kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদ ফ্যাশন ১

শাড়ি-কামিজ

ঈদের পোশাকের কাটছাঁট দেখেই বোঝা যায় আগামী এক বছরের ফ্যাশনের হালচাল। এ বছর মেয়েদের পোশাকের ফ্যাশন ও ট্রেন্ডের খবর জানাচ্ছেন সাবিহা সুলতানা

১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শাড়ি-কামিজ

মডেল : তানহা, কেয়া। শাড়ি : রঙ বাংলাদেশ। কামিজ : অঞ্জন’স। সাজ : লা বেলেযা ডিফাইন্ড বাই সাদিয়া। স্টাইলিং: টনি মাহমুদুল। ছবি : কাকলী প্রধান

‘সারা বছরের থেকে ঈদের পোশাকটা একটু আলাদা হওয়া চাই। যেন একনজর দেখেই বোঝা যায় উত্সবের পোশাক। ঈদের দিন তো পরা হবেই, তারপর অন্য যেকোনো নিমন্ত্রণেও বছরজুড়ে পরা যাবে। এ ছাড়া ঈদের জামায় জমকালো ভাবের সঙ্গে একটু আরামের বিষয়টাও মাথায় রাখি।’—বলছিলেন বসুন্ধরা শপিং সেন্টারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী ফাইমা আরুজ। গত বছরের শেষের দিকে কর্মজীবন শুরু করেছেন তিনি। তাই নিজের পাশাপাশি পরিবারের জন্যও নিজের আয়ে কেনাকাটা করবেন। ফাইমার মনমতো ঈদের জামার খোঁজে নেমে পড়লাম। কেমন ডিজাইন হয়েছে এবারের ঈদে—জানতে চেয়েছিলাম ফ্যাশন হাউস অঞ্জনসের কর্ণধার ও ডিজাইনার শাহীন আহমেদের কাছে। জানালেন, ‘পোশাক ডিজাইনে আবহাওয়া আর উত্সব দুটি বিষয় ডিজাইনারদের মাথায় সবার আগে আসে। গরমের কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক রং ও নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে এবারের ঈদের শাড়ি আর কামিজে। হালকা ও উজ্জ্বল রঙের ফ্যাব্রিকসে প্রিন্ট ও এমব্রয়ডারির সমন্বয়ে নকশা করেছি। তাই পোশাকে আরাম ও জমকালো লুক দুটোই পাবেন ক্রেতারা।’

