kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ব্রির সৌর আলোক ফাঁদ

মিলবে বিষমুক্ত ধান

অনলাইন ডেস্ক   

১৪ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিলবে বিষমুক্ত ধান

সৌর আলোক ফাঁদ নামে একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। কম খরচের প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে কৃষক কীটনাশক প্রয়োগ না করেও পোকা দমন করে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করতে পারবে। এর ফলে কীটনাশক আমদানিতে সাশ্রয় হবে বছরে কমপক্ষে সোয়া দুই শ কোটি টাকা।

ব্রির ফার্ম মেশিনারিজ ও পোস্ট হারভেস্ট বিভাগের প্রধান ড. দুরুল হুদা জানান, তাঁদের ফার্ম মেশিনারিজ ও পোস্ট হারভেস্ট এবং কীটতত্ত্ব বিভাগ যৌথভাবে সৌর আলোক ফাঁদ প্রযুক্তিটি উদ্ভাবন করেছে। এটি ফসলের মাঠে স্থাপন করলে সূর্যের আলোর অনুপস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠবে এবং সূর্যের আলোতে নিভে যাবে। ফাঁদের চার ওয়াটের বাতির জন্য একটি সোলার প্যানেল লাগবে। বাতিটি হতে হবে ‘আলট্রাভায়লেট রে’ যুক্ত নীলাভ। আলোক ফাঁদের নিচে একটি পাত্রে কেরোসিন বা ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানি থাকবে। অন্ধকারে আলোর আর্কষণে পোকাগুলো কাছে এসে পাত্রের পানিতে পড়ে মারা যাবে। এটি তৈরিতে খরচ মাত্র সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার টাকা। এক বিঘা ফসলের মাঠে একটি ফাঁদ স্থাপন করলে কয়েক বছর  পোকা দমন সম্ভব।

যন্ত্রটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয় ২০১৬-১৭ সালে, উদ্ভাবন ২০১৭ সালে। পরে খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, নরসিংদী ও ময়মনসিংহের তিন শ কৃষকের মধ্যে প্রযুক্তিটি বিতরণ করা হয়। আশাতীত সফলতা পাওয়ায় চলতি বছর প্রকল্পটি সারা দেশের কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কীটপতঙ্গ দমন ছাড়াও ফসলের ক্ষতিকারক ও উপকারী পোকা শনাক্তকরণ ও পর্যবেক্ষণের জন্যও সৌর আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি খুবই উপযোগী। ব্রির কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ড. মো. নজমুল বারী বলেন, ধানের ২৩২ ধরনের ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত করা হয়েছে। আর উপকারী পোকা আছে ৩৭৫ ধরনের। উপকারী পোকা ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফেলে এবং ক্ষতিকারক পোকার ডিমের ওপর ডিম দেয়। ক্ষতিকারক পোকা প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রণ হওয়ার কথা। কিন্তু ধানের চারা লাগানোর ১৫-২০ দিনের মধ্যে কৃষক ইউরিয়ার সঙ্গে দানাদার রাসায়নিক কীটনাশক দিলে ক্ষতিকর-উপকারী সব পোকা মারা যায়। পরে ক্ষতিকারক পোকা এসে বংশ বৃদ্ধি করলেও ছোট ও দুর্বল উপকারী পোকার সংখ্যা আনুপাতিক হারে বাড়তে পারে না। তাই চারা লাগানোর ৩০-৪০ দিনের মধ্যে কীটনাশক প্রয়োগ না করলে উপকারী পোকা বাড়ে। পরে উপকারী পোকা ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে ফসল উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।

কৃষক ধানক্ষেতে তিনবার কীটনাশক প্রয়োগ করেন। চারা লাগানোর ১৫-২০ দিনের মধ্যে একবার, থোড় আসার আগে দ্বিতীয়বার এবং শেষবার ধান পাকার আগে। বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালে আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ২২৮.৭১ মেট্রিক টন কীটনাশক, যার মূল্য ৭৫৬ কোটি টাকা। কৃষকরা যদি তিনবারের পরিবর্তে দুইবার রাসায়নিক প্রয়োগ করেন, তাহলে বছরে সাশ্রয় সম্ভব ২২৫ কোটি টাকা।

♦ শরীফ আহমেদ শামীম



সাতদিনের সেরা