kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রাণের মেলা

এখনো সঙ্গী রবীন্দ্র-নজরুল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১১:১০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এখনো সঙ্গী রবীন্দ্র-নজরুল

এবারের বইমেলায় প্রথম দিন গিয়ে একটি বিস্ময়ধ্বনি বেরিয়ে এসেছিল কণ্ঠ থেকে, নিজের অজান্তেই। এত বিশাল জায়গাজুড়ে, এমন নান্দনিক নকশার বইমেলা এর আগে কখনো হয়েছে বলে মনে পড়ে না। বিস্ময় তো জাগারই কথা। ৩৩ বছর ধরে নিয়মিতভাবে বইমেলায় যাচ্ছি। বলা যেতে পারে, আমার চোখের সামনেই ঘটেছে প্রতিটি পরিবর্তন। বাংলা একাডেমি চত্বরের সেই ছোট্ট ছিমছাম মেলা থেকে আজকের এই বিপুলায়তন মেলার সব কিছুরই প্রত্যক্ষদর্শী আমি। সত্যি বলতে কি, গত বছর থেকে স্থপতি-লেখক-চলচ্চিত্রকার এনামুল করিম নির্ঝর নকশার দায়িত্ব নেওয়ার পর মেলার অগোছালো ভাবটা আর নেই, হয়ে উঠেছে দারুণ নান্দনিক। তো, আগে প্রতিদিনই যেতাম, এখন অতটা না পারলেও অন্তত সাত-আট দিন যাওয়া হয়ই। এই এক মেলা, যেখানে এমন সব মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, সারা বছরেও যাঁদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা থাকে না। সাধে কি আর একে মিলনমেলা বলি আমরা! মাসভর বইয়ের আলাপ, নতুন বইয়ের গন্ধ, প্রচুর বইয়ের সমারোহ, যাচাই-বাছাই করে বই কেনার সুযোগ—বইপ্রেমী মানুষের জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর কী হতে পারে? একসময় নিতান্তই পাঠক হিসেবে যেতাম, দূর থেকে বিস্ময়ের চোখে লেখকদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম—তাঁদের মনে হতো দূরতম গ্রহের বাসিন্দা। এখনো হয়তো ব্যাপারটি একই রকম আছে, নিজের পাঠকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাদের বিস্ময়মিশ্রিত কৌতূহল দেখে তেমনটিই মনে হয়!

‘কালের কণ্ঠ’র বন্ধুরা আমাকে নিজের বই সম্পর্কে কিছু লিখতে বলেছেন! কিন্তু নিজের লেখার ব্যাপারে কী-ই বা বলা যায়? শুধু এটুকু বলতে পারি—প্রায় দুই দশক ধরে নানা ধরনের গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ লিখে চলেছি। জীবনের বহুকৌণিকতা আর বহুমাত্রিকতা আবিষ্কার করার জন্য বিভিন্ন কোণ থেকে জীবন ও পৃথিবীর ওপর আলো ফেলার চেষ্টা করেছি। আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক বাস্তবতার ফাঁদে আটকে পড়া নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অসহায়-বিমূঢ় জীবনকে দেখার চেষ্টা করেছি। গল্প-উপন্যাস ছাড়াও নানা ধরনের গদ্য লিখি বলে আমার লেখার পরিমাণও বেশি। যখন লেখাগুলোকে গ্রন্থরূপ দিতে বসি তখন সব ধরনের লেখাই তাদের দাবি নিয়ে হাজির হয়। দুই মলাটের ভেতর বন্দি হয়ে স্থায়ী হওয়ার দাবি। কখনো ওদের দাবি পূরণ করতে পারি, কখনো পারি না। নতুন-পুরনো বইগুলোর দিকে একটু তাকালেই তা বোঝা যাবে। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল আমার প্রথম গল্পের বই। এর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে ১২টি গল্পগ্রন্থ, ৯টি উপন্যাস, চারটি প্রবন্ধগ্রন্থ, দুটি মুক্তগদ্যের সংকলন, একটি বিজ্ঞান-প্রবন্ধগ্রন্থ, একটি ভ্রমণগদ্যের সংকলন আর একটি আমার গ্রহণ করা লেখকদের সাক্ষাৎকারগ্রন্থ। মোট ৩০টি। এ ছাড়া সম্পাদনা করেছি কথাসাহিত্য নিয়ে আরো ১১টি গ্রন্থ। ৩০ বছরের সাহিত্যচর্চার সারসংক্ষেপ এই বইগুলো। অবশ্য আরো অনেক লেখা অগ্রন্থিত রয়ে গেছে, সেগুলো কবে নাগাদ গ্রন্থরূপ দিতে পারব জানি না।

এবার আমার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে, বলা মুশকিল। গত বছরের মেলায় আমার কোনো বই বেরোয়নি, বেরিয়েছে মেলার পর থেকে। সেগুলোকে কি এই মেলার বই বলা যাবে? যেমন—পদার্থবিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে সহজবোধ্য ভাষায় লেখা আমার প্রথম বিজ্ঞান-প্রবন্ধগ্রন্থ ‘আমাদের মহাজাগতিক পরিচয়’ বেরিয়েছে গত বৈশাখে, প্রথমা থেকে। বাতিঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘নির্বাচিত গল্প’ গত ডিসেম্বরে। এগুলোও তো নতুন বই। অবশ্য মেলা উপলক্ষেও বই বেরিয়েছে। যেমন—নাগরী থেকে এসেছে নতুন গল্পগ্রন্থ ‘বড়োদের গল্প যেমন হয়’, সন্দেশ থেকে এসেছে আমার প্রথম ভ্রমণগদ্যের সংকলন ‘পাখির চোখে দেখা’। মুক্তগদ্যের সংকলন ‘একদিন সব কিছু গল্প হয়ে যায়’-এর নতুন সংস্করণও এসেছে সন্দেশ থেকে। উপন্যাস ‘বর্ষামঞ্জরি’র নতুন সংস্করণ এনেছে চন্দ্রবিন্দু। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাশিল্পী মাহমুদুল হকের সাক্ষাৎকারগুলোর সংকলন ‘হিরণ্ময় কথকতা’ বেরিয়েছে আমার সম্পাদনায়, পেন্ডুলাম থেকে। তরুণ প্রকাশকদেরই বেশি প্রাধান্য দিয়েছি এবার। বাতিঘর, নাগরী, চন্দ্রবিন্দু, পেন্ডুলাম—এই চারটি প্রকাশনীরই দেখভাল করছেন তরুণরা। বইয়ের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা, মমতা, আন্তরিকতা, যত্ন, আবেগ ইত্যাদি দেখে মুগ্ধ হয়েছি বলেই তাঁদের পাণ্ডুলিপি দিয়েছি। তাঁরাও গভীর ভালোবাসা নিয়ে অত্যন্ত যত্নসহকারে দৃষ্টিনন্দন সব বই প্রকাশ করেছেন। আশা করি, আমার পাঠকদেরও মন ভালো হয়ে যাবে এসব নান্দনিক প্রকাশনা দেখে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা