kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

উদ্যোক্তা

টার্কিতে বেকারত্ব ঘুচল রাজুর

জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর)    

১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টার্কিতে বেকারত্ব ঘুচল রাজুর

নিজ খামারে রাজু হোসেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের শার্শায় পারিবারিক ও বাণিজ্যিকভাবে টার্কি মুরগি পালন শুরু হয়েছে। অনেকের মতে বেকারত্ব নিরসনে নতুন দিক উন্মোচন করেছে এসব পালন। তাদেরই একজন শার্শার সম্বন্ধকাঠি গ্রামের যুবক রাজু হোসেন।

তিনি জানান, লেখাপড়া শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হয়ে টার্কি মুরগি পালন শুরু করেন। একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বিক্রি করা হচ্ছে এগুলো। ১-১০ দিনের বাচ্চা ৩০০ টাকা ও বড়গুলো ৫-৬ হাজার টাকা জোড়া বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া খাবারের খরচও কম। বাড়তি খাবার বাজার থেকে কিনতে হয় না। প্রকৃতিতে এদের খাবার পাওয়া যায়। কলমি, হেলেঞ্চা, সরিষা, পালংসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি বেশি পছন্দ করে এ জাতের মুরগি। রোগ-বালাইয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে আড়াই মাস বয়সী টার্কিকে চারটি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।

রাজু বলেন, প্রথমে ১৫০ টাকা দরে ৬০০ ডিম কিনি। ওই ডিমের বাচ্চা ফোটানোর জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়ে ইনকিউবেটর কিনে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো শুরু করি। অল্প কিছু টাকা বিনিয়োগ করে এক বছরের মধ্যেই দ্বিগুণ মুনাফা পান টার্কি খামারিরা। নতুন জন্ম নেওয়া বাচ্চা লালন-পালন করে মাত্র তিন মাসের মাথায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করে ভালো মুনাফা পাচ্ছেন খামারিরা।

রাজুর দেখাদেখি আরো অনেকে ছোট ছোট খামার গড়ে তুলছেন। রাজুর খামার থেকে মুরগির বাচ্চা কিনে ঝিকরগাছার মাঠুয়াপাড়ার কামরুল ইসলাম, শিমুলিয়ার মনিরুজ্জামান বিল্লাল ও কামারপাড়ার আবু সাইদ তিন বন্ধু তিনটি খামার গড়ে তুলেছেন।

কামরুল বলেন, ‘টার্কি তৃণভোজী প্রাণী হওয়ায় এরা লতাপাতা ও ঘাস খায়। এদের রোগ-বালাইও কম। নতুন খামার তৈরি করেছি, টার্কির সংখ্যা বাড়াতে পারলে বেশি লাভ হতো কিন্তু অর্থসংকটে এগোতে পারছি না। সরকারি সহযোগিতা পেলে খামারটি বড় করা সম্ভব হতো।’

মনিরুজ্জামান বিল্লাল বলেন, ‘রাজুর খামার থেকে ৩৬ দিনের ৩৮টি টার্কির বাচ্চা কিনে প্রথম খামার শুরু করি। দুই মাসের প্রতিটি বাচ্চার ওজন এখন আড়াই কেজি হয়েছে। ওদের জন্য দুই কাঠা জমিতে ঘাস লাগিয়েছি।’

টার্কি মুরগি কলমিশাক, বাঁধাকপি, ভুট্টা, চাল, ভাতসহ অন্যান্য খাবার খায়। তবে দানাদার খাবারের চেয়ে কলমিশাক ও বাঁধাকপিই বেশি পছন্দ। রোগ-বালাইও কম। গরু, খাসি ও দেশি হাঁস-মুরগির চেয়ে এই টার্কির মাংসের স্বাদ বেশি ও চর্বির পরিমাণ কম।

শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়দেব কুমার সিংহ জানান, রাজু, সজীবসহ অন্যান্য খামারিরা খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। আর এই পুষ্টির উৎস হিসেবে টার্কির গুরুত্ব মুরগি ও হাঁসের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। দ্রুত বর্ধনশীল একটি টার্কি বছরে ১২ থেকে ১৫ কেজি ওজন হওয়ায় এটি অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় টার্কির খামারের প্রতি আরো অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন।

মন্তব্য