রঙ বাংলাদেশ

বেশ কয়েকটি দেশীয় ফ্যাশন হাউস ঘুরে দেখা গেল, মেয়েদের ঈদ পোশাকে এবার ফুলের মোটিফের জয়জয়কার। বিভিন্ন ধরনের প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, পুঁতি বা বোতামের নকশাসহ ডিজাইন মাধ্যম যা-ই হোক, ফুল বা লতা-পাতার নকশা থাকছেই। প্রায় সব হাউসেই ঈদ পোশাকের দুই ধরনের সংগ্রহ দেখা গেছে। গরমে ঈদ। দিনের জন্য একটু কম নকশার ছিমছাম শাড়ি, কামিজ ও টপস রেখেছে হাউসগুলো। এসব পোশাকে সুতি, ভয়েল বা লিনেন ফ্যাব্রিকসে টাইডাই, স্ক্রিনপ্রিন্টসহ বিভিন্ন প্রিন্ট নকশার সঙ্গে নানা রকম হাতের কাজ, এমব্রয়ডারি ও সুতার নকশা করা হয়েছে। এ ছাড়া নিমন্ত্রণ বা রাতের অনুষ্ঠানের জন্য জর্জেট, ভিসকস, মসলিন ও সিল্কের মতো জমকালো লুকের ফ্যাব্রিকস বেছে নেওয়া হয়েছে। নকশায় ব্যবহার হয়েছে ভারী এমব্রয়ডারি, পুঁতি, বিডস, বোতাম, লেইস ও সীমিত পরিসরে কারচুপি বা জারদৌসির নকশা। পোশাকের কাটিং প্যাটার্নে গত বছরের মতো এবারও বেশ বৈচিত্র্য এসেছে। নতুন নতুন নকশার দেখা মিলছে। কামিজ বা কুর্তায় কোনোটিতে একপাশে, কোনোটিতে আবার দুই পাশে নকশাদার পকেট জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আলাদা ফ্যাব্রিকসে এমব্রয়ডারি করে কুর্তার একপাশে চারকোনা আকারে বা হাতার মাঝখানে পট্টির মতো জুড়ে দেওয়া হয়েছে। রঙ বাংলাদেশের ডিজাইনার সৌমিক দাস জানান, ‘কামিজ-টপসে কয়েক লেয়ারের নকশা, চেইন দেওয়া সালোয়ার-কামিজ, জিপসি আর ফ্রক ঘরানার বিভিন্ন কাটের পোশাক এনেছে রং বাংলাদেশ। কামিজ-কুর্তার হাতায়ও গত বছরের রেশ রয়ে গেছে। বেলবটম, কার্ভ, বেল, চোঙাসহ নানা নকশার হাতা থাকছে পোশাকে। ছোট হাতা বা হাতা কাটা পোশাকও পাবেন। একই পোশাক হাতাসহ আর হাতা কাটা দুইভাবেই পাওয়া যাচ্ছে।’ অন্যান্য ফ্যাশন হাউসগুলোও পোশাকের কাছাকাছি ঘরনার কাটিং প্যাটার্ন বেছে নিয়েছে। ফ্যাশনে এখন কামিজ ও টপসের ওপর শ্রাগ, কেপ, কটি, জ্যাকেট, কিমোনো বেশ জনপ্রিয়। ঈদ কালেকশনে তাই গুরুত্ব দিয়ে নকশা হয়েছে এসব পোশাকও। বৈচিত্র্যময় নকশা দেখা গেছে এবারের সালোয়ার আর প্যান্টেও। চুড়িদার, লেগিংস, ডিভাইডার, পালাজ্জো, স্কার্ট পালাজ্জোর পাশাপাশি ধুতি, হারেম প্যান্ট, রঙিন ডেনিম সবই এবারও সমানতালে চলবে। নতুনত্ব বলতে এবার সব ধরনের সালোয়ার-প্যান্টের নকশায় এমব্রয়ডারি, লেইস, পুঁতিসহ বিভিন্ন জমকালো নকশা ফুটে উঠেছে।  

মার্জিন বাই অঞ্জন’স

সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া বাড়ির ছোট মেয়েটি থেকে শুরু করে বয়জ্যেষ্ঠ দাদি-নানি সবার ঈদটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায় শাড়ি ছাড়া। কামিজের মতো এবার ঈদের শাড়িতেও ফুলেল মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে বেশি। পাশাপাশি আরো ব্যবহার করা হয়েছে জ্যামিতিক মোটিফ। সুতি, হাফ সিল্ক, মসলিন ও পিওর সিল্কের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী জামদানি, কাতান, কোটা আর দেশীয় তাঁতে বোনা সুতির শাড়ি তো থাকছেই। কে ক্রাফটের ডিজাইনার খালিদ মাহমুদ খান জানান, ‘শাড়ি ডিজাইনে নকশা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ন্যাচারাল ডাই ও বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টের সঙ্গে সুতার নকশা, মেশিন এমব্রয়ডারি, নকশিকাঁথার বুনন। শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে জমিনজুড়ে ব্যবহূত হয়েছে একই রঙের (জলছাপ) নকশা। নকশার মাঝে ছোট ছোট আয়না আর চুমকির নকশা করা হয়েছে জমকালো লুক আনতে।’ বাজার ঘুরে দেখা গেছে শাড়ির পাড়, কুঁচি আর আঁচলে আলাদা নকশার ফিউশন ডিজাইন গতবারের মতো এবারও চলছে। উত্সবের আমেজ আনতে শাড়ির আঁচলে টারসেল, ঝালর আর পাড়ে ফ্রিল নকশা ব্যবহার হয়েছে। গরমের এই ঈদে শাড়ির রঙেও দেখা গেল দারুণ বৈচিত্র্য। নীল, সবুজ, বেগুনি, গোলাপি, লাল, হলুদ, কমলার পাশাপাশি খয়েরি, জলপাই, লাল-খয়েরি, ইন্ডিগো এমন বাহারি রঙের শাড়ি পাবেন ঈদ বাজারে।

রঙ বাংলাদেশ

মুমু মারিয়া

 কে ক্রাফট

অঞ্জন’স

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা