kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

নান্দাইলের বাঁশহাটি বাজার

অবৈধভাবে খাজনা তুলে আত্মসাৎ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গত তিন বছর আগে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের বাঁশহাটি বাজারের ইজারা ডাকের ওপর আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এর পরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রভাবশালী বাদীপক্ষ প্রতি হাটেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করে তা আত্মসাৎ করছে। এ ঘটনায় লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি নিয়ে কোনো ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

স্থানীয় লোকজন জানায়, গত তিন বছরে বাজার থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু খাজনা বাবদ আদায় করা টাকা সরকারের রাজস্ব তহবিলে জমা পড়েনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় হাটের নাম ‘বাঁশহাটি বাজার’। নান্দাইল-কেন্দুয়া পিচঢালা সড়কের পাশে বাজারটির অবস্থান। চমৎকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বাজারটি সব সময় জমজমাট থাকে। সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার নানা পণ্য ও পশু বেচাকেনা হয়। এ ছাড়া ওই বাজারে কোরবানির পশু বিক্রির হাট বসানো হয়।

উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালের ভূমি জরিপ (বিআরএস) খতিয়ানে হাটের ৩৪ শতাংশ জমি জেলা কালেক্টরেটের নামে রেকর্ড হয়েছে। ভূমি কার্যালয়ের নথিপত্রে বাঁশহাটি বাজার ‘সায়রাত মহাল’ হিসেবে নিবন্ধিত।  

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বাঁশহাটি বাজারে সরকারিভাবে শেষবার ইজারা ডাক দেওয়া হয়েছিল ২০১৫ সালে। সোহেল মিয়া নামের এক ব্যক্তি পাঁচ লাখ ৫২ হাজার ৩০০ টাকায় বাজারটি ইজারা পেয়েছিলেন। ওই ইজারা ডাকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাঁশহাটি গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম বাজারের জমি তাঁর দাবি করে নান্দাইলের জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন।

নিষেধাজ্ঞার পরও বাজারের খাজনা আদায় করছে কারা জানতে চাইলে শাহ আলম বলেন, ‘আমার লোকেরাই খাজনা তুলছে। এতে দোষের কী?’

এ বিষয়ে চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আজিজুল ইসলাম বলেন, মামলার পর তৎকালীন এসি ল্যান্ডের নির্দেশে তিনি বাজারের ভূমির মালিকানা সম্পর্কে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জমা দিয়েছিলেন। তবে সদ্য বদলি হওয়া ইউএনও হাফিজুর রহমান জানান, মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য তিনি এসি ল্যান্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে ইউএনওর দায়িত্বে থাকা এসি ল্যান্ড মাহমুদা আক্তার বলেন, আগামী ৫ জুন মামলার শুনানি হবে। এ ছাড়া জেলা রাজস্ব কমিটির সভায় বাজারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

 

মন্তব্য