kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

এসডিজির অর্ধেক সূচকে বাংলাদেশের ইতিবাচক অগ্রগতি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৪:২৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এসডিজির অর্ধেক সূচকে বাংলাদেশের ইতিবাচক অগ্রগতি

ছবি অনলাইন

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অভীষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে যেমন অগ্রগতি আছে; তেমনি অনেক সূচকে পিছিয়েও আছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) এসডিজি বাংলাদেশ অগ্রগতি ২০১৮ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তাতে বলা হয়েছে, দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা, মাতৃমৃত্য ও শিশু মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা, সংসদে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, কাজে নারীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশ বেশ এগিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। এ ছাড়া বেকারত্ব, তরুণদের কাজে লাগানোতে পিছিয়ে, জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আদায়ের হার কম। একই সঙ্গে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান পিছিয়ে। এসডিজি অর্জনে অর্ধেক সূচকের অগ্রগতি ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেছে জিইডি। অবশ্য এসডিজি বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনায় তথ্যের ঘাটতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা পরিসংখ্যান ব্যুরোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। দুই বছরের এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এসডিজি অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০১৮ প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থার (ইউএনডিপি) কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মিয়া সিপ্পো, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন জিইডির সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসডিজি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বেশ কিছু সূচকে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তুলনায় ভালো করেছে। তবে এসডিজি বাস্তবায়নে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তথ্যের ঘাটতি। কিছু ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে একেবারেই তথ্য নেই। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও অন্যান্য তথ্য প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সংস্কার আনা হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বিদ্যুত খাতের উন্নতিও অভাবনীয়। এসডিজি অর্জনে বিদেশি সহায়তা ও বিনিয়োগের অর্থ কার্যকর ব্যবহারের চেষ্টা করা হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী। সেরকারি খাত, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও সুধীসমাজসহ সবাইকে নিয়ে এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

ড. মসিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি সহায়তা ব্যবহারের হার প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। পাইপলাইনে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। এসডিজি অর্জনে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় কর হার বাড়াতে হবে। শিল্প খাতে বেশ কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দ্রুত সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আরো পদক্ষেপ প্রয়োজন।

মিয়া সিপ্পো বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্য এলেও কর্মসংস্থান বাড়ানো বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ। জনশক্তির দক্ষতারও অভাব রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সরকারি বরাদ্দ প্রত্যাশার চেয়ে কম। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট কাজে লাগাতে হলে এসব ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, আয় বৈষম্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম। এ ক্ষেত্রে নীতি সহায়তার অভাব রয়েছে।

বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি রোধ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করেন মিয়া সিপ্পো। তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। শক্তিশালী করতে হবে এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও। তা ছাড়া ট্রেড ইউনিয়ন, গুম, সাংবাদিকদের স্বাধীনতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতেও গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, পরিবেশের ক্ষতি না করে শিল্পায়ন, কৃষিজমির পরিমাণ ধরে রাখার উপায় বের করতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনমিতি সুবিধা কাজে লাগাতে কর্মহীনতা কমাতে হবে। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে স্বল্প খরচে উদ্ভাবনী বিষয়গুলো জাগ্রত করতে হবে। নজিবুর রহমান বলেন, এসডিজি বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এটি অর্জনে সব ধরনের নীতি সহায়তা দিচ্ছেন। এ জন্য ব্যাপক কার্যক্রম ও পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু খাতে উন্নতি হলেও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হয়নি। সব খাতে অর্জন সমান হয়নি। নারী ও শিশুদের কথা বিবেচনা করলে অনেক জায়গায় পিছিয়ে আছে। দেশের মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষক এসডিজি সম্পর্কে জানেন। সূচকগুলো সম্পর্কে ধারণা আছে এমন শিক্ষকের সংখ্যা ৫ শতাংশ। এ অবস্থায় গবেষণায় বরাদ্দ বাড়াতে তিনি দাতা সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা