kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাড়াচ্ছে কর্মসংস্থান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ১৩:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাড়াচ্ছে কর্মসংস্থান

ছবি অনলাইন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা পারভীন আক্তার, রাজশাহী নকশি ঘর নামক এক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা। শুরুতে আশপাশের কয়েকজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। ২০০০ সালে শুরু করলেও এখন তাঁর ব্যবসার কলেবর বেড়েছে। দৈনিক ভিত্তিতে দুই শতাধিক কর্মী তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। ক্রেতার আগ্রহের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মান নিয়ন্ত্রণ করে তৈরি করছেন নকশিকাঁথা, কুশন কভর, রানার ম্যাট, চাদর ও শাড়ি।

‘টিম টেক্স বাংলাদেশ’ পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হোম ডেকোরেশন অ্যান্ড ফ্যাশন ডিজাইন সামগ্রী তৈরি করছে। একজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৩৫ জন নারী-পুরুষ কাজ করছে। ক্রমেই বড় হচ্ছে ব্যবসা, বাড়ছে কর্মসংস্থানও।

এমন উদাহরণ শুধু দু-একটি নয়, নিজের বেকারত্ব ঘোচাতে স্বল্প পরিসরে নারীর ছোট ব্যবসা এখন বড় হয়ে উঠছে। নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অনেক নারী-পুরুষেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন, যা গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির সামগ্রিক কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও, এসএমই ফাউন্ডেশন বলছে, এসএমই উদ্যোক্তারা কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। যার মধ্যে নারীর কর্মসংস্থান বেশি।

সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজারজাতে সহায়তা, প্রচার, প্রসার, বিক্রয় ও ক্রেতা-বিক্রেতার সংযোগ স্থাপনে সাত দিনব্যাপী এসএমই ফাউন্ডেশন পণ্যমেলার আয়োজন করেছে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গত শনিবার শুরু হওয়া এ মেলায় সারা দেশ থেকে ২৮০ জন এসএমই উদ্যোক্তা নিজ নিজ উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করছে। এই উদ্যোক্তাদের মধ্যে ১৮৮ জন নারী আর ৯২ জন পুরুষ। মেলা আয়োজকরা জানান, দেশে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, আইটি পণ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য সিনথেটিক, হস্তশিল্প, ডিজাইন, ফ্যাশনওয়্যারসহ অন্যান্য মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। এখানে শুধু দেশীয় পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। ২২ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় প্রবেশে কোনো মূল্য নেই।

এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, এবারের সপ্তম এসএমই জাতীয় পণ্যমেলায় উদ্যোক্তাদের ৬৭ শতাংশই নারী।

তাঁরা বলছেন, পণ্যের চাহিদা থাকার পরও যথাযথ বাজার না থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি পণ্যের প্রসার ঘটছে কম। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম যথেষ্ট নয়, ছোট ব্যবসা হওয়ায় ঋণ পেতেও ঝক্কি-ঝামেলায় পড়তে হয়।

চুয়াডাঙ্গা থেকে এসএমই জাতীয় পণ্যমেলায় অংশ নিয়েছে ‘মা হস্তশিল্প’র স্বত্বাধিকারী নাজমা আহমেদ মিলু। তিনি বলেন, ২০১০ সালে পাঁচজন কর্মী নিয়ে পোশাক-পরিচ্ছদ তৈরির কাজ শুরু করি। কিন্তু ব্যবসার কলেবর বাড়ায় এখন দেড় শতাধিক কর্মী কাজ করছে। নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।’

রাজশাহী নকশি ঘরের পারভীন আক্তার বলেন, ‘পণ্য উৎপাদন করা যায়; কিন্তু বাজারজাতকরণটা বড় সমস্যা। বাজার সৃষ্টি না হওয়ায় পণ্যের দামও অনেক সময় যথাযথ হয় না। দেশীয় পণ্যকে উৎসাহিত করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।’

নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খান। তিনি বলেন, ‘নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে; কিন্তু আমরা সেভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিদেশে কোনো পণ্য উৎপাদনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা