kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

দরপতনে নিঃশেষ পুঁজি

ছোটরা রাস্তায় ♦ হাত গুটিয়ে বড় বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০৯:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দরপতনে নিঃশেষ পুঁজি

‘উত্থান-পতন স্বাভাবিক ঘটনা, দেশের পুঁজিবাজার ভালোই রয়েছে’ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের এমন বক্তব্যের পরদিনই বড় দরপতন ঘটে। দ্বিতীয় দিন গতকাল বুধবারও পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। তবে শেয়ার কেনার চাপ থাকলেও লেনদেনে ছিল ধীরগতি।

এদিকে দরপতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ক্রমেই নিঃশেষ হচ্ছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে তারা। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

গত ফেব্রুয়ারির পর থেকে উত্থান-পতনের মধ্যেই চলছে পুঁজিবাজার। মার্চের শেষ ও চলতি মাসের শুরুর দিকে পতনের মাত্রা চরম আকার ধারণ করে। অব্যাহত শেয়ার বিক্রিতে তলানিতে নেমে যায় পুঁজিবাজার। নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করলেও কার্যত কোনো ফল নেই।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আস্থার সংকটে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন। এ ছাড়া ব্যাংক খাতে অস্থিরতায় তারল্য সংকট, এক্সপোজার ইস্যুতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নিষ্ক্রিয়তা এবং সঞ্চয়পত্র ও আমানতে সুদের হার বৃদ্ধি পুঁজিবাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে। বাজারে সাপোর্ট দিতে আইসিবির হাতে পর্যাপ্ত ফান্ড নেই আখ্যা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অর্থ মন্ত্রালয় থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। আবার অন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও হাত গুটিয়ে বসে আছে।

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস গতকাল বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্যসূচকে পতন ঘটলেও লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৩২ কোটি ৮৪ লাখ লাখ টাকা আর সূচক কমেছে ২০ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৯৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ৬২ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর থেকেই শেয়ার বিক্রির চাপে ডিএসইর সূচক অর্ধশতাধিক পয়েন্ট কমে যায়। দুপুর পৌনে ১২টা থেকে শেয়ার কেনার চাপ বাড়লে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। দুপুর ১টার পর শেয়ার কেনার মাত্রা আরো বাড়ে; কিন্তু দেড়টার দিক থেকে আবারও বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। এতে দিনের সূচক কমার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। দিন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ২৪০ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৬৮ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৪৬ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৪টির, দাম কমেছে ২০৩টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯ কম্পানির শেয়ার দাম।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার। কম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ন্যাশনাল টিউবসের লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আর তৃতীয় স্থান থাকা মুন্নু সিরামিকসের লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অন্যান্য শীর্ষ কম্পানি হচ্ছে ফরচুন সুজ, বিএসসিসিএল, ব্র্যাক ব্যাংক, ফাইন ফুডস, গ্রামীণফোন ও  বিবিএস কেবলস। 

অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন। বুধবার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আর সূচক কমেছে ৪৫ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৩৫ কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৪টির, দাম কমেছে ১৪৮টির আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩ কম্পানির শেয়ার দাম।

বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ : পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠকের দাবি জানিয়েছে বিনিয়োগকারীরা। তারা বলছে, বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রধানমন্ত্রীকে পুঁজিবাজারের প্রকৃত চিত্র জানানো হচ্ছে না। সে জন্য স্টেকহোল্ডারদের সরাসরি বৈঠকের দাবি জানায় তারা। বুধবার দুপুরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে এক বিক্ষোভে এ দাবি জানায় তারা। গত ২২ এপ্রিল নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক হলেও কার্যত কোনো ফল দেয়নি। বরং উল্টো পরদিন থেকে আবারও পতন শুরু হয়েছে।

মন্তব্য