্তাব তৈরি করে গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখে অর্থ মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করবে।

এনবিআরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যে ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলা হবে, সেখান থেকে আমদানি বা রপ্তানির তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষকে তার সত্যতা যাচাই করে পণ্য ছাড় করানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। বন্দরে বসানো স্ক্যানিং মেশিনে পণ্য স্ক্যান না করে ছাড় করালে সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে হবে। দায়ী ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। আমদানি-রপ্তানির প্রকৃত তথ্য পেতে লিয়েন ব্যাংকে রাজস্ব কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে মাস্টার এলসি ও বিক্রয় চুক্তি যাচাই করবে।

অনেক প্রতিষ্ঠান কাঁচামালের প্রকৃত মূল্য গোপনের মাধ্যমে বেশি দাম দেখিয়ে অর্থ পাচার করে। এ দুর্নীতি বন্ধে এনবিআরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কাঁচামালের মূল্য হিসাবে আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে ৩০ শতাংশের বেশি দেখানো যাবে না। অন্যদিকে অনেক বেশি পরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করলেও কম পরিমাণ রপ্তানি করে। এ ক্ষেত্রে প্রস্তাব করা হয়েছে, কাঁচামাল আমদানির চেয়ে কম পরিমাণ রপ্তানি করলে তা বাতিল করা হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী অর্থবছরের বাজেটে অর্থপাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

অর্থপাচারসংক্রান্ত মামলা পরিচালনায় দীর্ঘসূত্রতা থাকে। এতে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন কৌশলে শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আবারও অর্থপাচারের সুযোগ পায়। সে জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ পাওয়া গেলে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচারে শাস্তি দেওয়ার বিধান রাখতে এনবিআর প্রস্তাব করেছে। অর্থপাচারসংক্রান্ত মামলা পরিচালনাকারী বাংলাদেশ ব্যাংক বা এনবিআরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থপাচার রোধে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতেও প্রস্তাব করা হয়েছে।

এনবিআরের প্রস্তাবে বন্ড (বিনা শুল্কে পণ্য আমদানি-রপ্তানি) সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে কঠোর হতে বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে অকার্যকর বন্ডেড ওয়্যার হাউসের নাম এনবিআরকে না জানালে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী বাজেটে প্রতি ছয় মাসে এনবিআর থেকে ব্যবসায়ী সংগঠনের সহায়তায় বন্ডেড ওয়্যার হাউসের তালিকা হালনাগাদ করতে প্রস্তাব করা হয়েছে।

‘রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি ও ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ’—বন্ড সুবিধায় আমদানীকৃত প্রতিটি পণ্যের প্যাকেট বা মোড়কের গায়ে এমন সতর্কীকরণ লিখে রাখা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে এনবিআর। অনলাইনে আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত সব কার্যক্রম নজরদারিতে নতুন সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি এবং এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম মুর্শেদী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অর্থপাচার কী কারণে হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অর্থপাচার বন্ধে সরকারকে সহযোগিতা করবে।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার ও ব্যবসায়ী—এ দুই পক্ষকে একসঙ্গে অর্থপাচার বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। এক পক্ষ এগিয়ে এলো কিন্তু অন্য পক্ষ আগ্রহী হলো না, এতে অর্থপাচারের মতো দুর্নীতি বন্ধ হবে না। অর্থপাচার রোধে আইনের ফাঁক বন্ধ করা জরুরি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা