kalerkantho

শনিবার। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৫ ডিসেম্বর ২০২০। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

লেখকের মেলা

সবচেয়ে ভালো বন্ধু বই

মোস্তফা কামাল   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সবচেয়ে ভালো বন্ধু বই

এবারের বইমেলা নানা কারণে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। সংগত কারণেই এবার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক বই বের হবে। সেগুলো নিশ্চয়ই নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবে।

আমি নিজেও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১৮ বছর গবেষণা করে তিন পর্বের উপন্যাস লিখেছি। অগ্নিকন্যা, অগ্নিপুরুষ ও অগ্নিমানুষ। তাঁকে নিয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধও লিখেছি, যা পাঠকদের মনের খোরাক মেটাচ্ছে। একই সঙ্গে গবেষকদের বিশেষভাবে কাজে লাগছে।

আমার লেখালেখির শুরু ১৯৮৪ সালে। প্রথম বই বের হয় ১৯৯৩ সালে। তবে বইমেলার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ১৯৮৭ সাল থেকে। প্রথমবার যে বইটি বের হলো সেটি একটি গবেষণা গ্রন্থ। আসাদ থেকে গণ-অভ্যুত্থান। উপন্যাস বের হয়েছে এর দুই বছর পরে। এর পর থেকে প্রতিবছরই তিন-চারটি করে বই প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর আমার চারটি বই মেলায় এসেছে। অনন্যা থেকে আমার বাছাই করা ৫০টি গল্পের সংকলন ‘প্রিয় পঞ্চাশ গল্প’ বের হয়েছে। এ ছাড়া জীবন বদলে দেওয়া বই ‘স্বপ্নবাজ’ এবং কিশোর গোয়েন্দা উপন্যাস ‘ফটকুমামার গোয়েন্দাগিরি’ মেলায় এসেছে। পার্ল থেকে বের হয়েছে জীবনঘনিষ্ঠ উপন্যাস ‘মানবজীবন’।

সেই ছোট্ট পরিসর থেকে মেলার বিশাল পরিবর্তন চোখের সামনে দিয়েই ঘটেছে। একুশে বইমেলার অনেক ব্যাপ্তি ঘটেছে। পরিসর বেড়েছে। এখন শতাধিক প্রকাশক কয়েক হাজার নতুন বই প্রকাশ করছেন। এখন এমন হয়েছে যে একুশে বইমেলা মানেই উৎসব। সর্বজনীন উৎসব। স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বইমেলায় আসছে। নিজের ইচ্ছায় বই কিনছে। সন্তানদের বই কিনে দিচ্ছে। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে মাসব্যাপী বইমেলা হয় না। বাঙালি সংস্কৃতির এ এক বিশাল অর্জন।

এ কথা স্বীকার করতেই হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কারণে মানুষের পাঠাভ্যাস অনেকটাই কমে গেছে। দিনের একটা বড় সময় মানুষ ফেসবুকে কাটায়। ফলে বই পড়ার অভ্যাস কমে গেছে। আগে সারা বছর বই কেনার যে তাগিদ ছিল, এখন তা নেই। খুব কম পাঠকই নিয়মিত বই কেনেন। ফলে উঠতি লেখকদের মধ্যে যাঁরা জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন, তাঁরা বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছেন।

গত কয়েক বছরে অনলাইন বুকশপ রকমারি ডটকম বই বিক্রিতে বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। তারা পাঠকের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেওয়ার কারণে কিছু পাঠক আবার বইমুখী হয়েছেন। তবে বেশির ভাগই এখনো ফেসবুকমুখী। পাঠককে বইমুখী করতে হলে বছরে একটা বইমেলা দিয়ে হবে না। বেশি বেশি বইমেলার আয়োজন করতে হবে। জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বইমেলার আয়োজন করা যেতে পারে।

মনে রাখতে হবে, মেধা-মননে, জ্ঞান-বিজ্ঞানে যে জাতি বড় হতে না পারে, সে জাতি কখনোই ওপরে উঠতে পারে না। পাঠাভ্যাস বাড়াতে না পারলে আমরা মেধাভিত্তিক জাতি গঠন করতে পারব না। সামাজিক অবক্ষয় রোধ করার জন্য হলেও মানুষকে বইমুখী করা খুব জরুরি। সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

আমি মনে করি, সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হচ্ছে বই। বই কখনো বেইমানি করে না, প্রতারণা করে না। বই মানুষকে আলোকিত করে, স্বপ্নবাজ হতে শেখায়, সফল হওয়ার পথ দেখায়। বিশ্বের সফল ব্যক্তিরা প্রতিদিন অবসর কাটান বই পড়ে। বই হোক আপনার-আমার নিত্যসঙ্গী।

লেখক : সাহিত্যিক ও সাংবাদিক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা