kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

প্রকাশকের মেলা

প্রকাশকবান্ধব বইমেলা চাই

মাজহারুল ইসলাম   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১১:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকাশকবান্ধব বইমেলা চাই

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন প্রয়াত চিত্তরঞ্জন সাহা, বটতলায় চটের ওপর বসে বত্রিশটি বই নিয়ে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ১৯৭২ সালে। ১৯৭৮ সালে এই বইমেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলা একাডেমি। আর ১৯৮৩ সাল থেকে এটি অমর একুশে গ্রন্থমেলা শিরোনামে চালু আছে।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৪ সাল থেকে বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলা একাডেমি চত্বর ছাড়াও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এটি প্রসারিত হয়েছে। আর এ বছর তো মেলার পরিসর আরো বেড়েছে। প্রায় আট লাখ বর্গফুট জায়গা অধিকার করেছে এই বইমেলা।

বইমেলার এই পরিসর বৃদ্ধি যুক্তিসংগত কারণেই ঘটেছে। কেননা এটি এখন শুধু বইয়ের মেলা নয়, এ দেশের নানা শ্রেণির মানুষের মিলনমেলাও বটে। আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশ। বিগত বছরগুলোতে প্রকাশকদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যাও। এসব নানা কারণেই বইমেলার প্রসার ঘটেছে।

এবারের মেলায় স্টলগুলোর বিন্যাস খুবই সুন্দর, নান্দনিক। এ জন্য প্রথিতযশা আলোকচিত্রী, চলচ্চিত্রকার এবং স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর এবং বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। মেলায় ধুলার উৎপাতও ছিল না। বিরূপ আবহাওয়ার কথাও আগে জানিয়ে দেওয়ায় প্রকাশকদের তেমন ক্ষতি হয়নি। এ সবই বইমেলার ইতিবাচক দিক।

কিন্তু দোয়েল চত্বর অথবা টিএসসি থেকে হেঁটে প্রবেশ করার পর আবার প্রায় আট লাখ বর্গফুট জায়গা হেঁটে মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করা কষ্টকরই বটে। বিশেষত বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও শিশুদের জন্য। ক্লান্ত হওয়ার দরুন তাঁরা সব স্টলের বই দেখতে পারেননি। আরেকটি কথা, ভুঁইফোড় প্রকাশক ও বিক্রেতাদের পাশাপাশি পেশাদার প্রকাশককেও একই কাতারে দাঁড়িয়ে লটারিতে অংশ নিতে হয়েছে। এতে পেশাদার প্রকাশকদের অনেকেরই স্টল তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং মেলা প্রাঙ্গণের পেছনে পড়েছে। এতে সংগত কারণেই তাঁদের বই আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। শুধু তাই নয়, ভুঁইফোড় প্রকাশক ও বিক্রেতারা ভারতীয় বাংলা বইও বিক্রি করেছেন। এ জন্য পেশাদার প্রকাশকরা আর্থিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আইন অমান্যকারী প্রকাশকদের চিহ্নিত করার জন্য বরাবরের মতো এবারও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ শেষ পয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। তারা হয়তো দশ-বারোটি প্রকাশক ও বিক্রেতাকে চিহ্নিত করবে, চিঠি দেবে—এ পর্যন্ত। তাই আমাদের দাবি এটাই—প্রকাশকবান্ধব বইমেলা চাই, যেখানে পেশাদার প্রকাশকদের প্রাধান্য থাকবে এবং তাঁদের স্বার্থকে বড় করে দেখা হবে।

লেখক : প্রকাশক, অন্যপ্রকাশ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা