kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

নিমন্ত্রণে নতুন বউ

মাত্রই বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠেছেন সংগীতশিল্পী পুতুল। এখন চলছে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি নিমন্ত্রণের ধুম। এসব দাওয়াতে নতুন বউ পুতুল সাজছেন পারসোনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত খানের পরামর্শে। লিখেছেন জেনিফার ডি প্যারিস

১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নিমন্ত্রণে নতুন বউ

মডেল : পুতুল, সাজ : পারসোনা, পোশাক ও গয়না : অনীকিনী, ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

পোশাক

একের পর এক আত্মীয়ের বাড়িতে নেমন্তন্ন রক্ষায় কী পোশাক পরা যায়—এ নিয়ে নতুন বউদের মনে দ্বিধা চলতেই থাকে। বাঙালি পরিবারে বিয়ের পর নতুন বউ থাকে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। সাধারণ পোশাকে নিমন্ত্রণে যাওয়াটাও যেন বেমানান!

এসব নিমন্ত্রণে পোশাক হিসেবে শাড়িই প্রথম পছন্দ প্রায় সবার। বিয়ের ডালার কাতান যেমন থাকে, তেমনি থাকে উপহার পাওয়া শাড়ি থেকে বেছে নেওয়া পছন্দেরটি। এখন তো মসলিন, সিল্ক, শিফন কিংবা জরির পাড়ের শাড়িও বেছে নেন নতুন বউ। হাল ফ্যাশনে শাড়ির সঙ্গে ভিন্ন ধরনের ব্লাউজ পরছেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে ব্লাউজের কাটও হতে পারে আপনার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। জায়গা বুঝে এবং নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী ব্লাউজ ও শাড়ি বেছে নিন।

নববধূকে শাড়িই পরতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধ্যকতা থাকে না অনেক পরিবারেই। সে ক্ষেত্রে বন্ধু বা সহকর্মীর বাড়ির দাওয়াতে সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি গাউনের মতো পোশাকও পরছেন অনেক নতুন বউ।

দিনের নিমন্ত্রণে হালকা রঙের শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ পরতে পারেন। সাদা, হলুদ, হালকা সবুজ, গোলাপি—এ ধরনের রং নববধূর পোশাককে আরো প্রাণবন্ত করে। আর যেহেতু গরমের মৌসুম চলেই এসেছে, সুতি কিংবা লিনেনের সালোয়ার-কামিজ কিংবা কুর্তি হতে পারে দিনের দাওয়াতের জন্য আরামদায়ক, ফ্যাশনেবল চয়েজ। তবে দাওয়াত রাতে হলে বেছে নিন পছন্দের গাঢ় রঙের গাউন কিংবা জমকালো কাজ করা শাড়ি। কামিজে রং হালকা হলে কাজ বেছ নিন ভারি।

 

গয়না

নতুন বউয়ের সাজে গয়না গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুপুরের দাওয়াতে পোশাক হালকা মেজাজের হলে কানে পরতে পারেন বড় কোনো দুল, গলায় পরুন চিকন চেন কিংবা গলা খালিই থাকতে পারে। ব্লাউজ যদি হয় স্লিভলেস বা হাতাকাটা, তাহলে হাতে বাজু পরতে পারেন। জুয়েলারির সঙ্গে মিল রেখে চুড়ি পরুন কিংবা যদি মনে হয়, শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে হাতভর্তি রঙিন চুড়ি পরলেই বেশি মানাবে, তবে তা-ই সই!

রাতে শাড়ির সঙ্গে গয়নায় গলার হারের দিকে নজর দিন। ছড়ানো কোনো হার কিংবা চোকারের সঙ্গে ঝোলানো কানের দুল পরতে পারেন। হাতে থাকুক বালা বা ঘড়ি।

এ তো গেল শাড়ির কথা। সালোয়ার-কামিজ কিংবা কুর্তি পরলে কানে ঝুমকোজাতীয় দুল ভালো দেখাবে। গলা খালি না রাখতে চাইলে পরতে পারেন লকেটসহ চিকন চেন। দিন কিংবা রাত—যেকোনো সময়ই হাতভর্তি বালা পরা যায়।

তবে পোশাক যদি হয় গাউন, তবে জুয়েলারিটাও হওয়া চাই পশ্চিমা ধাঁচের। গাউনের সঙ্গে সাধারণত কানে ছোট টপ এবং গলায় চিকন লকেটই মানায়। হাতে ব্রেসলেট থাকা চাই, ঘড়িও থাকতে পারে। গাউনের সঙ্গে জুয়েলারি নির্বাচনে পুঁতি, পাথরজাতীয় ধাতুর গয়না বেছে নিন।

