kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

কাজের মানুষ

প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের দশ সূত্র

১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের দশ সূত্র

সৈয়দ আখতারুজ্জামান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিয়ন্ড ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি ব্যবস্থাপনাবিষয়ক লেখক ও প্রশিক্ষক

সব কৌশলই সাফল্যের মূল মন্ত্র হয়ে ওঠে না। পরিস্থিতি পরিবেশ এই কৌশলকে পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। তাই কৌশল প্রয়োগের জন্যও প্রয়োজন হয় কৌশলের। প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের সোনার হরিণকে ধরতে রইল দশটি কৌশল।

 

এক.

পরিশ্রম উন্নতির চাবিকাঠি। একসময় এই মূলমন্ত্রে জীবন এগিয়ে চলত। সময় পরিবর্তন হয়েছে। এখন শুধু পরিশ্রম উন্নতি নিশ্চিত করতে পারছে না। চাই ‘বুদ্ধিদীপ্ত পরিশ্রম’। বুদ্ধি খাটিয়ে পরিশ্রম করা দরকার, যাতে অল্প পরিশ্রমে বেশি অর্জন সম্ভব হয়। খেয়াল করুন, একে একে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে, তাঁরা কিভাবে পরিশ্রম করছেন।

 

দুই.

প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত লক্ষ্য বলে কিছু নেই। প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই সবার উদ্দেশ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে নানামুখী কর্মযজ্ঞে প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ কর্মকর্তাই জানেন না, কী উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠান এগিয়ে চলছে। একেকজনের উদ্দেশ্য একেক দিকে। খেয়াল রাখুন, সবাই প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে পরিশ্রম করছেন কি না।

 

তিন.

সবাই প্রতিষ্ঠানের লাভ বাড়ানোর জন্য অনবরত কাজ করে যাচ্ছেন; কিন্তু ক্ষতি কমানো বা খরচ কমানোও তো আসলে মুনাফা বাড়ানো। প্রতিষ্ঠানে এমন ব্যবস্থাপকের সংখ্যা বাড়ানো দরকার, যাঁরা খরচ কমাতে ও ক্ষতি কমাতে তাঁদের মেধা কাজে লাগাবেন; অন্যথায় লাভও বাড়বে, পাশাপাশি ক্ষতিও বাড়ে। দিন শেষে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হবে না। সুতরাং শুধু পরিশ্রম সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।

 

চার.

যথাসময়ে যথাকাজটি সম্পন্ন হওয়া দরকার। অসময়ে অনেক পরিশ্রম করেও কোনো লাভ হয় না। প্রত্যেক বিভাগের কর্মকর্তারা সময়ের কতটা সঠিক ব্যবহার করছেন জানা দরকার। হতে পারে এক কাজ শেষ করতে তিনজন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, অথচ বাকি তিনটি কাজ শেষ করার কেউ নেই। সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

 

পাঁচ.

কয়েকটি অবস্থায় প্রশাসনের বিশেষ সজাগ হওয়া দরকার। যেমন—সবাই সময়মতো অফিসে আসছেন কি না, অনুপস্থিতির হার কত, অফিসের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহূত অকেজো যন্ত্রপাতি দ্রুত সারানোর জন্য পদক্ষেপ ইত্যাদি। যন্ত্রপাতি অকেজো থাকলে পরিশ্রম বাড়ে আর ফলাফলের গতি কমে যায়। এভাবে যেসব বিষয় প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর সেসব বিষয়ের প্রতি আলাদাভাবে কড়া নজর দেওয়া দরকার।

 

ছয়.

অফিসের সবাই পরিশ্রম করছেন; কিন্তু সেই পরিশ্রমের ফলাফল কী? কতটা কাজে লাগছে? এই কাজে লাগাটা এখনই কতটা দরকার? হয়তো অপ্রয়োজনীয় কাজগুলোর পেছনে পরিশ্রম বেশি হচ্ছে। জরুরি কাজগুলো করাই হচ্ছে না। প্রতিটি স্তরে নজর রাখুন, পারফরম্যান্স মূল্যায়ণ করুন। তারপর দেখুন সমস্যা কোথায়।

 

সাত.

প্রত্যেক বিভাগের সময়, অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা বুঝে মাসিক, সাপ্তাহিক ও দৈনিক প্রতিবেদন পেশ করা বাধ্যতামূলক। এখানে খেয়াল রাখতে হবে, কাজ করার চেয়ে কাজের প্রতিবেদন তৈরিতে যেন বেশি সময় ব্যয় না হয়। দ্রুত প্রতিবেদন মূল্যায়ন করুন। সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে আরো দ্রুততার সঙ্গে। প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে স্বল্প সময়ের জন্য নিয়মিত সভা করুন।

 

আট.

প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ গবেষণা বিভাগ তৈরি করুন। বিভিন্ন বিভাগের কর্মতত্পরতা, কর্মপদ্ধতি, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও অর্জিত ফলাফল—এই চারটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করাই এই বিভাগের প্রাথমিক কাজ। এই বিভাগকে হতে হবে সবচেয়ে চৌকস। গবেষণা-ফলাফল পেশ করার পাশাপাশি সমস্যা চিহ্নিত করা ও এর সম্ভাব্য সমাধানও উপস্থাপন করতে পারবে।

 

নয়.

প্রতিষ্ঠানের ক্রান্তিকালে নেতৃত্ব হওয়া চাই বুদ্ধিদীপ্ত, বিচক্ষণ, ধৈর্যশীল একই সঙ্গে ক্ষীপ্র। চারদিকে কড়া নজর, প্রতিনিয়ত বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আশানুরূপ ফল না পেলে দ্রুত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি। নেতৃত্ব হতে হবে সর্বব্যাপী, যুক্তিসংগত ও নির্ভুল না হওয়া পর্যন্ত নিরন্তর পরিবর্তনশীল।

দশ.

আপনি আগে কখনো অর্জন করেননি এমন ফলাফল পেতে চাইলে আপনি আগে কখনো করেননি এমন কাজ করা দরকার। এক মাত্র সৃষ্টিশীলতাই পারে তা নিশ্চিত করতে। খেয়াল করুন, আপনার কর্মকর্তারা কতটা সৃষ্টিশীল। সমস্যার সমাধানে সৃষ্টিশীলতার বিকল্প নেই। সৃষ্টিশীলতার কোনো বিভাগ নেই। সব বিভাগের সব কর্মীই সৃষ্টিশীল হতে পারেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নতুন চমক আনতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা