kalerkantho

রানা প্লাজা ধস থেকে জেগে উঠেছে নতুন পোশাক খাত

এম সায়েম টিপু    

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রানা প্লাজা ধস থেকে জেগে উঠেছে নতুন পোশাক খাত

বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর আজ। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাজধানীর অদূরে সাভারে ভবনধসে এক হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে। যার কয়েকটি ফ্লোরে ছিল পোশাক কারখানা। এর ফলে তৈরি পোশাক খাতসহ পুরো দেশের ভাবমূর্তি সংকটে পড়ে। বিশ্বে নেতিবাচক প্রচারণার শিকার হয় বাংলাদেশ। কিন্তু এত কিছুর পরও সেই পোশাক খাতই আবার দেখিয়ে দিয়েছে কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।

তবে ছয় বছর হয়ে গেলেও রানা প্লাজায় আহত শ্রমিকদের অনেকেই এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। দুর্ঘটনার শিকার ৫১ শতাংশ শ্রমিক এখনো কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে। আহত শ্রমিকদের ২০ শতাংশের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। আহত ও নিহত শ্রমিক পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণের অর্থ পেলেও টাকা ভেঙে ভেঙে দেওয়ায় অনেকেই আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মতো কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারেনি বলে জানা গেছে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা জিএসপি হারাতে হয়, যা এখনো পুনর্বহাল হয়নি। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশ থেকে পোশাক না নেওয়ার হুমকি দেয় বিশ্বের বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের এই খাতে বেশির ভাগই নারী। দেশের রপ্তানি আয়ে ৮৪ শতাংশ অবদান এ খাতের।

বিজিএমইএর সদ্য বিদায়ী সভাপতি সিদ্দিকুর রহামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদেশি ক্রেতাদের চাপ আমাদের সাময়িক বেশ চাপে ফেলে দেয়। কারখানা সংস্কারের নামে দেশীয় কারখানাগুলোর ওপর চরম নজরদারি চালায়। বিশ্বের কোথাও এমন নজরদারি না থাকলেও উত্তর আমেরিকার ক্রেতা জোটের প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স ফর ওয়ার্কার সেফটি ও ইউরোপের ক্রেতা জোট অ্যার্কডের চাপে পড়ে দেশের এক হাজার ২০০ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে চার লাখ শ্রমিককে কাজ হারাতে হয়েছে। এত কিছুর পরও অদম্য বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে সিদ্দিকুর রহামান বলেন, পোশাক খাতে বাংলাদেশের কারখানাগুলো আজ বিশ্বসেরা। বিশ্বের সেরা ১০টি কারখানার মধ্যে সাতটি বাংলাদেশের। ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলে (ইউএসজিবিসি) সনদপ্রাপ্ত ৬৭টি গ্রিন কারখানা, আরো প্রায় ২৮০টি গ্রিন কারখানা হওয়ার অপেক্ষায় আছে। গত ছয় বছরে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

সরকারের প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শ্রমঘন এই শিল্পকে টেকসই করতে সরকারের প্রণোদনা ছিল অনেক। তিনি বলেন, করপোরেট ট্যাক্স ১৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাশ করা হয়েছে। গ্রিন ফ্যাক্টরির ক্ষেত্রে ১৪ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। অন্য শিল্প খাতে দেখা যায় ১৫-৪৫ শতাংশ দিতে। এ ছাড়া উৎস কর প্রস্তাবিত ০.৬ শতাংশ থেকে ০.২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তার সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক দিতে হয় মাত্র ৫ শতাংশ। বন্দর সেবা গ্রহণে নির্ধারিত ১৫ শতংশ ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। নতুন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তাসহ তিন ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা ১০ থেকে ১২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

শ্রমিক নেতা আমিরুল হক আমিন বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের অধিকার অর্জনে এখনো অনেক বাধা আছে।

টিআইবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশি ও বিদেশি অংশীজনের মাধ্যমে কারখানা নিরাপত্তা নিশ্চিতে কারখানা পরিদর্শন ও সংস্কারে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এতে জাতীয় উদ্যোগ, অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সর তালিকাভুক্ত প্রায় সব কারখানায় (চার হাজার ৩৪৬টি) প্রাথমিক পরিদর্শন কাজ শেষ হয়েছে। সমন্বিত উদ্যোগের দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ (দুই হাজার ২০৭টি) কারখানার সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে অ্যাকর্ডভুক্ত ৯২ শতাংশ, অ্যালায়েন্সভুক্ত ৯৮ শতাংশ, জাতীয় উদ্যোগের ৪.৫ শতাংশ কারখানার সংস্কার অগ্রগতি হয়েছে।

মন্তব্য