kalerkantho

রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার অঙ্গীকার ব্যবসায়ী ও কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ মে, ২০১৯ ১০:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার অঙ্গীকার ব্যবসায়ী ও কর্তৃপক্ষের

ফাইল ছবি

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত মজুদ রয়েছে দেশে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব কটি সরকারি দপ্তর এসব পণ্যের যৌক্তিক দাম ঠিক করে দিয়েছে। নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদের বিষয়টি স্বীকারও করেছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দামে ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রির ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছে খুচরা ব্যবসায়ীরাও। গতকাল সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে এসব অঙ্গীকার করেছে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সব কটি সরকারি দপ্তর।

ডিএনসিসি জানায়, বাজারে পণ্যের মজুদ থাকায় দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই ব্যবসায়ীদের। ডিএনসিসির ৪৩টি মার্কেটে সিটি করপোরেশনের মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে দেওয়া থাকবে। মূল্য তালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি না করলে সিটি করপোরেশন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদে অভিযোগ করা যাবে।

নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে ডিএনসিসির আটটি দল মাঠে থাকবে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, র‌্যাব, বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে। বাজার মনিটরিংয়ের জন্য ডিএনসিসি ইতিমধ্যে দল গঠন করেছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে বাজার মনিটরিং কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে।

ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে তৎপর রয়েছে সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের আটটি দল অভিযান পরিচালনা করবে নিয়মিত। সরকারি অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

ব্যবসায়ীরা জানায়, পণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত থাকায় দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। সিটি করপোরেশনের দেওয়া মূল্য তালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করা যাবে। তবে বাজার অস্থিতিশীল করার জন্য খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা একে অপরকে দোষারোপ করে। হয়রানি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং অভিযান পরিচালনা করার সময় সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ের দাবিও জানায় ব্যবসায়ীরা।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্য কমেছে। যৌক্তিক পণ্যমূল্য নির্ধারিত হয়েছে। তাই কাউকে দোষারোপ না করে পাইকারি ও খুচরা উভয় ব্যবসায়ীকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে। হয়রানি বন্ধে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করুন।’

নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি না করলে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফল ও মাছে ফরমালিন মেশালে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। তবে সরকারি কোনো অভিযান বা ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবসায়ীদের হয়রানি করবেন না বলেও জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক।

একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং খাদ্যে ভেজাল বন্ধে ব্যবসায়ীদের তৎপর হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি না করলে রসিদ সংরক্ষণের ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভোক্তাদের।
 

মন্তব্য