জমকালো কিন্তু সাধারণ ধাঁচের আংটিগুলো এ সুযোগে পরে নিতে পারেন।

 

নতুন বউ সাদা শাড়ি? ম্যাটেরিয়াল যদি হয় মসলিনের মতো জমকালো, তবে রঙে কী-ই বা আসে-যায়। সঙ্গে বরং কন্ট্রাস্টে পরতে পারেন কাতানের ব্লাউজ। গয়না ভারী হলে আর কী চাই? চুল সামনে থেকে পাফ করে এক পাশে এনে বেঁধে নিলে বেশ দেখাবে

সোনালি জমিনে কালো সুতার ভরাট কাজের অরগাঞ্জা কামিজে পুতুলের চুলের সেটআপ ছিল গোড়া ছেড়ে নিচের দিকে

কার্ল সেটিং

 

শাড়ির সঙ্গে গয়নার বাহুল্য এড়িয়ে কানে শুধু পরে নেওয়া যায় বড় চাঁদবালি দুল। কুন্দন, পার্লের গয়না এখন প্রায় সবার পছন্দ। চুলে চূড়ো খোঁপা এনে দিতে পারে রেট্রো লুক। এমন লুকে সাজের টোন ন্যুডই ভালো।

 

চুলের বাঁধন

শাড়ির সঙ্গে যদিও খোঁপাটাই বেশি চলে, তবে দাওয়াতে চাইলে ভিন্ন স্টাইলও করতে পারেন। চুল যাঁদের লম্বা, তাঁরা আয়রন দিয়ে চুল হালকা কার্ল করে এক পাশে নিয়ে বাঁধলে ভালো দেখাবে। কিংবা ঢিলেঢালা বেণিও করা যায়। কামিজ কিংবা কুর্তির বেলায় মাথার উপরিভাগের চুলগুলো গোছা করে নিয়ে হালকা পেঁচিয়ে পেছন দিকে বাঁধতে পারেন। গাউন পরলে লম্বা চুলে ঢিলে করে খোঁপা করে নিন। এলোমেলো খোঁপাও (মেসি বান) ভালো দেখাবে। খোঁপায় নানা ধরনের হেয়ার এক্সটেনশনের ব্যবহার সাজে নতুন মাত্রা যোগ করবে। চুল ছোট হলে ছেড়েই রাখুন, প্রয়োজনে স্ট্রেইট করে নিন।

 

কেমন হবে মেকআপ

এবার আসা যাক মেকআপের কথায়। দিনের দাওয়াতে যদি পোশাকে রঙের ব্যবহার বেশি থাকে, তবে মেকআপটা হালকাই ভালো। সে ক্ষেত্রে লিপস্টিকে ঠোঁট রাঙান ন্যুড কিংবা ত্বকের রঙের কাছাকাছি কোনো রং দিয়ে। চোখের সাজেও উজ্জ্বল রঙের বদলে ব্যবহার করুন হালকা টোন।

রাতের মেকআপে স্মোকি টোন ভালো লাগবে। সামঞ্জস্য রেখে লিপস্টিক বেছে নিন। আই শ্যাডোতে সোনালি-রুপালির মতো জমকালো রং ব্যবহার করতে পারেন। চোখের সাজের টোন মিলিয়ে লিপস্টিকে বেছে নিতে পারেন লাল- ম্যাজেন্টার মতো রং। রাতের মেকআপে হাইলাইটার গুরুত্বপূর্ণ। তবে শাড়ি কিংবা কামিজ-কুর্তির বেলায় মেকআপ যতটা জমকালো হয়, গাউনের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কমই দেখা যায়। গাউন পরলে গাউনের রং বুঝে মেকআপ করুন। সাদা কিংবা অন্যান্য হালকা রঙের গাউনের সঙ্গে গোলাপি এমনকি গাঢ় রঙের লিপস্টিকও ভালো লাগবে, তবে এ ক্ষেত্রে চোখের সাজটা সাদামাটাই রাখুন।

আত্মবিশ্বাস এবং স্বাচ্ছন্দ্য আপনার যেকোনো লুককেই করে তুলবে সাবলীল এবং সুন্দর।

গাউনের সঙ্গে চুলের স্টাইলে মেসি বান, সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে গয়নায় কানে বড় দুল আর দুটির সঙ্গেই হাতে থাকুক মানানসই পার্স বা ক্লাচ।

মন্তব্য