kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

গফরগাঁওয়ে কোয়ার্টার ফাঁকা, কর্মকর্তারা ঢাকা-ময়মনসিংহে

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৩১ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গফরগাঁওয়ে কোয়ার্টার ফাঁকা, কর্মকর্তারা ঢাকা-ময়মনসিংহে

গফরগাঁওয়ে উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডের ভেতরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত বাসাগুলো (কোয়ার্টার) সারা বছর ফাঁকা পড়ে থাকে। চাকরির বিধি অনুসারে কর্মস্থলে বসবাসের বাধ্যবাধকতা থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের বেশির ভাগ কর্মকর্তা প্রতিদিন ঢাকা-ময়মনসিংহ থেকে অফিস করেন। অনেক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার অফিসে হাজিরা দিয়েই বাসায় চলে যান। কেউ কেউ দুই দিনের সরকারি ছুটি কাটিয়ে রবিবার দুপুরের দিকে অফিসে আসেন। এ সময় তাদের খোঁজ করলে অধস্তন কর্মচারীরা বলেন, ‘স্যার, অফিসের কাজে বাইরে আছেন।’

মাসের পর মাস এ ধরনের ঘটনায় দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ উপকারভোগীরা। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও জবাবদিহি না থাকায় এ অবস্থার সৃৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তিনি ময়মনসিংহ সদরে বসবাস করেন। কেন অফিসে আসেননি সে ব্যাপারে অধস্তনরা কিছুই বলতে পারেনি। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে ডেপুটেশনে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহে এসংক্রান্ত মিটিং ছিল বলে আসতে দেরি হয়েছে।’

উপজেলা পরিষদের ভেতর অবস্থিত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় গিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সরকারকে পাওয়া যায়নি। তিনি কিশোরগঞ্জে বসবাস করেন। অফিস সহকারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্যার, কিশোরগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ সদরে মিটিংয়ে গেছেন। মিটিং শেষ করে অফিসে আসবেন কি না বলা যায় না।’ পাশেই উপজেলা কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন অবস্থিত। দুপুর পৌনে ১টায় গিয়ে অফিসটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এ দপ্তরটি বেশির ভাগ দিন বন্ধ থাকে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা কৃষকরা দিনের পর দিন ঘুরেও সেচসংক্রান্ত পরিষেবা পাচ্ছেন না। এ দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েম বলেন, ‘এখানে আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। প্রয়োজন হলে অফিসে আসি।’

উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কোয়ার্টারগুলোর অবস্থা ভালো নয়। তার ওপর ভাড়া আট হাজার টাকা। অথচ আট হাজার টাকায় বাইরে এর চেয়ে অনেক ভালো বাসা পাওয়া যায়। ভাড়া কম হলে অনেকেই থাকতেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমানের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের বিসিএস ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের কর্মস্থলে থাকার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কঠোর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের ব্যাপারে সে নির্দেশনা নেই। এ কারণে ইদানীং মাসিক সমন্বয় কমিটির মিটিংয়েও উপজেলার অনেক দপ্তরের কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। এ ব্যাপারে আমাদের কিছু করারও নেই। কারণ তারা সবাই জেলা অফিসের কাছে দায়বদ্ধ, নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নয়।’

 

মন্তব্য