kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

কাজের মানুষ

অভিজ্ঞতা ছাড়াও হতে পারে চাকরি

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভিজ্ঞতা ছাড়াও

হতে পারে

চাকরি

সব কিছুর পেছনেই কারণ থাকে। বোঝা দরকার, কেন প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞ প্রার্থী খোঁজে? মূলত তিনটি কারণে প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞ প্রার্থী খোঁজে : পদ অনুযায়ী অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেই প্রয়োজন, অনভিজ্ঞকে দক্ষ করার মতো যথেষ্ট সময় প্রতিষ্ঠানের হাতে নেই। দক্ষ হওয়ার পর কর্মকর্তা সামান্য বেশি বেতন পেলেই অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়। প্রতিষ্ঠানের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এ কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে আরো অনেক শাখা-কারণও চিহ্নিত করা সম্ভব। যেমন—নতুন কর্মীকে যে শুধু বিভাগীয় কাজ শেখাতে হয় তা-ই নয়, অফিস আচরণও শেখাতে হয়। অনভিজ্ঞতার কারণে প্রতিষ্ঠানের উত্পাদনশীলতা ব্যাহত হয়। কোনো একদিন নতুন কর্মী ফলবান হয়ে উঠবে, সেই প্রতীক্ষায় প্রতিষ্ঠানকে থাকতে হয়। কিন্তু এত প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও একজন সদ্যঃপ্রস্তুত চাকরিপ্রার্থীর পক্ষে প্রাথমিক সারির পদে চাকরি পাওয়া সম্ভব। রইল মোক্ষম ১০টি পরামর্শ—

 

এক.

একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট আর একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র দুটি পার্থক্য।

ক) কাজটি কী করে করতে হয়, তা অভিজ্ঞরা জানেন।

খ) অফিসে কিছুদিন কাজ করার ফলে তিনি অফিস আচরণ শিখে গেছেন। এ ছাড়া আরো অসংখ্য যোগ্যতা আছে, যা চাকরি পেতে হলে নিশ্চিত করতে হয়। আপনি সেই যোগ্যতাগুলো বাছাই করুন এবং পদ ও প্রতিষ্ঠান বিবেচনায় তুলে ধরুন।

 

দুই.

আপনার সিভি বা বায়োডাটা হতে হবে আকর্ষণীয়। সাদা, এ-ফোর সাইজ কাগজের বড় খামে করে পাঠাবেন সিভি। যাতে ভাঁজ না পড়ে। সিভি হবে সংক্ষিপ্ত। কোনো বানান ভুল বা অসত্য তথ্য দেবেন না। খামের ওপর প্রতিষ্ঠানের নাম, যার বরাবরে পাঠালেন, যে পদের জন্য আবেদন করলেন—এই সব কিছু সুন্দর করে নির্ভুলভাবে লিখুন। আপনার সিভি যেন বলে দেয় আপনি একজন চৌকস, গোছানো ও রুচিশীল মানুষ।

 

তিন.

সিভিতে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ফলাফলের পাশাপাশি অল্প শব্দে শিক্ষাজীবনের আরো কিছু তথ্য (থাকলে) যোগ করতে পারেন। যেমন—আপনি হয়তো স্কলারশিপ পেয়েছিলেন, ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিলেন, হয়তো স্কাউট ছিলেন কিংবা উপস্থিত বক্তৃতা বা কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ইত্যাদি। উদ্দেশ্য—প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো যে আপনি দলগত কাজে অভ্যস্ত, আপনার ভেতরে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, আপনি সৃষ্টিশীল কাজে আগ্রহী ইত্যাদি।

 

চার.

নির্ধারিত সময়ে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন। দেরি করবেন না। যাতে আপনার সময়সচেতনতা প্রকাশ পায়। কথা প্রসঙ্গে সুযোগ বুঝে আপনার আগ্রহ, সময়সচেতনতা, দ্রুত শিখে ফেলার দক্ষতাগুলোর সপক্ষে কিছু বলুন।

 

পাঁচ.

ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার পোশাক-পরিচ্ছদ হতে হবে অত্যন্ত স্মার্ট ও মার্জিত। আপনার ব্যক্তিত্ব হবে ফুরফুরে, হতাশাগ্রস্ত নয়। প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনি অনুগত, সব শক্তি দিয়ে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট—এমনটা বোঝাতে হবে। নিজে যদি সত্যিই এমনটা করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন, তবে সেটি আপনার আচরণে ফুটে উঠবে।

 

ছয়.

ইন্টারভিউর আচরণ সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নিন। যাঁরা অভিজ্ঞ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক, তাঁরা আপনার আচরণ পড়তে পারেন। আপনার চোখমুখের অভিব্যক্তিতে অনেক কিছুই বুঝে যাবে। আপনি যদি সত্ ও কর্মোদ্দীপ্ত হন, তাহলে সেটি আপনার চোখে ফুটে উঠবে। তাই যিনি আপনাকে প্রশ্ন করছেন, উত্তর দেওয়ার সময় তাঁর দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। ইন্টারভিউ তো আসলে নিজেকে সঠিকভাবে তুলে ধরার জায়গা।

 

সাত.

আপনার দেহভঙ্গি বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে খুব সচেতন থাকুন। চেয়ারে বসা, কথা বলার সময় মুখভঙ্গি, হাত নাড়ানো ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয়ের দিকেও খেয়াল রাখবেন।

 

আট.

আপনার অন্যান্য যোগ্যতা থাকলে তা সিভিতে তুলে ধরুন। যেমন—আপনি যদি আলোকচিত্রী হন বা ছবি আঁকেন বা অভিনয় করেন, এমনকি আপনি যদি ড্রাইভিং জানেন—এই যোগ্যতাগুলোর কথাও তুলে ধরুন। আপনার ভালো লাগা, পছন্দ, শখ—এগুলোও উল্লেখ করতে পারেন। শুধু মনে রাখবেন, উপস্থাপনা হতে হবে দৃষ্টিনন্দন।

 

নয়.

চাকরি করা ছাড়াও আপনি অনেক প্রশিক্ষণ নিতে পারেন, যা আপনাকে চাকরি পেতে সাহায্য করবে। যেমন—অনেক প্রতিষ্ঠান বিক্রয়, ভোক্তাসেবা, বিপণন, অফিস আচরণ, তথ্য-প্রযুক্তিসহ নানা বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বা দিনব্যাপী কোর্সের আয়োজন করে। এসব কোর্সে অংশ নিন। আর সার্টিফিকেটগুলো সিভির সঙ্গে জুড়ে দিন। এই প্রশিক্ষণগুলো অসাধারণভাবে একজন নতুনকে চাকরি পেতে সাহায্য করে।

 

দশ.

যাঁরা শর্টকাট পথ খোঁজেন না, দক্ষতা অর্জনের জন্য নিবিষ্টচিত্তে পরিশ্রম করেন, তাঁরা খুব কমই চাকরিহীন থাকেন। বিরামহীন চেষ্টা করলে আপনি সফল হবেনই। যেমন—যাঁরা বিবিএ, এমবিএ করছেন, তাঁরা সিরিয়াসলি কাজ শেখার মানসিকতা নিয়ে ইন্টার্নশিপ করলে চাকরি পার্মানেন্ট হওয়ার সুযোগ থাকে। এমনি আরো অনেক উপায় আছে।

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা