kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রকাশকের মেলা

ভালো বই হোক ভালো বন্ধু

লুভা নাহিদ চৌধুরী   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৫:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভালো বই হোক ভালো বন্ধু

বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আমাদের রয়েছে দায়বদ্ধতা, রয়েছে দেশমাতৃকার প্রতি অঙ্গীকার। বস্তুত এ দায় থেকে ভাষার মাসে ২০০৪ সালে আত্মপ্রকাশ করে সাহিত্য পত্রিকা ‘কালি ও কলম’। সম্পাদক আবুল হাসনাতের এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও সদস্যবৃন্দের প্রজ্ঞায়, যত্নশীল পরিচর্যায় এ পত্রিকা হয়ে ওঠে দেশের শীর্ষ সাহিত্য সাময়িকী। কাছাকাছি সময়ে বেরোয় আরো কয়েকটি পত্রিকা—নাগরিক জীবনচর্যাকে কেন্দ্র করে ‘চারবেলা চারদিক’, সংস্কৃতি সংবাদ নিয়ে ‘বেঙ্গল বারতা’, শিল্প-চিত্রকলা-থিয়েটার বিষয়ক সাময়িকী ‘শিল্প ও শিল্পী’, শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’ এবং ইংরেজি সাহিত্য ষান্মাসিক ‘সিক্স সিজনস রিভিউ’ ও শিল্পবিষয়ক সাময়িকী ‘যামিনী’। পত্রিকাগুলো ক্রমে বেঙ্গল পাবলিকেশনসের প্রকাশনা হিসেবে সংস্কৃতি ও সাহিত্য জগতে আদৃত হয়, যদিও বর্তমানে কয়েকটির প্রকাশনা স্তিমিত।

প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে বেঙ্গল পাবলিকেশনসের অঙ্গীকার ও দায় সাহিত্যগুণসম্পন্ন মননশীল ও সৃজনশীল বই প্রকাশের প্রতি। ভালো বই হোক ভালো বন্ধু—এই ধ্বনিকে নিয়ে আমরা বৈচিত্র্যময় জিজ্ঞাসা-জাগানিয়া বই প্রকাশ করে চলেছি। স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রকাশনা জগতে আমাদের ভিন্ন একটি আসনও অর্জন করতে সমর্থ হয়েছি। তালিকার বেশির ভাগ বই-ই বাংলায়, অল্প কিছু ইংরেজি ভাষায়। প্রবন্ধ, কবিতা, জীবনী, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনির প্রতিও রয়েছে প্রধান নির্বাহী আবুল হাসনাতের পক্ষপাত। ‘সিক্স সিজনস রিভিউ’, ‘যামিনী’সহ ইংরেজি প্রকাশনাগুলো তত্ত্বাবধান করেন জিনাত চৌধুরী। ২০১২ সালে তাঁর তত্ত্বাবধানে ইতালির প্রকাশনা সংস্থা স্কিরার সঙ্গে যৌথভাবে আর্টের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়। একে একে ২১১টি বই সংযোজিত হয়েছে প্রকাশনা তালিকায়। বড় বড় প্রকাশনা সংস্থার তুলনায় এ সংখ্যা নিতান্তই কম; কিন্তু জোর চেষ্টা করা হয় বইয়ের অঙ্গসৌষ্ঠবে, প্রচ্ছদের অভিনবত্বে, বিষয়বস্তুর গভীরতা ও তাৎপর্যে এবং যত্নশীল সম্পাদনার মধ্য দিয়ে এই অপরিসর প্রকাশনা কলেবরকে অর্থপূর্ণ করে তোলার।

শুধু পত্রিকা প্রকাশই নয়, প্রকাশনী সংস্থাও নয়; আমরা চাই বইকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে, মানুষকে বইমুখী করতে। আমরা ভাবছিলাম কিভাবে বই পড়ার অভ্যাস আবার ফিরিয়ে আনা যায়, শুধু বিজনে পড়ার মধ্যে নয়, বইকে ঘিরে দিনযাপনের মধ্য দিয়ে। সে থেকেই ‘বেঙ্গল বই’-এর চিন্তা দানা বাঁধে। খোলা জায়গায় থাকবে অনেক বই, বইকে ঘিরেই চলবে আড্ডা। বই সাক্ষী থাকলে আলাপের মোড় কি ঘুরে যেতে পারে, নতুন জিজ্ঞাসা ও পরিশীলন কি ঘটতে পারে—এসব জানতেই আমাদের যত প্রয়াস। তরুণদের প্রাণোচ্ছল উপস্থিতি দেখে মনে হয় বেঙ্গল বই ওদেরই স্থান, যেমনটা হওয়ার কথা ছিল। এখন অনেকেই এখানে এসে বই নিয়ে, সাহিত্য নিয়ে ভাবেন ও বই নিয়ে ভাবের আদান-প্রদান করেন। যাঁরা কোনায় মেঝেতে বসে পা গুটিয়ে বই পড়েন, যে ধৈর্যশীল বাবা স্কুল ড্রেস পরা মেয়ের বারবার একই পাতা ওল্টানো নিয়ে কিছুই বলেন না, ছোটদের নির্ধারিত টেবিলে যে কলেজপড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা একটু নিভৃতে আলাপের অবসর খোঁজে, যাঁরা বইয়ের সারির মধ্যে নিজেকে কেমন দেখাচ্ছে জানতে বারবার ক্যামেরা চাপেন—তাঁদের সবার জন্যই বেঙ্গল বই, তাঁদের জন্যই তো একুশের বইমেলা।

একুশের সুপ্রশস্ত বইমেলা আমাদের গর্বিত করে। এত বই, সব বাংলায়। সেখানে বেঙ্গল পাবলিকেশনসের ছোট একটা স্টল, শত শত স্টলের মধ্যে চোখে নাও পড়তে পারে। কিন্তু আমরা তো বিশ্বাস করে এসেছি, সংস্কৃতিচর্চা যে আত্মপরিচয়ের জোগান দেয়, তা-ই মানসযাত্রার ক্রম-উত্তরণ ও সমাজ-সুনীতির পথ দেখায়। তাই ছোট্ট হোক স্টল, বই কম হোক; কিন্তু আমাদের আকাশছোঁয়া গর্ব, সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে আমরা বাংলায় কয়েকটি বই প্রকাশ করতে পেরেছি এবং অব্যাহত ধারায় উৎকর্ষে ও ভাবনায় ভালো বই প্রকাশ করে যাব।

লেখক : ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেঙ্গল পাবলিকেশনস

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা