kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সোনালি আঁশের সুদিন ফিরবে সোনালি ব্যাগে

এম সায়েম টিপু   

১০ জানুয়ারি, ২০২২ ০৯:৫৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সোনালি আঁশের সুদিন ফিরবে সোনালি ব্যাগে

নিজের উদ্ভাবিত সোনালি ব্যাগ হাতে ড. মোবারক আহমেদ খান

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পলিথিনের ব্যবহার কমাতে যখন সোচ্চার উন্নত বিশ্বের দেশগুলো, তখন বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে দেখা দিয়েছে পাটের আঁশ থেকে তৈরি আমাদের দেশের সোনালি ব্যাগ। এর ফলে পাটের হারানো গৌরব আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন এই ব্যাগের উদ্ভাবক ড. মোবারক আহমেদ খান।

পাটের সেলুলোজ থেকে তৈরি এই ব্যাগ এরই মধ্যে বেশ সাড়া জাগিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন সক্ষমতার অভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও এই ব্যাগ রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপ, আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগেও আগ্রহ প্রকাশ করছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জন্য চীনের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে এরই মধ্যে। আশা করা হচ্ছে, এ বছরের মার্চের মধ্যে সেই প্রযুক্তি সরবরাহ করবে দেশটি। তখন প্রতি মিনিটে ৬০টি ব্যাগ উৎপাদন করা যাবে। বর্তমানে দিনে সাত-আট ঘণ্টায় তৈরি হয় দুই থেকে আড়াই হাজার ব্যাগ; মাসে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার। গো গ্রিন নামের স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান প্রতি সপ্তাহে ১০ টাকা পিস দামে দু-তিন হাজার ব্যাগ নিয়ে যায়। বাকি ব্যাগগুলো রপ্তানি হয়।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা মোবারক আহমেদ খান জানান, ১৯৯০-এর দশক থেকে তিনি পাটের ব্যাগ নিয়ে গবেষণা করছেন। পাটের সেলুলোজ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সোনালি ব্যাগ উদ্ভাবন করেন ২০১৫ সালে। ২০১৭ সালে ডেমরার লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসে পাইলট প্রকল্পের আওতায় পলিথিন ব্যাগের বিকল্প হিসেবে সোনালি ব্যাগ উৎপাদন শুরু করে বিজেএমসি।

ড. মোবারক বলেন, ‘বিশ্ববাজারে শপিং ব্যাগের বাজার সাড়ে তিন ট্রিলিয়ন ডলারের। এই বাজারে পরিবেশবান্ধব সোনালি ব্যাগের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও উৎপাদন সক্ষমতার অভাবে আমরা সেখানে জায়গা করে নিতে পারছি না। তবে আশার কথা, সম্প্রতি এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া দেশের তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদেরও আগ্রহ রয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা