kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

চলতি বছরেই আরো ১৫ হাজার টন কনডেনসেট রফতানি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ নভেম্বর, -০০০১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চলতি বছরেই আরো ১৫ হাজার টন কনডেনসেট রফতানি

চলতি বছরের মধ্যেই ফের এক লাখ ২০ হাজার ব্যারেল বা ১৫ হাজার টন কনডেনসেট বিদেশে রফতানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ট্যাংকিতে ওই পরিমাণ কনডেনসেট জমা করা শুরু করেছে। আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসের মধ্যেই ফের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে সমপরিমাণ কনডেনসেট বিক্রি করবে বিপিসি। পেট্রোবাংলা ও বিপিসি সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে গত আগস্ট মাসে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত পেট্রোল, অকটেন ও জেট ফুয়েল উৎপাদনে (তৈরি) ব্যবহৃত একই পরিমাণ কাঁচামাল কনডেনসেট দরপত্রের মাধ্যমে অলিভ সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছে বিক্রি করে বিপিসি। আন্তর্জাতিক মূল্যের চেয়ে প্রতি ব্যারেল ০.৩৮ ডলার কম দরে ওই কনডেনসেট বিক্রি করে প্রায় ৪৬ কোটি বৈদেশিক টাকা আয় করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। যদিও আন্তর্জাতিক মূল্যে ওই পরিমাণ কনডেনসেট বিক্রি করতে সক্ষম হলে বিপিসি আরও প্রায় ৩৬ লাখ টাকা আয় করতে পারত।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে পেট্রোল, অকটেন ও জেট ফুয়েলের চাহিদা তিন লাখ টনের ওপরে নয়। এ পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন করতে সোয়া তিন লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টন কনডেনসেট প্রয়োজন। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার টন কনডেনসেট উৎপাদন হয়েছে। আর চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ হবে পাঁচ লাখ ৬০ হাজার টন।
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, দেশের সরকারি-বেসরকারি ১৪টি রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ চাহিদা মোতাবেক পেট্রোল, অকটেন ও জেট ফুয়েল উৎপাদন করে। এ সব রিফাইনারিতে আরও বেশি পরিমাণ কনডেনসেট পরিশোধন করে অকটেন, পেট্রোল ও জেট ফুয়েল তৈরি করা সম্ভব হলেও চাহিদা না থাকায় তা করে না তারা।
জানা গেছে, দেশে দৈনিক গড়ে এক হাজার ৪৫০ টন কনডেনসেট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে দৈনিক এক হাজার ১ শ’ টন কনডেনসেট পরিশোধন করছে রিফাইনারিগুলো। বাকিটা পুড়িয়ে ফেলতে হচ্ছে। যাতে করে দৈনিক ৩০ শতাংশ মূল্যবান এই পেট্রোলিয়াম পণ্য পুড়িয়ে ফেলা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে যে পরিমাণ পেট্রোলিয়াম উপজাত কনডেনসেট উৎপাদিত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর প্রায় দুই লাখ টন অতিরিক্তই থেকে যাবে। তাই বিপুল পরিমাণ মূল্যবান কনডেনসেট নষ্ট না করে তা রফতানির সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
সে হিসেবে গত আগস্ট মাসে ১৫ হাজার টন বা এক লাখ ২০ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
পেট্রোবাংলা ও বিপিসি সূত্রে আরও জানায়, দেশের ১৪টি রিফাইনারিতে পরিশোধিত হয়ে পেট্রোল, অকটেন ও জেট ফুয়েল উৎপাদিত হওয়ার পরও বিপুল পরিমাণ কনডেনসেট বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রের ট্যাংকে জমা রয়েছে। কিন্তু এ কনডেনসেট যেহেতু শুধুমাত্র বিপিসির মাধ্যমেই রফতানি হয়, তাই আগে বিপিসির ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) ট্যাংকিতে তা জমা করতে হয়। চট্টগ্রামের ইআরএল’র ট্যাংকিতে জমা হওয়ার পরই পেট্রোবাংলার অনুমোদন নিয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে বিপিসি। কিন্তু ইআরএল’র ট্যাংকিতে ১৫ হাজার টন বা এক লাখ ২০ হাজার ব্যারেলের বেশি কনডেনসেটের ধারণক্ষমতা নেই। যার কারণে একইসঙ্গে ওই পরিমাণ কনডেনসেটের বেশি রফতানি করতে পারছে না বিপিসি।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিচালক (অপারেশন এ্যান্ড প্ল্যানিং) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে কনডেনসেট রফতানি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৫ হাজার টনের একটা চালান চলে গেল। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় থেকে (গ্যাসক্ষেত্র) কনডেনসেট (চট্রগ্রাম) ইআরএল’র ট্যাংকে জমা হচ্ছে। যখন দেখব যে এটি ১৫ হাজার টনের কাছাকাছি হয়েছে তখনই আবার আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করব। হতে পারে সেটা অক্টোবর-নভেম্বরেই।
গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে তো বিপুল পরিমাণ কনডেনসেট রয়েছে, তাহলে কেন একসঙ্গে বড় পরিসরে কনডেনসেট রফতানির টেন্ডার আহ্বান করা হচ্ছে না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইআরএল’র ট্যাংকিতে ১৫ হাজার টনের বেশি ধারণক্ষমতা নেই। তাই একসঙ্গে এর বেশি রফতানি করা যাচ্ছে না।’
ধারণক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ আছে কিনা— এমন প্রশ্নে বিপিসির এই পরিচালক বলেন, ‘বাড়ানো ‍সুযোগ আছে। কিন্তু আমাদের তা বাড়ানোর চিন্তাভাবনা নেই। কারণ গত কয়েক মাস ধরে কনডেনসেট বেশি উৎপাদন হচ্ছে বলে পেট্রোবাংলা আমাদের রফতানির কথা বলছে। দুই দিন পরে যখন হবে না তখন কি হবে। কেন তাহলে আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করে ট্যাংক বানাব। তখন তো অব্যবহৃতই থেকে যাবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনডেনসেট রফতানির জন্য অনেক প্রতিষ্ঠানই আগ্রহী ছিল। কিন্তু কনডেনসেটের পরিমাণ কম হওয়ায় সেসব প্রতিষ্ঠান গত জুলাইয়ে বিপিসির দরপত্রে অংশ নেয়নি। ৬টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র তুললেও জমা দেয় মাত্র দু’টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে অলিভ সিঙ্গাপুর কোম্পানি লিমিটেডকে কাজ দেয় বিপিসি।



সাতদিনের সেরা