kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

অস্থির পুঁজিবাজারে বাড়ছে সংকট

সাত দিনে মূলধন কমল ২০ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাত দিনে মূলধন কমল ২০ হাজার কোটি টাকা

দরপতনের প্রতিবাদে গতকালও বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ছবি : কালের কণ্ঠ

অব্যাহত পতন নিয়ে করণীয় ঠিক করতে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বৈঠকের পরও থামেনি পতন। বরং পতনের মাত্রা আরো বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেনও গত এক বছর পেছনে ফিরে গেছে। এক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হওয়া পুঁজিবাজারে গতকাল লেনদেন হয়েছে পৌনে ৩০০ কোটি টাকা।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, পুঁজিবাজারের বড় বড় খেলোয়াড়রা লেনদেনে নিষ্ক্রিয় থেকে পুঁজিবাজারে পরিকল্পিত পতন ঘটাচ্ছে! ধারাবাহিক পতন ঘটলেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় শেয়ার বিক্রি করলেও নিষ্ক্রিয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

গত মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ ব্রোকাররা পতন নিয়ে জরুরি বৈঠকের পর এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানায় ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)। এতে তারল্য সংকট, মন্দ আইপিও, লভ্যাংশ ও বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতায় প্যানিক সেল বাড়ার বিষয় উঠে আসে। ওই দিনই বিকেলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কশিমন (বিএসইসি) স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে।

গতি ফেরাতে দফায় দফায় সভার পরও কোনো উন্নতি হয়নি, বরং পতন আরো ত্বরান্বিত হয়েছে পুঁজিবাজারে। এই অস্থিরতায় পুঁজিবাজারের সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। ট্রেড কমায় ক্ষতির মুখে ব্রোকাররা, আর অব্যাহতভাবে দাম কমে যাওয়ায় লোকসানে বিনিয়োগকারীরা।

টানা দরপতনের প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে বিনিয়োগকারীরা। গতকাল বুধবার ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের পদত্যাগ দাবি করে তারা।

এদিকে ডিএসইর হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সাত দিনে পুঁজিবাজারের মূলধন ব্যাপক হারে কমে গেছে। গত ১ এপ্রিল ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ১৩ হাজার ২৬০ কোটি সাত লাখ টাকা। গতকাল বুধবার এই মূলধন কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯২ হাজার ৮৯৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সেই হিসাবে এই সময়ে মূলধন কমেছে ২০ হাজার ৩৮০ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

গতকাল বুধবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে ৫৭ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৬৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ৫৩ পয়েন্ট।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর থেকেই শেয়ার বিক্রির চাপে সূচক কমতে থাকে। এতে দিন শেষে সূচকে বড় পতনের মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিন শেষে সূচক দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ২৬১ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ২২ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৮৭৭ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৪৮টি কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৪টির, কমেছে ২৩১টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টি কম্পানির শেয়ারের দাম।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের পতনের সঙ্গে লেনদেনও কমেছে। গতকাল বুধবার লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে ৯৯ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয় ১৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ৯৯ পয়েন্ট। বুধবার লেনদেন হওয়া ২৩০টি কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৫৫টির, কমেছে ১৪১টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টি কম্পানির শেয়ারের দাম।

বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ : পুঁজিবাজারে অব্যাহত পতন না থামায় তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনটির সভাপতি মিজান-উর-রশিদ বলেন, পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট দায়িত্বে অবহেলা করে প্রধানমন্ত্রীসহ সব শেয়ারহোল্ডারের সঙ্গে প্রতারণা করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০১০ সালের মতো আরেকটা বড় ধসের সম্মুখীন হবে শেয়ারবাজার।

 

মন্তব্য