kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

ব্যাংক খাতে নতুন ধারার সূচনা সিআরএমে

সিআরএম টাকা দেয়-নেয়, জাল-ছেঁড়া ধরতে পারে

দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে লেনদেন

জিয়াদুল ইসলাম   

১১ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিআরএম টাকা দেয়-নেয়, জাল-ছেঁড়া ধরতে পারে

ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তোলার ভোগান্তি কমাতে ২৬ বছর আগে দেশে চালু হয়েছিল অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম বুথ)। প্রায় আট বছর আগে চালু করা হয় টাকা জমা নেওয়ার মেশিন, যা ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন (সিডিএম) নামে পরিচিত। তবে এ মেশিনের মাধ্যমে গ্রাহকের হিসাবে তাত্ক্ষণিক টাকা জমা হয় না। এখন টাকা জমা ও উত্তোলনের উভয় সুবিধাসম্পন্ন মেশিনও চালু হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির এ মেশিনের নাম সিআরএম বা ক্যাশ রিসাইকেলার মেশিন; অর্থাৎ ব্যাংককে না গিয়ে এখন রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই এখানে টাকা জমা ও উত্তোলন দু-ই করতে পারছেন গ্রাহকরা। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকসহ (ইউসিবি) পাঁচটি ব্যাংক এরই মধ্যে এ ধরনের মেশিন বসিয়েছে, যা ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকের তাত্ক্ষণিক লেনদেনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিআরএম বুথ ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের ভূমিকা পালন করছে। নির্দিষ্ট মূল্যমানের নোট গুনে নেওয়ার পাশাপাশি সেগুলো ছেঁড়া, ময়লা, আসল না জাল সেটিও যাচাই করছে। নির্দিষ্ট মূল্যমানের নিচের নোট জমা দিলে সেটিও ফেরত দিচ্ছে। এ প্রযুক্তির মেশিনে সব ধরনের ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও অর্থ স্থানান্তরের সুবিধাও চালু হয়েছে।

জানা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় দেড় শতাধিক সিআরএম প্রযুক্তির এটিএম বুথ বসিয়েছে ইউসিবিসহ পাঁচটি ব্যাংক। অন্য ব্যাংকগুলো হলো—সাউথইস্ট, সিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও ইস্টার্ন ব্যাংক। এসব বুথে গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া মিলছে এবং লেনদেনের পরিমাণ প্রতিদিনই বাড়ছে। এখন অন্যান্য ব্যাংকও এই প্রযুক্তির এটিএম বুথ স্থাপনে ঝুঁকছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ঢাকা ব্যাংক সিআরএম বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সিআরএম প্রযুক্তির এটিএম বুথ। তাই পর্যায়ক্রমে এটি বিভাগ, জেলা পর্যায়ের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন; যাতে মানুষ ব্যাংকিং সেবার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। এটা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতেও ভূমিকা রাখছে বলে জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. বেল্লাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় মানুষের জীবনযাত্রা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে। সিআরএম বুথে মানুষ এখন টাকা জমা ও উত্তোলন দুই-ই করতে পারছে। এতে সময় বেঁচে যাচ্ছে। ব্যাংকের কাজও কমছে। তাঁদের জনবল নিয়োগের খরচও কমছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমি নিবন্ধন অফিসের কাছে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম সিআরএম বুথ স্থাপন করে ইউসিবি। এখন পর্যন্ত ব্যাংকটি ১২২টি সিআরএম বুথ বসিয়েছে, যা অন্য যেকোনো ব্যাংকের তুলনায় বেশি। দেশের সব বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের শাখার পাশে এ মেশিন বুথ বসানো হয়েছে।

২০১৭ সালের জুনে সিআরএম বুথ চালু করে সিটি ব্যাংক। তবে ব্যাংকটি এখন পর্যন্ত পাঁচটি সিআরএম চালু করতে সক্ষম হয়েছে। এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৬টি সিআরএম মেশিন বসিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক। এ ছাড়া মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক দুটি ও ইস্টার্ন ব্যাংক একটি সিআরএম বুথ বসিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টাকা জমা রাখার পর ওই যন্ত্রেই তা গণনা করা হবে। আবার টাকা ছেঁড়া, ময়লা বা জাল কি না সেটিও যাচাই করবে যন্ত্রটি। মুহূর্তে এ কাজটি সম্পন্ন হবে এবং জমা টাকা সঠিক থাকলে জমাকারী গ্রাহককে একটি নিশ্চিতকরণ রসিদ দেওয়া হবে। যেখানে জমা নেওয়া টাকার সিরিয়াল নম্বর, পরিমাণ, যে অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে তার নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। আর জমাকারী গ্রাহককে রসিদ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়ে যাবে।

এ ধরনের বুথে শুধু টাকা ওঠানো নয়, জমাও করা যাচ্ছে। ফলে ব্যাংকে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়ার যে বিড়ম্বনা সেটা থেকে রক্ষা পাবেন গ্রাহক। তাঁদের সময় বাঁচবে। অন্যদিকে এ ধরনের মেশিন ক্যাশিয়ারের কাজও করবে। এতে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট জনবল নিয়োগে ব্যয় কমবে। এটাতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এদিকে এখন পর্যন্ত দেশের ১৩টি ব্যাংক প্রায় ৬০০ সিডিএম বুথ বসিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের এটিএম মেশিনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৪৫৭টি। এর মধ্যে চার হাজার ৭৪৬টিই ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের। এবি ব্যাংকের ৬৩১টি, ব্র্যাক ব্যাংকের ৪৪১টি ও ইউসিবির ৪০৩টি।

মন্তব্য