kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

বই প্রকাশ ও বিক্রিতে রেকর্ড

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ মার্চ, ২০২০ ১২:২৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বই প্রকাশ ও বিক্রিতে রেকর্ড

নতুন বইয়ের ভাঁজ খোলার গন্ধ, প্রিয় লেখককে কাছ থেকে দেখার সুযোগ, অটোগ্রাফ নেওয়া, হঠাৎ বন্ধু-স্বজনের সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়া, আড্ডা, তর্ক-বিতর্ক, ঘুরে বেড়ানো, বই কেনা—এ রকম সুখস্মৃতির নানা রঙের দিনগুলো ফুরোল। ভাঙল বই সংস্কৃতির মিলনমেলা। গতকাল শনিবার শেষ হলো বইপ্রেমী মানুষের প্রাণের উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০। এবার বইমেলা ছিল স্মরণকালের সেরা আয়োজন। সব কিছুতেই ছিল রেকর্ডের ছড়াছড়ি। এবার মেলার পরিসর বৃদ্ধিতে যেমন রেকর্ড হয়েছে, তেমনি রেকর্ড হয়েছে বই প্রকাশ ও বিক্রিতে।
 
গতকাল মেলার শেষ দিনে আগতদের প্রায় প্রত্যেকে কিনেছেন নতুন বই। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল বলে মেলার গেট খোলা হয় সকাল ১১টায়। এরপর রাত ৯টায় গেট বন্ধ হওয়া পর্যন্ত প্রায় সারাক্ষণই বিপুল বইপ্রেমী মানুষের বাঁধভাঙা ভিড় ছিল। মেলার শেষ দিনে বিক্রি ও ভিড় বেশি হয়, এ দৃশ্য অচেনা নয়। গতকালও সেটি লক্ষ করা গেছে। আগ্রহী ক্রেতা-পাঠকের এই বিপুল উপস্থিতি দেখে অনেকে বলে উঠেছেন—মেলার শেষ দিন মানে তো এই নয় যে বছরের অন্য সময় বই কেনা যাবে না!
 
অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই বছরজুড়েই পাঠক বই কিনুক, পড়ুক। বইমনস্ক সমাজ গড়ে তোলার জন্য, সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য তা একান্ত প্রয়োজন।’
 
ভাষা চেতনার সাক্ষ্যবহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা মাসব্যাপী এই মেলা শুরু হয় দুই ফেব্রুয়ারি। গতকাল শেষ দিনে শেষ শিশুপ্রহরে প্রচুর খুদে পাঠকের আনাগোনা লক্ষ করা গেছে। দুপুরের পর বদলে যায় মেলার দৃশ্যপট। আসতে থাকেন পরিণত বয়সী পাঠকরা। বিকেল গড়ানো সন্ধ্যায় নামে বইপ্রেমীদের তুমুল স্রোত। মেলার বাতি নিভে যাওয়া পর্যন্ত ছিল বিপুল মানুষের উপস্থিতি।
 
সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানায়, মেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ বই বিক্রি হয়েছে। এ বছর একাডেমির হিসেবে বই বিক্রি হয়েছে ৮২ কোটি টাকার। গত বছর বিক্রি হয়েছে  ৮০ কোটি টাকার বই। তার আগের বছর ২০১৮ সালে মেলায় বই বিক্রি হয়েছিল ৭০ কোটি টাকার।
 
নতুন বই প্রকাশের ক্ষেত্রেও এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। এবার মেলায় নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে চার হাজার ৯১৯টি। তবে এ হিসাব বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে জমা পড়া বইয়ের। এর বাইরেও মেলায় নতুন অনেক বই প্রকাশ হয়েছে। এ বছর বাংলা একাডেমির বিচারে মানসম্পন্ন বইয়ের সংখ্যা ৭৫১টি। গতকাল বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এ বছর সর্বোচ্চ বই প্রকাশিত হয়েছে কবিতার। সংখ্যার হিসাবে এক হাজার ৫৮৫টি। এ ছাড়া এ বছর গল্প ৬৪৪, উপন্যাস ৭৩১, প্রবন্ধ ২৭১, গবেষণা ১১২, ছড়া ১১১, শিশুতোষ ২০৩, জীবনী ১৪৯, রচনাবলি ৮, মুক্তিযুদ্ধ ১৫২, নাটক ৩৪, বিজ্ঞান ৮৩, ভ্রমণ ৮২, ইতিহাস ৯৬, রাজনীতি ১৩, স্বাস্থ্য ৩৬, রম্য ৪০, ধর্মীয় ২০, অনুবাদ ৫৭, অভিধান ১৪, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ৬৭, বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই ১৪৪ এবং বিবিধ বিষয়ে বই প্রকাশিত হয়েছে ২৬৮টি।
 
গতকাল সন্ধ্যায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০-এর সমাপনী অনুষ্ঠান মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। গ্রন্থমেলার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০’ এর সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ।
 
২০১৯ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিকসংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ‘কথাপ্রকাশ’ কে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, ২০১৯ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা গ্রন্থ বিভাগে আবুল হাসনাত রচিত ‘প্রত্যয়ী স্মৃতি ও অন্যান্য’ গ্রন্থের জন্য ‘জার্নিম্যান বুকস’, মঈনুস সুলতান রচিত ‘জোহানেসবার্গের জার্নাল’ গ্রন্থের জন্য ‘প্রথমা’ প্রকাশনকে এবং রফিকুন নবী রচিত ‘স্মৃতির পথরেখা’ গ্রন্থের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশনসকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২০ প্রদান করা হয়। ২০১৯ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার এবং ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘অভিযান’ (এক ইউনিট), ‘কুঁড়েঘর প্রকাশনী লিমিটেড’ (২-৪ ইউনিট) এবং ‘বাংলা প্রকাশ’কে (প্যাভেলিয়ন) শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০২০ প্রদান করা হয়।
 
অন্যদিকে বাংলা একাডেমি পরিচালিত সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার-২০১৮ পান কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী ও সাগুফতা শারমীন তানিয়া। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়। গতকাল একুশে গ্রন্থমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা