kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

কল মানি লেনদেন বেড়ে দ্বিগুণ

হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংক

জিয়াদুল ইসলাম    

৩০ মে, ২০১৯ ১১:৫২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংক

অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন, সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ও এডিআর সমন্বয়ের চাপ

রোজা ও ঈদ সামনে রেখে ব্যাংকগুলোতে চলছে নগদ টাকার টানাটানি। গ্রাহকের নগদ টাকা তোলার বাড়তি চাহিদা মেটাতে অনেক ব্যাংকই এখন হিমশিম খাচ্ছে। তারা আন্ত ব্যাংক কল মানি ও রেপো ব্যবস্থার দ্বারস্থ হচ্ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কল মানি লেনদেন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। আন্ত ব্যাংক রেপো ব্যবস্থায়ও এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকের ধার দেওয়া-নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। কিছু কিছু ব্যাংক নগদ টাকার সংকট মেটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংকই তারল্য সংকটে ভুগছে। এদের মধ্যে কিছু কিছু ব্যাংক তাদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড চালাতেও হিমশিম খাচ্ছে এবং তারা নতুন ঋণ বিতরণ বন্ধ রেখেছে। চলমান বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ বিতরণও করতে পারছে না কেউ কেউ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে ঋণ ও আমানত রেশিও (এডিআর) সমন্বয়ে চাপ, আশানুুরূপ নতুন আমানত না আসা, ডলার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও ব্যাসেল-৩ আওতায় বাড়তি মূলধন সংরক্ষণের কারণে অনেক দিন ধরেই তারল্য সংকটে ভুগছে ব্যাংকিং খাত। বিশেষ করে ঈদের আগে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্রাহকের নগদ টাকা তোলার চাপ এবং অর্থবছরের শেষদিকে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এখনো ১৩ থেকে ১৪টি ব্যাংকের এডি রেশিও আইনি সীমার বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী খাতের ব্যাংকই রয়েছে পাঁচটি। বাকিগুলো প্রচলিত ধারার বেসরকারি ব্যাংক। তবে সরকারি খাতের ব্যাংক ছাড়া বেশির ভাগ ব্যাংকেরই এডি রেশিও আইনি সীমার কাছাকাছি রয়েছে। ফলে এসব ব্যাংকও আমানত না বাড়িয়ে নতুন ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। নগদ টাকা তোলার বাড়তি চাপে তারাও তারল্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকাারি খাতের যমুনা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, মার্কেন্টাইল, ন্যাশনাল, দ্য সিটি ও এবি ব্যাংক এবং বিদেশি খাতের এইচএসবিসি ব্যাংকও কল মানি থেকে অর্থ ধার করছে।

সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি এম কামাল হোসেন বলেন, প্রতিবছরই ঈদের আগে গ্রাহকের নগদ টাকা তোলার একটা চাপ থাকে। ফলে এ সময় যাদের একটু সংকট থাকে তারা আন্ত ব্যাংক কল মানি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো সহায়তা নিয়ে থাকে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সব ব্যাংকই সংকটে পড়েছে। যদি সিংহভাগ ব্যাংকের এই সংকট হতো তবে কল মানি রেট নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকত না।

জানা যায়, বেসরকারি বিনিয়োগে ধারাবাহিক মন্দায় গত চার-পাঁচ বছর ব্যাংকিং খাতে নগদ টাকার কোনো সংকটই হয়নি এবং ২০১৭ সালের জুন পর্যন্তও এ খাতে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার মতো উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল। এখন তা ৬৩ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই ৬৩ হাজার কোটি টাকাও আবার সরকারের বিভিন্ন বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হিসেবে আটকে আছে। এর ওপর অর্থবছরের শেষ সময় সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গতকাল বুধবার আন্ত ব্যাংক কল মানি মার্কেটে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে সাত হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবারও প্রায় একই পরিমাণ লেনদেন হয়। এক সপ্তাহ আগে গত ২০ মে এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র তিন হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। বুধবার আন্ত ব্যাংক রেপো ব্যবস্থায় এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে সরকারি সিকিউরিটিজ জমার বিপরীতে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপো ব্যবস্থায়ও ধার নিচ্ছে ব্যাংকগুলো। গত ২৬ মে দুটি ব্যাংক প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ধার নেয়। গতকালও কয়েকটি ব্যাংক কয়েক শ কোটি টাকা ধার নিয়েছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত কয়েক মাসে আগ্রাসী ব্যাংকিং করেছে অনেকেই। অন্যদিকে আমানত সংগ্রহ হয়েছে কম। এতে আমানত ও ঋণ প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে এডি রেশিও সমন্বয়ের চাপে আগে থেকেই বেশ কিছু ব্যাংক নগদ টাকার সংকটে রয়েছে। ঈদের কারণে এই সংকট কিছুটা বাড়তে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা