kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দেবে এফবিসিসিআই

মাসুদ রুমী    

২৪ মার্চ, ২০১৯ ১২:৪৬ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দেবে এফবিসিসিআই

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এবার সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন চেম্বার গ্রুপ থেকে। ২০১৯-২১ মেয়াদের নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের প্রধান পদে শেখ ফজলে ফাহিমকে সমর্থন দিয়েছেন কাউন্সিল অব চেম্বারস প্রতিনিধিরা। তিনি এখন এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। আগামী ২৭ এপ্রিল এফবিসিসিআই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে শেখ ফজলে ফাহিমের নেতৃত্বে নির্বাচনী প্যানেল ‘সম্মিলত ব্যবসায়ী পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। আজ রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ব্যবসায়ীদের একটি সম্মেলনে এ প্যানেল ঘোষণা করা হবে। ফজলে ফাহিমের অগ্রাধিকারে মধ্যে রয়েছে এফবিসিসিআই ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা। নির্বাচিত হলে গবেষণায় এ সংগঠনটির উৎকর্ষ বাড়ানোর জন্য তাঁর পরিকল্পনা নিয়ে গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, “এফবিসিসিআইকে আরো জনমুখী ব্যবসায়ীবান্ধব করতে ফেডারেশনের সদস্যরা একটি গতিশীল নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন্ন নির্বাচনে আমরা ভারসাম্যপূর্ণ ও সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ’ গঠন করেছি। আমাদের বিশ্বাস, সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ব্যবসায়ীদের আস্থা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে সক্ষম হবে।”

নির্বাচিত হলে অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দেবেন উল্লেখ করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের ভিশন-২০৪১-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা এরই মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। নির্বাচিত হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সার্বিকভাবে ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেবে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ।’

পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে এফবিসিসিআই ইকোনমিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট, যেখানে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে পলিসি প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইনের গ্লোবাল অথরিটি জ্যাকভ অ্যান্ড কার্ডোভা। এ ছাড়া এফবিসিসিআই টেকনিক্যাল ভোকেশনাল এডুকেশন ট্রেনিংয়ের (টিভিইটি) জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে। ক্রমান্বয়ে অঞ্চলভিত্তিক চেম্বার ও খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশনগুলোতে এফবিসিসিআই টিভিইটি ক্যাম্পাস এবং এফবিসিসিআই এডিআর (অলটারনেট ডিসপুট রেজল্যুশন) সেন্টার স্থাপন করা হবে। এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান বোর্ড এফবিসিসিআই ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এফআইইউ) প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথা জানালেন তিনি। ‘আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিহেভিওরাল ইকোনমিকস, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত (এসটিইএম) ভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পাঠ্যক্রম তৈরি করা। আমাদের টার্গেট হচ্ছে গ্লোবাল ভ্যালু চেন, ব্লু ইকোনমি এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অংশ হতে এমএসএমইকে বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং করা।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পূর্বাচলে এফবিসিসিআইকে জমি বরাদ্দ দিয়েছেন, সেখানে এফবিসিসিআই আইকন ভবনের কাজ চলছে। আমাদের বোর্ড, জেনারেল বডি মেম্বার এবং ওয়ার্কিং গ্রুপগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের উদ্যোগে পরিচালিত ভিশন-২০৪১-এর পাঁচটি প্রকল্প আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ইন্টিগ্রিটি এবং একাধিক মেয়াদের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে চাই।’

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে কী কী পদক্ষেপ নেবেন জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারকগুলো (এমওইউ) রিভিজিট করব এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টার্গেট ও ফোকাসড টাইমবাউন্ড উদ্যোগগুলোর দিকে গুরুত্ব দেব।’

আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত ১০ বছরের ধারাবাহিকতায় জনমুখী ব্যবসায়ীবান্ধব বাজেট প্রত্যাশা করছি। আমরা আসন্ন বাজেটে নিম্ন আয়কর, নিম্ন করপোরেট কর এবং সংশোধিত প্রস্তাবিত ভ্যাট আইনে বিভিন্ন স্তরের ভ্যাট ও আয়কর রেট নির্ধারণের প্রত্যাশা করি। একই সঙ্গে সংশোধিত ভ্যাট আইনে ১৯৯১-এর ভ্যাট আইনের বাস্তবসম্মত ধারাগুলো অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করি। তা ছাড়া ভ্যাটের পরিধি ও ট্যাক্স জিডিপি রেশিও বাংলাদেশে যে আকারের হওয়ার কথা, তা থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।’

ভ্যাট-ট্যাক্স আহরণের ক্ষেত্রে আইনি ও পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা ও সহজীকরণের অভাব, মাঠপর্যায়ে রাজস্ব কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়েও কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশির ভাগ মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ। এই খাতগুলো কর্মসংস্থান এবং ভোগ ব্যয়ে বড় ভূমিকা রাখে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে সহযোগিতা করা এফবিসিসিআইয়ের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব খাতের পণ্য গ্লোবাল ভ্যালু চেনের অন্তর্ভুক্ত হতে হলে গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড কমপ্লায়েন্স, বিজনেস প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়ার্ক প্লেস সেফটি, অটোমেশন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ডাইভার্সিফাইড ফান্ডিং সোর্স এবং নারী ও নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু সহজীকরণে এফবিসিসিআইয়ের বড় ধরনের দায়িত্ব রয়েছে। এফবিসিসিআইয়ের ৮৩টি চেম্বার এবং ৩৯৬টি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের এসব মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ থেকে বৃহত্তর সেক্টরগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে।

চীনে বৈপ্লবিক বিনিয়োগের একটি মুখ্য উপদান ছিল দক্ষ জনশক্তি। দক্ষতা উন্নয়ন এফবিসিসিআই এবং অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর জন্য এখন প্রধান কাজ। শীর্ষ সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এফবিসিসিআইয়ের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে ফজলে ফাহিম বলেন, পলিসি প্ল্যানিং, পলিসি ডিজাইন, সেক্টর স্ক্যান এবং রোডম্যাপ প্ল্যানিং একটি চ্যালেঞ্জ। এরই মধ্যে আমরা একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় নলেজ ট্রান্সফারের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো অ্যাড্রেস করছি। ব্যবসা ও বিনিয়োগে প্রমোশনে ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে প্রাইভেট সেক্টর অ্যাওয়ারনেস ডেভেলপমেন্টকেও আমরা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক শীর্ষ সংগঠনগুলোর সমঝোতা স্মারকগুলো রিভিজিট করে ফোকাসড, টার্গেটেড এবং টাইমবাউন্ড করতে হবে।’

সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ও সরকারের উদ্যোগের মধ্যে একধরনের ব্যবধান থেকে যায়। এটি দূর করতে ফেডারেশন কী ধরনের ভূমিকা পালন করবে জানতে চাইলে শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, গত ১০ বছরে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) একটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এফবিসিসিআই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পিপিপি এনগেজমেন্টকে টার্গেটেড এবং ফোকাসড করার লক্ষ্যে যে কাজ করে আসছিল সেই ধারবাহিকতাকে বজায় রাখবে। রাজনীতি এবং অর্থনীতি একে অন্যের পরিপূরক। সার্বিক জনস্বার্থে রাজনৈতিক নেতৃত্বের এবং অর্থনৈতিক নেতৃত্বের প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দেয় এফবিসিসিআই।

তরুণ এবং নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এফবিসিসিআই টিপস’ নতুন উদ্যোক্তা, এই প্রগ্রামের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে ব্যবসাসংক্রান্ত অ্যাওয়ারনেস তুলে ধরবে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া তাদের অর্থায়ন সহজলভ্য করতে কাজ করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা