kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

দারুল আরকাম প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি   

২৪ মে, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেত্রকোনার মদনে প্রতিষ্ঠিত একটি মাদরাসাকে বাদ দিয়ে নিয়মবর্হিভূতভাবে শিক্ষার্থীবিহীন একটি ধানের গোলাঘরকে মাদরাসা দেখিয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশনের ‘দারুল আরকাম’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের শিশু-কিশোরদের লেখাপড়া ও দ্বীনি শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে হাজী আব্দুল জলিলের দেওয়া ওয়াক্ফ রেজিস্ট্রি করা ৫০ শতক জমিতে ২০০৯ সালে ‘দারুস সুন্নাহ কওমি’ নামের একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে সেখানে একটি টিনশেডের ঘর নির্মাণ করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলামকে ওই মাদরাসার মুহতামিম করে আরো তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তখন থেকেই সেখানে নিয়মিত লেখাপড়া চলে আসছিল। পরে এলাকাবাসীর আর্থিক সহয়তা ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে পরীক্ষা ফি বাবদ আদায় করা প্রায় আড়াই লাখ টাকা মুহতামিমের কাছে গচ্ছিত থাকা অবস্থায় এক প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে মাদরাসাঘরটি বিধ্বস্ত হয়। তখন মুহতামিম সাইফুল ইসলাম বিধ্বস্ত ঘরের টিন, চেয়ার-টেবিল তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। এ সময় লণ্ডনপ্রবাসী সিলেটের এক মহিলা ঘরটি পুনর্নির্মাণের জন্য ২২ লাখ টাকা অনুদান দেন। মাদরাসার মুহতামিম সাইদুল ইসলাম চালাকি করে ওই টাকা দিয়ে নির্ধারিত জায়গায় মাদরাসাঘর নির্মাণ না করে নিজের বাড়ির পাশের ৩০ শতক জায়গায় একটি টিনশেড ঘর তোলেন। সেখানে শাহ জালাল কওমি মাদরাসা ও এতিমখানা নামে শিক্ষার্থীবিহীন একটি মাদরাসা চালুর উদ্যোগ নেন। এ নিয়ে এলাকাবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এদিকে বিধ্বস্ত মাদরাসাটির ছাত্র-ছাত্রীদের খোলা আকাশের নিচে পড়াশোনা করতে দেখে পাশের ফতেপুর গ্রামের জুলিয়া বেগম প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে সেখানে একটি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেন।

এদিকে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাইজুল ইসলাম মাদরাসার মুহতামিম সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করলে মদন থানার ওসিকে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারক। তৎকালীন মদন থানার ওসি কামরুল আলম মোল্লা মুহতামিম সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিধ্বস্ত ঘরের টিন, চেয়ার-টেবিলসহ মাদরাসার টাকা আত্মসাত করেছে বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সম্প্রতি ইসলামী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতি উপজেলায় দুটি করে কওমি মাদরাসাকে দারুল আরকাম প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের ভাতাসহ যাবতীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে দুটি মাদরাসার পক্ষ থেকেই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়। দারুল আরকাম প্রকল্প থেকে নেত্রকোনা ইসলামী ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম সরকারকে সরেজমিনে দুটি মাদরাসা পরিদর্শন করে সঠিক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

দারুস সুন্নাহ কওমি মাদরাসার সভাপতি তাইজুল ইসলামের অভিযোগ, অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম সরকার শিক্ষার্থীবিহীন মাদরাসার পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

অভিযুক্ত সাইদুল ইসলামের মাদরাসা শাহ জালাল কওমি মাদরাসা ও এতিমখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা যায়, সাইনবোর্ডবিহীন একটি টিনশেড ঘরের ভেতরে শিক্ষা উপকরণ ও চেয়ার-টেবিলের কোনো অস্তিত্ব নেই। ঘরের ভেতরে ও বারান্দায় ধানের টাল। এ ব্যাপারে মাদরাসার মুহতামিম সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসাটি বন্ধ রয়েছে। নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রী জোগাড় করবেন। তা ছাড়া বৃষ্টির কারণে ঘরের ভেতর ও বাইরে ধান রাখা হয়েছে।’ 

নেত্রকোনা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ড. ওমর ইবনে হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘সহকারী পরিচালকের মাধ্যমে সরেজমিনে পরিদর্শন করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিয়ম হলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

মন্তব্য