kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

জলঢুপী লিচু'র বাম্পার ফলন

বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০১৯ ১৬:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলঢুপী লিচু'র বাম্পার ফলন

ছবি : কালের কণ্ঠ

বিয়ানীবাজারের জলঢুপ এলাকার কমলা আনারসের খ্যাতিব্যাপী। সে তুলনায় এ অঞ্চলের লিচু অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এবার জলঢুপসহ আশপাশ টিলাব্যষ্টিত এলাকায় লিচুর বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয় আবাদকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কমলা ও আনারসের মতো জলঢুপী লিচুর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে দেশের সর্বত্র। জলঢুপী লিচু’র বাম্পার ফলনের ছোঁয়ায় বিয়ানীবাজার পৌরশহরসহ উপজেলার দক্ষিণ অংশ লিচুময় হয়ে গেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। একই সাথে রসে টইটুম্বুর লিচুর স্বাদ গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু। 

আকার ও গঠনে অন্যান্যবারের তুলনা ভালো থাকায় ক্রেতারা সহজে আকৃষ্ট হচ্ছেন। পৌর শহর থেকে বারইগ্রাম যাওয়ার পথে পথে ফরমালিনমুক্ত জলঢুপী লিচুর পসরা সাজিয়ে বসে আছেন বাগান মালিকরা। শতশত এসব বাগান মালিকের লিচুর পসরায় ভিড় করছেন পথচারীরা। পছন্দ হলে দরকষাকষি করে কিনে নিচ্ছেন লিচু। বিয়ানীবাজারের জলঢুপ অঞ্চল কমলা ও আনারস চাষের জন্য এক সময় বিখ্যাত ছিল। কিন্তু মাটি কেটে টিলার শ্রেণি নষ্ট করা, কমলা ও আনারস আবাদে স্থানীয়দের অনাগ্রহের পাশাপাশি ভিন জাতের অফলনশীল গাছ আবাদে বেশি আগ্রহী জলঢুপ অঞ্চলের মানুষ। এর মধ্যে এবার লিচুর বাম্পার ফলনে ফল ফসল আবাদকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। যার প্রভাব পড়েছে আবাদকারীর উঠান থেকে প্রধান সড়কে। পথে পথে রাষায়নিক পদার্থে মিশ্রণহীন জলঢুপী লিচুর প্রতি ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ। ইফতারের টেবিলেও ঠাঁই পেয়েছে জলঢুপী লিচু।

উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্রে জানা যায়, পনের হেক্টর ভূমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি লিচু আবাদ হয়েছে ২ টন। সংখ্যা যা গাছ প্রতি ৯/১০ হাজার। জলঢুপ অঞ্চলে মোজাফ্ফরবাদ জাতে লিচু আবাদ হয়েছে। সেগুলো বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেশ কিছু অংশে ‘চায়না থ্রি’ লিচু আবাদ রয়েছে। এ লিচু আরো কয়েকদিন পর বাজারে আসবে। 

বিয়ানীবাজার পৌরশহরে এক লিচু ক্রেতার সাথে আলাপকালে জানা যায়, জলঢুপের লিচু একদম প্রকৃতিক উপায়ে উৎপাদন করা হয় স্বাদেও মানে অন্য এলাকার লিচুর চেয়ে ভালো। এক গুছি কিনেছিলাম পঞ্চাশ টাকায়। আমার পরিবারের প্রতিদিনের ইফতারের ম্যানুতে জলঢুপী লিচু স্থান করে নিয়েছে।

লিচু বিক্রেতা মনা মিয়া জানান, লিচুর ফলন কয়েক বছরের চেয়ে এবার ভালো হয়েছে, একই সাথে স্বাদ ও আকার বেশ ভালো। তবে সে তুলনায় দাম অনেক কম। তিনি বলেন, এবার লিচু রমজানের শুরুতেই পাকা শুরু হওয়ায় ফলন ভালো হলেও দাম সে তুলনায় অনেক কম পাচ্ছি। লিচু পাকা শুরু হলে দুই দিনের মধ্যে সমস্থ গাছের লিচু পেকে যায়। পাকা লিচু ৪/৫ দিন গাছে ধরে রাখা সম্ভব- এর বেশি হলে ঝরে পড়ে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান বলেন, জলঢুপ অঞ্চলে লিচুর বাগান নেই। যা আছে তা বসতবাড়ি কেন্দ্রিক ২/৪টি লিচু গাছ। এ অঞ্চলে কেউ বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষাবাদ করলে ভালো ফলনের পাশাপাশি লাভবান হওয়া সম্ভব। এতে কৃষি অফিস উদ্যোক্তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করবে।

মন্তব্য