kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বুলবুল সিদ্দিকীর গবেষণাগ্রন্থে আত্মশুদ্ধির অনন্য আন্দোলন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৪:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বুলবুল সিদ্দিকীর গবেষণাগ্রন্থে আত্মশুদ্ধির অনন্য আন্দোলন

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে বিশিষ্ট গবেষক ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকীর গবেষণা গ্রন্থ 'তাবলিগ জামাত : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিসরে'। বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা।

ধর্মচর্চার মধ্য দিয়ে স্রষ্টার প্রতি আত্মনিবেদন ও আত্মশুদ্ধির লক্ষ্যে ভারতের দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের জন্ম। তারপর তা ছড়িয়ে পড়ে সারা পৃথিবীতেই। চর্চা ও ব্যাপকতার দিক থেকে তাবলিগ জামাতের অন্যতম কেন্দ্র বাংলাদেশ। দুঃখজনক হলে সত্য এ বিষয়ে তেমন গবেষণাগ্রন্থ নেই। এবার সেই অভাব পূরণ করেছেন বুলবুল সিদ্দিকী।

গবেষক ও শিক্ষক বুলবুল সিদ্দিকী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংল্যান্ডের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। তারপর ইংল্যান্ডের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি  পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে শিক্ষকতা ও গবেষণা কাজ করছেন।

তাবলিগ জামাত সুদীর্ঘ ১০০ বছরের চর্চা, সংঘভিত্তিক আত্মশুদ্ধি অহিংস আন্দোলন।  মূল উদ্দেশ্যই হিংসা, ভেদাভেদ, বৈষম্য, অনাচার, পাপাচারের বিরুদ্ধে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য ও প্রেম ও প্রার্থনায় আত্মশুদ্ধি। তাদের প্রথাগত রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহ মানুষের ধর্মানুরাগকে আরও বেশি বেগবান করছে, তাবলিগ জামাতকে গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। এটা তাদের জনপ্রিয়তার অন্য একটি বড় কারণ বলে মনে করা হয়। বইটির লেখক বুলবুল সিদ্দিকী নৃবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে অবলোকন ও পর্যবেক্ষণ করেছেন তাবলিগ জামাতের আদর্শ, প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক পরিসর। তারই ভিত্তিতে এ নিয়ে খ্যাতনামা কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেছেন পিএইচডি ডিগ্রী। 

বইটিতে তাবলিগ জামাত সম্পর্কে একটি সার্বিক ধারণা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে তার সীমাবদ্ধতা ও উদারতার বিশ্ব মানচিত্র।  পাশাপাশি এটিও দেখানো হয়েছে যে কী করে একটি স্থানিক চর্চার ধরন ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বপরিসরে।

গবেষক বুলবুল সিদ্দিকী বলেন, 'তাবলিগ জামাত প্রায় শত বছর পরে একটি সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে তাবলিগ আবার তাদের ‘অহিংস ও অরাজনৈতিক’ আদর্শের দিকে ফিরে আসবে? নাকি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই নতুন বিশ্বে টিকে থাকার জন্য নিজেদের নতুনভাবে মানিয়ে নেবে? সমাজ পরিবর্তনের সামাজিক নিয়ম কিন্তু তা–ই বলে। সময়ের প্রয়োজনেই সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন মানিয়ে নেয়, তেমনি তাবলিগ জামাতও হয়তো ধর্মীয় পরিমণ্ডলে থেকে আবার নতুন করে বেড়ে উঠবে। বইটিতে এ বিষয়গুলো ছাড়া  বিশ্ব ইজতেমা, নেতৃত্ব ও দ্বন্দ্বের মূল উৎঘাটন করার প্রয়াস রয়েছে। আশা করি, গবেষক, বিশ্লেষক, মননশীল পাঠকরা বইটি পড়ে উপকৃত হবেন।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা