kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বন্য প্রাণী রক্ষায় আলমের ১৬ বছর

অনলাইন ডেস্ক   

১৪ জানুয়ারি, ২০২২ ১১:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্য প্রাণী রক্ষায় আলমের ১৬ বছর

বাগেরহাটের শরণখোলার চালরায়েন্দা গ্রামের ধানক্ষেত থেকে একটি অজগর (পাইথন) উদ্ধার করেন মো. আলম হাওলাদার। ফাইল ছবি

আলম হাওলাদার তখন ১০-১২ বছরের কিশোর। বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে তাঁর বাড়ি। পড়েন পঞ্চম শ্রেণিতে। ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালের কথা। ওই দুই বছর পর পর দুটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার ঢোকে তাঁদের গ্রামে। গ্রামবাসী পিটিয়ে মেরে ফেলে বাঘ দুটিকে। মারতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে আহত হন কয়েকজন গ্রামবাসী। বাঘ সংরক্ষণের গুরুত্ব তখন সেভাবে না বুঝলেও দুটি বাঘের নির্মম মৃত্যুদৃশ্য খুব কাছ থেকে দেখে আলম খুব কষ্ট পান এবং মনে মনে ঠিক করেন, বড় হয়ে এসব বন্য প্রাণী সংরক্ষণে কিছু একটা করবেন। ২০০৭ সালের এপ্রিলে আরেকটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। আলমের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হাওলাদার বনে গোলপাতা কাটতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মারা যান। ওই ঘটনাও তাঁকে আরো উদ্বুদ্ধ করে বন্য প্রাণীর সঙ্গে সংঘাত কমিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগী হতে।

আলম হাওলাদারের বয়স এখন ৩২। ১৬ বছর ধরে বন থেকে লোকালয়ে আসা কমপক্ষে ৪০টি বাঘ বনে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি সহযোগীদের নিয়ে। তিনি এককভাবে কিং কোবরা, পাইথনসহ শতাধিক বিষধর সাপ, ১২টি হরিণ, ২০টি শূকর, পাঁচটি বানরসহ অসংখ্য স্থানীয় প্রজাতির পশুপাখি লোকালয় থেকে উদ্ধার করে রেখে এসেছেন সুন্দরবনে। বাঘের আক্রমণে আহত ১৭ জন জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করিয়েছেন। দিনরাত নেই, গ্রামের কোথাও বন্য প্রাণী আসার খবর পেলেই ছুটে যান তিনি।

২০০৪ সালে ‘সুন্দরবন টাইগার প্রজেক্ট’ নামে বাঘ সুরক্ষায় প্রকল্প গ্রহণ করে সুন্দরবন বিভাগ। ২০০৫ সালে সদ্য এসএসসি পাস করা কিশোর পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে স্বেচ্ছায় সেই প্রকল্পে যুক্ত হন। এরপর তিনি যুক্ত হন বন বিভাগের ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি), ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশ (ডাব্লিউটিবি) ইত্যাদি প্রকল্পে। এসব সংগঠনের হয়ে পাঁচটি জেলার সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, পাথরঘাটা, মঠবাড়িয়া, মোংলা, দাকোপ, কয়রা ও শ্যামনগর—এই আটটি উপজেলায় বন্য প্রাণী রক্ষা এবং প্রাণী ও মানুষের মধ্যে সংঘাত কমিয়ে আনতে সচেতনতামূলক কাজ করে চলেছেন আলম।

কাজ করতে গিয়ে ঝুঁকিতেও পড়েছেন বহুবার, কিন্তু পিছপা হননি কখনো। আরো সুচারুভাবে কাজ শিখতে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন বিদেশে। বাঘ গণনার জন্য ক্যামেরা ট্র্যাপিং এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য ২০০৯ সালে ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশের মাধ্যমে নেপাল গিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০১৯ সালের জুন মাসে কাজ করেছেন ভারতের ভিটিআরটি দলের সঙ্গে। আলম জানান, তাদের সঙ্গে কাজ করার পর বাঘ ও বন্য প্রাণী রক্ষায় এখন বাংলাদেশের কৌশলকেই মডেল হিসেবে গ্রহণ করে ভারতের ভিটিআরটি দল।

♦ মহিদুল ইসলাম



সাতদিনের সেরা