kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

অন্য কোনোখানে

রামু রাবার বাগানে

শরীফ হোসাইন   

৮ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রামু রাবার বাগানে

পাহাড়ি টিলা আর সবুজ ও সুশৃঙ্খল গাছের ছায়াতলে যদি নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান, তাহলে রামু রাবার বাগান আপনার জন্য একটি আদর্শ স্থান। কক্সবাজার থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে রামু উপজেলায় এর অবস্থান। সারা বছর ভ্রমণের উপযোগী একটি জায়গা। সারি সারি রাবারগাছের বাগানে ঢুকলে মন হারিয়ে যায় সবুজের সমারোহে। যতই ভেতরে ঢুকবেন ততই যেন বিশালতা মুগ্ধ করবে আপনাকে। সে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর সৌন্দর্য। নিবিষ্ট মনে প্রকৃতিতে অবগাহন করতে করতে কখন বেলা গড়িয়ে যাবে টেরও পাবেন না।

১৯৬০ সালে বন বিভাগ অনাবাদি জমি জরিপ করে পরীক্ষামূলকভাবে রাবার উৎপাদনের জন্য ৭১০ একরের একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের রাউজানে ১০ একর এবং বড় পরিসরে কক্সবাজারের রামুতে ৩০ একরে বাগান করা হয়। পরে ১৯৬২ সালে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বনশিল্প করপোরেশনের কাছে রাবার চাষের প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যস্ত করা হয়।

বর্তমানে দুই হাজার ৬৮২ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত বাগান। এর মধ্যে এক হাজার ১৩০ একর এলাকা থেকে লিকুইড বা কষ সংগ্রহ করা হচ্ছে। রাবার বাগানে বর্তমানে উৎপাদনক্ষম গাছ রয়েছে প্রায় ৫৮ হাজার। এসব গাছ থেকে বছরে প্রায় আড়াই লাখ কেজি রাবার উৎপাদন হয়। প্রতিদিন দুই হাজার কেজি রাবার উৎপাদন করা হয় বাগানের কারখানায়। কারখানার পাশেই দুটি কোয়ার্টার। এখানেই থাকেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। উল্টো পাশে পাহাড়ের ওপরে রয়েছে আনসার ক্যাম্প। দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক আসেন এই বাগান দেখতে। বাগানে রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন রেস্টহাউস। আমরা যখন বাগানে তখন গাছের পাতা ঝরে গেছে। তাতে এক ধরনের নতুন দৃশ্য সৃষ্টি হয়েছে। বাগানের মাঝখান দিয়ে একটি রাস্তা। হাঁটার সময় মনে হয় বিদেশের সাজানো-গোছানো কোনো বাগান। এখানেই জানা গেল, কার্বন শোষণ ও মাটির ক্ষয়রোধের মাধ্যমে রাবার বাগান পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। প্রাকৃতিক কাঁচা রাবার আমদানির কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। রাবার গাছ রোপণের পর সাত বছর পরিচর্যা শেষে অষ্টম বছরে শুরু হয় উৎপাদন। একটি গাছ ২৫ বছর পর্যন্ত রাবার কষ উৎপাদন করে। ৩২-৩৩ বছর বয়সে গাছগুলো অর্থনৈতিক জীবনচক্র হারায়।

বাগানে ঢুকতে কোনো বাধা-নিষেধ নেই। তবে রাবার কষ প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় ঢুকতে অনুমতি নিতে হয়। কারখানার ভেতরেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অফিস। বাইরে দায়িত্বরত আনসার সদস্যকে বললে তিনি অফিসে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। অফিসে বললে তারাই প্রয়োজনীয় অনুমতির ব্যবস্থা করেন। কারখানায় ঝোলানো অরিজিনাল রাবার আছে। চাইলে ধরেও দেখতে পারেন। তবে রাবার প্রক্রিয়াকরণ চুল্লির কাছে যাবেন না। চুল্লিতে সব সময়ই আগুন থাকে, পা ফসকে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

 

রাবার কষ আহরণের সময়

সাধারণত শীতকালে রাবার কষ উৎপাদন বেশি হয়। অক্টোবর থেকে জানুয়ারি কষ আহরণের উত্কৃষ্ট সময়। বর্ষাকালে কষের উৎপাদন কমে যায়। গ্রীষ্মকাল থেকে অল্প পরিমাণে বাড়তে থাকে। সপ্তাহে এক দিন রাবার কষ সংগ্রহ করা হয়। পাহাড়ি ও সমতলের লোকেরা মজুরির ভিত্তিতে কষ সংগ্রহ করে কারখানায় এনে প্রক্রিয়া করার জন্য জমা করেন। 

 

সতর্কতা

বাগানের ভেতরে কোনো দাহ্য পদার্থ, বিড়ি-সিগারেট বা দিয়াশলাইজাতীয় দ্রব্য না নেওয়াই ভালো। শীতকাল ও বসন্তকালে পরিবেশ ও ঝরাপাতা এতই শুকনো থাকে যে সামান্য অসাবধানতায় পুরো প্রকৃতি নিঃশেষ করে দিতে পারে। বাগানে যত্রতত্র ময়লা ফেলা নিষেধ।

 

কিভাবে যাবেন

কক্সবাজার থেকে ইজিবাইক, বাস, সিএনজি ট্যাক্সি বা ব্যক্তিগত বাহনে রামু রাবার বাগানে আসা যায়। অথবা রামু চৌমুহনী থেকে ২ কিলোমিটার উত্তরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পূর্ব পাশেই চোখে পড়বে নয়নাভিরাম রাবার বাগান ও রাবার কষ প্রক্রিয়াকরণ কারখানা।

মন্তব্য