kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

বন্ডের অপব্যবহার বন্ধ চায় দেশি কাগজশিল্প মালিকরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্ডের অপব্যবহার বন্ধ চায় দেশি কাগজশিল্প মালিকরা

বন্ড সুবিধার আওতায় বিনা শুল্কে ডুপ্লেক্স বোর্ড, মিডিয়া পেপার, হার্ড টিস্যু ও অন্যান্য সমজাতীয় পণ্য আমদানির সুযোগ দিয়েছে সরকার। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সরকারি এ সুযোগের অপব্যবহার করছে। কারখানায় ব্যবহারের শর্তে আমদানি করলেও উৎপাদনে না লাগিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে, যা দেশি কাগজশিল্পে উৎপাদিত সমজাতীয় পণ্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এভাবে দেশি কাগজশিল্প অসম প্রতিযোগিতায় লোকসানে পড়ছে। দীর্ঘদিন থেকে বন্ডেড সুবিধার অপব্যবহার করে এ অবৈধ ব্যবসা চলছে। এসব অসাধু ব্যবসা বন্ধে ঘন ঘন অভিযান চালানো প্রয়োজন।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনাকালে আগামী অর্থবছরের বাজেটে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে একগুচ্ছ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে দেশি কাগজশিল্পের সংগঠন বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমএ)।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনায় এনবিআর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিপিএমএর ব্যবসায় উন্নয়ন এবং রপ্তানিবিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহসভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফিরোজ আহমেদ প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে মিথ্যা তথ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচামাল আমদানি করছে। এসব কাঁচামালের সামান্য ব্যবহার করে বাকিটা খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। এনবিআর বন্ড দুর্নীতি বন্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযানে বন্ড দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে কঠিন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। লাইসেন্স বাতিল করে দিচ্ছি। এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানো হবে।

চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে কাগজ আনা বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর দাবি করে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চোরাই পথে আনা কাগজ দেশের বাজারে দেশি শিল্পে উৎপাদিত কাগজের চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এভাবে অসম প্রতিযোগিতায় দেশীয় কাগজশিল্প রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হচ্ছে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং চোরাচালানের কারণে দেশি কাগজশিল্পের উদ্যোক্তাদের বিশাল বিনিয়োগ এখন হুমকির মুখে।

বিপিএমএর প্রস্তাবে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটে কাগজশিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কাঁচামালের রাসায়নিকের আমদানি পর্যায়ে শুল্কহার হ্রাসের দাবি করা হয়। আমদানীকৃত ফিনিশড পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপেরও দাবি করা হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের টিস্যুর ওপর আমদানি পর্যায়ে আমদানি শুল্ক-২৫ শতাংশ, আরডি-৩ শতাংশ, এসডি-৩০ শতাংশ, মূসক ১৫ শতাংশ ও এআইটি-৫ শতাংশ আরোপ আছে। দেশীয় মিলগুলোর উৎপাদিত টিস্যু আমদানীকৃত টিস্যুর মূল্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানে আগামী অর্থবছরে আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশের পরিবর্তে ৬০ শতাংশ আরোপ করা হলে আমদানি নিরুৎসাহিত হবে। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং বিপুল সম্ভাবনাময় দেশীয় কাগজশিল্পের সংকট দূর হবে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘বাজেটের বড় অংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়। ফলে প্রতিবছর সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ি পর্যায়ের বিভিন্ন বই বিনা মূল্যে সরবরাহ করে আসছে। দেশি কাগজশিল্পে উৎপাদিত কাগজ থেকে তৈরি হচ্ছে এক্সারসাইজ বুক, স্পাইরাল নোট বুক ও খাতা। দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা বিনা মূল্যে বই পেলেও শিক্ষার অন্যতম উপকরণ এক্সারসাইজ বুকে মূসক আরোপ থাকায় বাড়তি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

মন্তব্য