kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস ও আগ্রাবাদ

২৪ ঘণ্টা ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ কার্যকর হয়নি এক বছরেও

সর্বশেষ বৈঠকেও ব্যবহারকারীরা ব্যাংক খোলা না রাখার সমালোচনা করেন

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম    

৭ এপ্রিল, ২০১৯ ১০:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২৪ ঘণ্টা ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ কার্যকর হয়নি এক বছরেও

আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের পাশের আগ্রাবাদ এলাকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অন্তত একটি শাখা সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বছরের মার্চে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরামর্শ অনুযায়ী ওই নির্দেশনার পর ব্যবহারকারী সব পক্ষকে নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অনেকবার বৈঠক করে। কিন্তু এক বছরেও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।

জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টা ব্যাংক খোলা রাখা হলে গ্রাহক সাড়া কেমন হবে, বাড়তি লোকবল নিয়োগ করলে বিনিয়োগ উঠে আসবে কি না কিংবা রাতে নিরাপত্তা কেমন হবে—এমন নানা হিসাব-নিকাশ করছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ব্যবসা সহজীকরণ (ইজি অব ডুয়িং বিজনেস) সংক্রান্ত  নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ওই নির্দেশনা কার্যকর হওয়া নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি বন্দর ভবনে ব্যবসা সহজীকরণ সংক্রান্ত সভায় ব্যাংক খোলা না রাখার সমালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নির্দেশনার পর ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা, বন্দর ও কাস্টমস ব্যবহারকারীদের নিয়ে প্রথম বৈঠক করেছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস। এর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে। সর্বশেষ বৈঠকেও ব্যবহারকারীরা ব্যাংক খোলা না রাখার সমালোচনা করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানা।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই সব এলাকায় ব্যাংকের যেসব শাখা খোলা থাকে না সেগুলোর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেবে গ্রাহকরা। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের ফলোআপ হিসেবেই আমরা চট্টগ্রামে দুটি বৈঠক করেছি। আবারও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হবে। তখন অগ্রগতি জানা যাবে।’ তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের সঙ্গে যদি স্টেকহোল্ডার ও ব্যাংকগুলো একই সঙ্গে সচল না থাকে তাহলে আমদানি-রপ্তানির সময় ও খরচ কমিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে তা অর্জন করা কঠিন হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২৪ ঘণ্টা ব্যাংক সচল না থাকার কারণে ব্যবসা সহজীকরণ করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। কী ক্ষতি হচ্ছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজি মাহমুদ ইমাম বিলু  বলেন, ‘ধরেন আমি সন্ধ্যা ৬টায় ডেলিভারি অর্ডার নিলাম, কিন্তু ব্যাংক চালু না থাকায় ট্যাক্স জমা দিতে পারলাম না। এর ফলে বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি এক দিন পিছিয়ে গেল। এই এক দিনে বন্দরের বাড়তি মাসুল, শিপিং এজেন্টের মাসুল যোগ হলো। আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও কাস্টমস রাজস্ব পেল এক দিন দেরিতে, সঠিক সময়ে কনটেইনার না নেওয়ায় বন্দরে জট বাড়ল। আর এই বাড়তি মাসুল যোগ হলো পণ্যের দামে।’

কেন এই এলাকায় ব্যাংকগুলোর একটি করে শাখা সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা মানা হচ্ছে না জানতে চাইলে এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নুরুন নেওয়াজ সেলিম  বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আগ্রাবাদে শনিবার আমাদের একটি শাখা খোলা থাকে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা থাকলে অবশ্যই খোলা রাখতে হবে। আমি বোর্ডে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করব।’

মেঘনা ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল আরেফিন বলেন, ‘এই নির্দেশনা কার্যকর করতে গেলে ওই এলাকায় সেই পরিমাণ গ্রাহক আছে কি না যাচাই করা, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করা, ব্যাংকিং আওয়ারের পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকারদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।’ বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের নির্বাহী পরিচালক আবু সেরাহ মোহাম্মদ নাসের বলেন, ‘আমি গত সপ্তাহেই যোগদান করলাম চট্টগ্রামে। আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি প্রথম শুনলাম। আমি বিষয়টি জেনে হালনাগাদ তথ্য আপনাকে জানাব এবং অবশ্যই পদক্ষেপ নেব।’

মন্তব্য