kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

নান্দাইলের চণ্ডীপাশা ইউনিয়ন পরিষদ

ভবন অকার্যকর করে রেখেছেন চেয়ারম্যান!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভবন অকার্যকর করে রেখেছেন চেয়ারম্যান!

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৪ নম্বর চণ্ডীপাশা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সরকারি কাজকর্ম পরিষদ ভবনে না করে চেয়ারম্যানের বাড়িতে করার অভিযোগ করেছেন বেশির ভাগ সদস্য (মেম্বার)। এ নিয়ে গত সোমবার জেলা প্রশাসক ও মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সদস্যরা।

অভিযোগপত্রে দেখা যায়, চণ্ডীপাশা ইউপির যাবতীয় সরকারি কাজকর্ম চেয়ারম্যান মো. এমদাদুল হক ভূঁইয়ার বাড়িতে করা হচ্ছে। অথচ ইউপির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাসহ দোতলা আধুনিক ভবন রয়েছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল কাদির বলেন, ঈদ উপলক্ষে সরকারি বিশেষ ভিজিএফ বরাদ্দের চাল চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে বাঁশহাটি বিদ্যালয়ের ভবনে রাখা হয়। ঈদের আগের দিন অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিতরণ করা হয়। তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানান। ইউএনও মাহমুদা আক্তার ইউপি সচিবকে ফোন করে ভিজিএফ বরাদ্দ বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে তদারক কর্মকর্তা ও ইউএনও এবং পিআইওর উপস্থিতিতে বিতরণকাজ করা হয়। তবে সরকারি কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর প্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘মানুষ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। ইউপির কাজ চেয়ারম্যানের বাড়িতে করা হলে সেখানে জনগণের কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকে না।’

আরো পাঁচজন ইউপি সদস্য বলেন, ইউপি ভবনের সঙ্গে সারা ইউনিয়নের চমৎকার যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে। এটি সরকারি ভবন। সরকারের যাবতীয় কাজকর্ম এই ভবনে হওয়া দরকার। কিন্তু গায়ের জোরে চেয়ারম্যান সেসব কাজ নিজ বাড়িতে করছেন। তথ্য সেবা কেন্দ্র, জন্ম নিবন্ধন, চারিত্রিক সনদপত্র আনতে হলে লোকজনকে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যেতে হচ্ছে। অথচ সরকার বিপুল টাকা খরচ করে আধুনিক ইউপি ভবন নির্মাণ করেছে।

চেয়ারম্যান এমদাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘পরিষদের সব সদস্যের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিতে একটি রেজল্যুশনের মাধ্যমে আমার বাড়ির কাছে ভিজিএফ-ভিজিডির চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরও সাতজন সদস্য মিথ্যা, অপপ্রচার করছে। তা ছাড়া রাস্তা খারাপ থাকায় কিছুদিন ধরে পরিষদের কাজকর্ম বাড়িতে করা হচ্ছে। এখন রাস্তা পাকা হওয়ায় কার্যক্রম ভবনেই করা হবে।’

তবে ইউপি সদস্য আবদুল কাদির বলেন, এ ধরনের রেজল্যুশনের কথা তাঁদের জানা নেই।

ইউএনও মাহমুদা আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে নির্দেশনা পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য