kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

আপনার শিশু

পারে সব, কিন্তু পরীক্ষায়!

১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পারে সব, কিন্তু পরীক্ষায়!

আপনার শিশু বাড়িতে হড়বড় সব পড়া বলে দিচ্ছে। কিন্তু স্কুলের পরীক্ষায় ফলাফল ঠিক তার উল্টো। কেন এমন হয়? সানশাইন ডে কেয়ারের চাইল্ড স্পেশালিস্ট

ফারহানা আহমেদের কাছ থেকে জেনে লিখেছেন নাঈম সিনহা

 

ছোট-বড় সবার মধ্যেই পরীক্ষাভীতি কাজ করে। শিশুদের ক্ষেত্রে সেটা অস্বাভাবিক নয়। শিশুর পরীক্ষাভীতি আছে কি না সেটি বোঝার কিছু উপায় রয়েছে। দেখা যায়, পরীক্ষার আগে সে খেতে পারছে না, ঘুম হচ্ছে না কিংবা পেট ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যা হচ্ছে। তখন মা-বাবার বুঝতে হবে, তার শিশুর পরীক্ষাভীতি রয়েছে। সে কারণেই বাড়িতে সব পড়া আয়ত্ত করলেও পরীক্ষার হলে গোলমাল হচ্ছে। তাই অভিভাবকদের আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। যাতে তাঁর শিশু পরীক্ষার হলে গিয়ে হিমশিম না খায়।

প্রথমত, শিশুকে পড়ার সিলেবাস পরীক্ষার বহু আগে থেকেই অনুসরণ করাতে হবে। বাসায় যদি শিক্ষক থাকে, তাঁকে সেভাবে নির্দেশনা দিতে হবে। সেই অনুযায়ী শিশুকে প্রস্তুত করতে হবে। বারবার একই জিনিস অনুশীলন করাতে হবে। অল্প অল্প করে বারবার লিখতে হবে। এতে তার লেখার গতি এবং আয়ত্ত করার সক্ষমতা বাড়বে। তার কাছে পরীক্ষার পড়াটা সহজ মনে হবে। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত শিশুদের সিলেবাস খুব বেশি বিস্তৃত হয় না। তাই আগে থেকেই শিশুকে আয়ত্ত করানো সম্ভব। মোটকথা একটি পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। এতে পরীক্ষার আগে সে কোনো চাপ অনুভব করবে না। তার এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে।

সিলেবাস পুরো রিভাইস দিয়ে পরীক্ষার কয়েক সপ্তাহ আগে শিশুকে চাপমুক্ত রাখতে হবে। যাতে তার মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে কোনো আতঙ্ক বা ভীতি কাজ না করে। পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের শিশুর সঙ্গে আলাপ করতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে, পরীক্ষায় ভালো করতে পারলে ভালো, তবে ভালো করতেই হবে—এমন কোনো কথা নেই। পরীক্ষার ফল খারাপ করলে মান-সম্মানের হানি হবে, শিশুদের মাথায় এমন চিন্তা দেওয়া যাবে না। কারো শিশুর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। ভালো করার জন্য উত্সাহ দিতে পারেন, কিন্তু চাপ নয়।

পরীক্ষার আগে শিশুর পছন্দের বিনোদনের সুযোগ করে দিতে হবে। তাকে ঘুরতে পার্কে নিয়ে যেতে পারেন। অনেক বাচ্চা টেলিভিশন দেখতে পছন্দ করে। পরীক্ষার আগে একেবারে টেলিভিশন দেখা বন্ধ না করে দেওয়াই ভালো। তাকে হয়তো আধা ঘণ্টা পড়িয়ে এক ঘণ্টার বিরতি দিলেন। এতে তার মন উত্ফুল্ল থাকবে। সে আনন্দ নিয়ে কাজ করবে। বই পড়তে বা খেলতে চাইলে তাকে সেই সুযোগ দিতে হবে।

লক্ষ রাখতে হবে, পরীক্ষার আগে শিশুদের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না। অনেক সময় দেখা যায়, শিশুরা রাত জেগে পড়ছে। এটি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মোটেও ভালো নয়। দিতে হবে পুষ্টিকর খাবার। জাংক ফুড বা বাইরের খাবার খাওয়ানো যাবে না। ডিহাইড্রেশন হয় এমন খাবার খাওয়ানো যাবে না। কারণ শরীর ঠিকমতো কাজ না করলে মনের দিক থেকেও সে দুর্বল হয়ে যায়।

 

মন্তব্য