kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদ ফ্যাশন

নিজের নকশায় পোশাক

ঈদের শুরুতে গজ কাপড় আর দর্জিবাড়ির চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। পছন্দমতো ডিজাইন আর কাটে পোশাক বানাতে চাইলে এখনই উপযুক্ত সময়। ঢাকা শহরের গুলশান, বনানী থেকে শুরু করে ধানমণ্ডি, গাউছিয়া সব জায়গাতেই আছে গজ কাপড় ও দর্জির দোকান। সেটারই একঝলক জানাচ্ছেন সাবিহা সুলতানা

১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিজের নকশায় পোশাক

রোজার শুরু থেকেই গজ কাপড়ের দোকানে এসেছে নতুন নতুন ডিজাইনের কাপড়। রাজধানীর চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের মা ট্রেডার্সের বিক্রেতা আওলাদ হোসেন জানান, ‘শবেবরাতের পর থেকেই ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে। মূলত মেয়েদের বিভিন্ন পোশাক ও ছেলেদের পাঞ্জাবির কাপড় আছে আমাদের কাছে। এসব কাপড়ের বেশির ভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করা। সুতি, চিকেন, মসলিন, জর্জেট, সিল্ক, ভেলভেট, নেট, টিস্যুসহ সব ধরনের ফ্যাব্রিকস পাবেন আমাদের কাছে। একরঙা ছাড়াও আছে প্রিন্টেড গজ কাপড়।’ নিউ মার্কেট, চন্দ্রিমা, চাঁদনী চক মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের পোশাকের জন্য বিভিন্ন ধরনের জর্জেট ও সিল্ক ফ্যাব্রিকসের জনপ্রিয়তা বেশি। এ ছাড়া পাঞ্জাবির জন্য বিভিন্ন ধরনের সুতি, চিকেনের কাজ করা কাপড় ও লিনেন কাপড় পাওয়া যাচ্ছে।  ভয়েল, অরবিন্দু, জাপানি লিনেন, ভিসকস ও জাপানি সিল্ক ফ্যাব্রিকস বিক্রি হচ্ছে। কথা হলো মোহাম্মদপুর থেকে গজ কাপড় কিনতে আসা অপরাজিতার সঙ্গে। জানালেন, পছন্দের একটি পোশাকের ছবি নেট থেকে প্রিন্ট করে নিয়েছেন। এখন কাপড় কিনে ছবি দেখিয়ে দর্জিকে দিয়ে বানিয়ে নেবেন। ফিউশন কাটের পোশাকটি শার্ট ড্রেস। সার্টিন ও জর্জেট ফ্যাব্রিকসের মিশেলে পোশাকটি বানাতে চান। আরো বললেন, ‘অনেক ঘুরে ঘুরে কাপড় মিলিয়ে কিনেছি। এবার দর্জি ঠিকঠাক বানাতে পারলে মনমতো হবে ঈদের জামা।’ বাজারে বিভিন্ন দামের বৈচিত্র্যময় গজ কাপড় দেখা গেল। সুতি ও কাপড়ের দাম ডিজাইনভেদে গজপ্রতি ১৫০ থেকে ৮০০ টাকা। সুতি চিকেন ৩২০ থেকে ১২০০, জর্জেট ১২০ থেকে ১০০০ টাকা। বিভিন্ন ধরনের সিল্ক কাপড় পাবেন ৫৫০ থেকে ১১০০ টাকা, ভেলভেট ৬০০ থেকে ১৫০০ টাকায়।  পাঞ্জাবি বানাতে চাইলে সুতি ও ভয়েল কাপড়ের দাম পড়বে প্রতি গজ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। চিকেন গজপ্রতি ৪৫০ থেকে ১২০০ টাকা, জাপানি লিলেন এক গজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। অরবিন্দু ১০০০ থেকে ১৪০০ টাকার মধ্যে পাবেন।  গজ কাপড়ের মার্কেট ঘুরে চলে এলাম প্রিয়াঙ্গন সুপার মার্কেটের দর্জিপাড়ায়। মেয়েদের টেইলারিং শপের পাশাপাশি এখানে পোশাকে এমব্রয়ডারি করার বেশ কিছু দোকান আছে। পোশাক বানানোর পাশাপাশি চাইলে পছন্দমতো এমব্রয়ডারি নকশাও করে নিতে পারেন ক্রেতারা। এমব্রয়ডারির দোকানে জামার পাশাপাশি ব্লাউজে এমব্রয়ডারির চাহিদা বেশি বলে জানালেন বেশ কয়েকজন দোকানি। ছিমছাম একরঙা ব্লাউজে সুতা আর পার্লের মিশেলে এমব্রয়ডারি নকশা খুব চলছে এবার। রংধনু টেইলার্সের মাস্টার আরিফ হোসেন বলেন, ‘এবার সালোয়ার-কামিজের চেয়ে সিঙ্গেল পিসের অর্ডার বেশি পাচ্ছি। কামিজের সঙ্গে কটি আর ঝালর দেওয়া কেপ যুক্ত করে নিচ্ছেন অনেকেই। কমিজ ছাড়া ফ্রক কাটের পোশাকের চাহিদাও রয়েছে। জামার লম্বায় লং আর সেমি লং কাটই বেশি। মেয়েদের জামায় ফ্রিল, কুঁচি আর টারসেল নকশা বেশি চলছে। জামার গলার কাটে শেরোয়ানি কলার, বোট নেক, ছোট করে গোল গলা এমন ধরনে কাট চাইছেন ক্রেতারা। হাতার কাটে অনেক ধরনের নতুনত্ব এসেছে। হাতার নকশায়ও কুঁচি, ঝালর ও টারসেল ব্যবহার হচ্ছে। আমরা বেশ কিছু কাটের হাতার ছবিসহ ক্যাটালগ বানিয়ে রেখেছি। ক্রেতারা সেখান থেকে দেখে অর্ডার করেন। অনেকে আবার নেট থেকে ছবি দিলে সেভাবেই বানিয়ে দিই। পালাজ্জোর পরিবর্তে প্যান্টকাট সালোয়ার বানানোর দিকেই আগ্রহ বেশি।’ বেশ কয়েকটি টেইলারিং শপ ঘুরে দেখা গেল, ঈদের পোশাকের মজুরি প্রায় কাছাকাছি। সাধারণ সালোয়ার-কামিজের মজুরি ডিজাইনভেদে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকা। কটি বা লেয়ার নকশা থাকলে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা। ফ্রক কাটের পোশাক চাইলে খরচ হবে ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া বিভিন্ন কাটের ব্লাউজের মজুরি ধরা হচ্ছে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত।

পোশাকে এমব্রয়ডারি করার খরচ নির্ভর করে ডিজাইনের ওপর। সুতার এমব্রয়ডারি আর জরির এমব্রয়ডারি খরচ আবার আলাদা। এমব্রডারির সঙ্গে পুঁতি, স্টোন বা পার্লের নকশা থাকলে খরচ আরো বেড়ে যায়। সাধারণত গলা ও হাতায় ছিমছাম নকশা করতে খরচ হবে ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা। গর্জিয়াস নকশা চাইলে ৩০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

মন্তব্য