kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

অন্য কোনোখানে

হাঁকাও গাড়ি চিলমারী

আবু আফজাল সালেহ

আবু আফজাল সালেহ   

২৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাঁকাও গাড়ি চিলমারী

কুড়িগ্রাম শহর থেকে রমনা বাজার পেরোতেই চোখে পড়ল চিলমারী। ব্রহ্মপুত্র ঘেঁষা বিখ্যাত নদীবন্দরটির আগের সেই জৌলুশ আর নেই। বন্দরে এখন আগের মতো জাহাজ ভেড়ে না। ব্রহ্মপুত্র গিলে খেয়েছে চিলমারীর আগের বন্দর। স্টিমার, গরুর গাড়ি আর গাড়োয়ানদের গান এখন শুধুই স্মৃতি। তার পরও বন্দরজুড়ে চমত্কার আবহ রয়েছে এখনো। এই বন্দর নিয়ে আব্বাস উদ্দীনের গাওয়া ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই, হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে’ গানটি শুনলেই যে কারো মনে জায়গাটি সম্পর্কে কৌতূহল তৈরি হয়। সেই কৌতূহল মেটাতেই সপরিবারে বেড়াতে আসা।

বন্দরে পৌঁছতেই চোখে পড়ল মানুষের নানামুখী। রৌমারী, রাজীবপুর, যাত্রাপুর, হাতিয়া, অষ্টমীচর, মোল্লারহাট প্রভৃতি এলাকা থেকে আসছে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌকা। যাওয়া-আসার পথে অলস সময়ে খোশগল্প করছে মানুষ। সামনেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ব্রহ্মপুত্র। কয়েক দিন আগেও ছিল কূলছাপানো পানি। এখন শুষ্ক। পানির চেয়ে বালুচরই বেশি জায়গা দখল করে আছে।  হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। তার পরও থাকাখাওয়ার ভালো ব্যবস্থা নেই। চলনসই খাবারের ব্যবস্থা আছে বন্দর তীরে।

কুড়িগ্রাম থেকে যাওয়ার পথেই চোখে পড়ল দুই পাশের নিচু জমি, জলাশয়। মাছ ধরা। চারদিকে বালু আর বালু। মানে চর। হঠাত্ হ্রেষা ধ্বনি শুনে চমকে উঠলাম। প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম ঘোড়ার ডাক। পেছনে তাকিয়ে দেখি ঘোড়ার গাড়ি। কুড়িগ্রামের পথে-প্রান্তরে ঘোড়ার গাড়ির চল। কোনোটা মালবোঝাই তো কোনোটা একেবারেই ফাঁকা। চিলমারী বেড়াতে এলে চলতি পথে হঠাত্ হঠাত্ গানও শুনতে পাবেন। বিখ্যাত সব গান। মরমি পল্লীগীতি শিল্পী আব্বাস উদ্দীনের কণ্ঠের সেই গান—‘ও কি গাড়িয়াল ভাই, কত রব আমি পন্থের দিকে চাইয়া রে.../ যেদিন গাড়িয়াল উজান যায়/নারীর মন মোর ছুইরা রয় রে.../ ও কি গাড়িয়াল ভাই/ হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে।’ তবে কোনো গায়কের কণ্ঠে নয়, দোকানে রাখা অডিও সেট থেকে।

ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে দেখা মিলল মহিষের গাড়ি। গরুর গাড়ি আর নেই বললেই চলে। চরে মালামাল পরিবহনে ঘোড়ার গাড়িই উপযুক্ত।

চিলমারী বন্দর থেকে ব্রহ্মপুত্র ভ্রমণও অনেক আনন্দদায়ক। বন্দরের কাছেই অনেক ছোট-বড় নৌকা আছে। দরদাম করে বেরিয়ে পড়তে পারেন। এখান থেকে ভারত সীমান্তের অনেক কাছে যাওয়া যায়। হাতে যদি সময় থাকে তবে রৌমারী সীমান্তে যেতে পারেন। রৌমারী বা রাজীবপুরগামী নৌকা বা লঞ্চে দুই ঘণ্টা সময় লাগে।

চিলমারী ভ্রমণে একসঙ্গে ট্রেন-বাস-অটো-ঘোড়া-নৌকা সবই পাবেন। কয়েক দিন কেটে যাবে অতীতের কথা মনে করতে করতে।

কিভাবে যাবেন

চিলমারী বন্দরে যেতে প্রথমে বাসে কুড়িগ্রাম অথবা উলিপুর। সেখান থেকে অন্য বাসে রমনা বাজার অথবা অটোতে চিলমারী। ভ্রমণকে আনন্দময় করতে ঘোড়ার গাড়িতে চড়েও যেতে পারেন। ঢাকা অথবা যেকোনো প্রান্ত থেকে ট্রেনে এলে লালমনিরহাট কিংবা রংপুর অথবা কাউনিয়া নেমে এরপর বাসে কুড়িগ্রাম। সেখান থেকে আবার বাসে রমনা বাজার।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা