kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

আস্থাহীনতায় অস্থির পুঁজিবাজার

হাত গুটিয়ে বড় বিনিয়োগকারীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাত গুটিয়ে বড় বিনিয়োগকারীরা

দরপতনের প্রতিবাদে গতকাল মতিঝিলে বিক্ষোভ করেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

পুঁজিবাজারে দৈনিক হাজার কোটি টাকার লেনদেন এখন নেমেছে ৩০০-৪০০ কোটি টাকায়। শেয়ার বিক্রির অব্যাহত চাপে পেছনে হাঁটছে মূল্যসূচকও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনাস্থা থেকে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রি বেড়েছে। এমন নিম্নমুখী অবস্থায় হাত গুটিয়ে বাজার পর্যবেক্ষণ করছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

সূত্র জানায়, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি কিন্তু সে তুলনায় প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় বিনিয়োগকারীর কোনো সাপোর্ট নেই। পুঁজিবাজারে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বড় বিনিয়োগ থাকলেও এখন তারা অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেউ কেউ শেয়ার বিক্রি করছেন আবার কেউ অনড় অবস্থায় বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, পুঁজিবাজারে কারসাজি গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে তারা বাজারকে পেছনে নিচ্ছে। বিক্রির চাপ থাকলে শেয়ারের দাম কমে যায়, বড়রা কম দামে শেয়ার কিনতেই এমনটি করছে বলে অভিযোগ তাদের। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একটি ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর অনাস্থায় বহু কারণ আছে, দুর্বল কম্পানি বাজারে আসা ও প্রাইভেট প্লেসমেন্ট অন্যতম। কম্পানি ভালো মুনাফা ও ইপিএস দেখায়, কিন্তু মূলধন উত্তোলনের পর সেটা কমছে। কম্পানির প্রাইভেট প্লেসমেন্ট নিয়ে চলছে বাণিজ্য, পুঁজিবাজারে আসার পর শেয়ারের দাম বাড়লে তারা বিক্রি করে মূলধন নিয়ে চলে যাচ্ছে।’

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডিএসইতে এক হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়। মাসের শেষে মুদ্রানীতি ইস্যুতে আবার কমতে থাকে। ব্যাংক খাতে অস্থিরতা ও তারল্য সংকট, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহে টান প্রভৃতি ইস্যুতে ধাক্কা খায় পুঁজিবাজার।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রও বলছে, আগামী বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা পেতে একটি পক্ষ নিষ্ক্রিয় রয়েছে। শেয়ার কেনায় নিষ্ক্রিয় থেকে তারা পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা পেতে চায়। বাজারে টালমাটাল অবস্থা দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করতে চায় বলেও নিশ্চিত করেছে ওই সূত্র।

এক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিগত সময়ে যেসব আইপিও বাজারে এসেছে কোনোটিই ভালো করেনি। দুর্বল কম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনা হয়েছে, যা তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকেই খারাপ হতে শুরু করে। আসার আগে ভালো মুনাফা কিংবা ইপিএস দেখালেও তালিকাভুক্ত হওয়ার পর মুনাফা ও ইপিএস কমে যায়। বিনিয়োগকারী ভালো মুনাফা না পাওয়ায় আস্থা হারাচ্ছেন।

বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ : এদিকে গতকাল সোমবারও বড় ধরনের পতন হয়েছে পুঁজিবাজারে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব সূচকেই পতন হয়েছে। অব্যাহত এই দরপতনের প্রতিবাদে গতকাল মতিঝিলে বিক্ষোভও করেছেন বিনিয়োগকারীরা। ডিএসই কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের পর সেখান থেকে স্লোগান সহকারে শাপলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে। আজ মঙ্গলবারও তাঁরা মানববন্ধন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

এমন বড় দরপতনের কারণে দুপুরের দিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি দল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। দরপতনের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ডিএসইর কর্মকর্তাদের দায়ী করেন তাঁরা। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এই মানববন্ধনে বিনিয়োগকারীরা বাজার স্থিতিশীলতায় ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হচ্ছে—আইপিও ও প্লেসমেন্ট শেয়ারের বাণিজ্য বন্ধ, ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের শাস্তি, ইস্যু মূল্যের নিচে নামা শেয়ার ওই কম্পানিকে বাইব্যাক করানো, বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, মূলধন সংগ্রহ করা কম্পানিকে বাধ্যতামূলকভাবে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং জেড ক্যাটাগরি ও ওটিসি মার্কেট বন্ধ করা।

মানববন্ধনে সংগঠনটির সভাপতি মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী বলেন, পতনের মতো কোনো ঘটনা না ঘটলেও পাতানো খেলার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বাজারে প্রভাব ফেলা হচ্ছে। ২০১০ সালের পুঁজিবাজারে ধসের রাঘব বোয়ালরাই জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে পারলেই সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বর্তমান মন্দাবস্থায়ও আইসিবিসহ বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও নিষ্ক্রিয় হয়েছে। এ অবস্থায় কেন আইসিবি নিষ্ক্রিয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে।

গতকালের বাজার : মূল্যসূচকে বড় পতনের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব খাতে বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের দাম হ্রাস পেয়েছে। আগের দিনের চেয়ে গতকাল সোমবার লেনদেন কিছুটা বাড়লেও মূল্যসূচক কমেছে ৬১ পয়েন্ট।

গতকাল দিন শেষে সূচক দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৩৭২ পয়েন্ট। ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৯২৪ পয়েন্ট ও ডিএস শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২৪০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অপর শেয়ারবাজার সিএসইর লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে ১১২ পয়েন্ট।

মন্তব্য