kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

রমজানের ভোগ্য পণ্য দুই মাস আগেই গুদামে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম    

১২ মার্চ, ২০১৯ ১১:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রমজানের ভোগ্য পণ্য দুই মাস আগেই গুদামে

আসছে মে মাসে শুরু হচ্ছে রমজান। তখন বাজারে ছোলা, মোটর ডাল, ভুট্টা, চিনি ও ভোজ্য তেলের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে দামও চাহিদা অনুযায়ী বাড়তে শুরু করে। তবে এবার দুই মাস আগেই, অর্থাৎ চলতি মার্চ মাসেই রমজানের ভোগ্য পণ্য চট্টগ্রামে পৌঁছতে শুরু করেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানি হয়ে গুদামে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। আসার পথে রয়েছে প্রচুর ভোগ্য পণ্য। চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে বহির্নোঙরে এই মুহূর্তে সাতটি জাহাজে পাঁচ লাখ টন রমজানের ভোগ্য পণ্য রয়েছে। যেখানে, ছোলা, মোটর ডাল, ভুট্টা, চিনি ও ভোজ্য তেল রয়েছে। এর বাইরে আরো সাতটি জাহাজে গম আছে প্রায় পাঁচ লাখ টন।

চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজজট বিবেচনায় নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে রমজানের বেশ আগেভাগেই ভোগ্য পণ্য আমদানি করে মজুদ করতেন ব্যবসায়ীরা। একসঙ্গে সব পণ্য না এনে ধাপে ধাপে মজুদের কৌশল নিয়েছেন তাঁরা। এর অংশ হিসেবে রমজানের অন্তত আড়াই মাস আগে থেকেই এসব পণ্য আনতে শুরু করেছেন আমদানিকারকরা। যদিও প্রতিবছর অন্তত দেড় মাস আগেই সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে নিজেদের গুদামে মজুদ করে নিশ্চিন্ত হতেন তাঁরা।

আগেভাগে ভোগ্য পণ্য আমদানির কারণ জানতে চাইলে বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বন্দরে জাহাজজট ঝুঁকি এড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য উৎপাদন এবং দাম বিবেচনায় নিয়ে আমরা বছরজুড়েই এসব পণ্য আমদানি করি। তবে রমজানকে কেন্দ্র করে নিয়মিত আমদানির মাত্র ২০ শতাংশ বাড়তি আমদানি করি। সেগুলো আসতেও শুরু করেছে।’

দেশে ভোগ্য পণ্যের বড় ও অভিজ্ঞ এই আমদানিকারক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট, লাইটার জাহাজ সংকট কাটিয়ে কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন ঘাটগুলো অরাজকতা বন্ধ করা, ইউএস ডলারের লাগাম টানা এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার ঠিক রাখা—এই চার বিষয় নজরদারি করা গেলে রমজানে বাজার অস্থিরতার কোনো সুযোগ নেই।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বাইরে বহির্নোঙরে এই মুহূর্তে ৩৮ হাজার ৫৪১ টন ছোলা নিয়ে আছে আকরা জাহাজ। এক লাখ ১৮ হাজার টন অপরিশোধিত চিনি নিয়ে আছে দুটি জাহাজ, প্রায় ৫৮ হাজার টন অপরিশোধিত সয়াবিন নিয়ে আছে একটি জাহাজ। এক লাখ ৬৯ হাজার টন ভুট্টা নিয়ে আছে তিনটি জাহাজ। এর বাইরে আরো সাতটি জাহাজে গম আছে প্রায় পাঁচ লাখ টন।

প্রতিবছর রমজান এলেই জাহাজজট নিয়ে সংকটে পড়তে হয় আমদানিকারকদের; যদিও গত বছর সেই জাহাজজট ছিল না। রমজানের পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অলস বসে থাকতে হয়নি ব্যবসায়ীদের। এর পরও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে রমজানের পণ্য আনতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এবার রমজানে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তুতি সম্পর্কে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মনে করছি না এবারও রমজানে জাহাজজট হবে। কারণ রমজান শুরুর আগেই আমরা বন্দরের সাধারণ কার্গো জেটিতে একটি বাড়তি জেটি বরাদ্দ রেখেছি। একটি বাড়তি জেটি মানে প্রতি মাসে এক লাখ টন বাড়তি পণ্য ওঠানামার সুযোগ।’ আর কনটেইনার জেটিতে এখন কোনো জট নেই; রমজানেও হবে বলে মনে হয় না।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবার রমজানে বাজার অস্থির হওয়ার সুযোগ আপাতত দেখছি না। গত বছরেরও কিছু ছোলা অবিক্রীত আছে। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে সড়কপথে ছোলা আসছে, অস্ট্রেলিয়া থেকেও বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীরা ছোলা এনে গুদামজাত করেছেন। তবে রমজানের বাজার কেমন হবে তা বুঝতে হলে আরো ২০ থেকে ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা