kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

সম্পর্ক

সম্পর্কে বিচ্ছেদ?

এ এস এম সাদ

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সম্পর্কে বিচ্ছেদ?

দীর্ঘদিন কারো সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক থাকার পর হঠাত্ করে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হলে সেই কষ্ট ভুলে যাওয়া অথবা পুরনো স্মৃতি থেকে নিজেকে বের করে আনা খুবই কঠিন ব্যাপার।

গবেষণায় দেখা যায়, প্রথম বছর নিজেদের চেনাজানার মধ্যেই চলে যায়। একে অপরকে বোঝে এবং পরস্পরের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারে।

প্রথম বছরে সম্পর্কটি তিনটি ধাপে থাকে। প্রথম ধাপে দেখা হয় না অপর প্রান্তের ব্যক্তি কে, শুধু তাকে ভালো লাগলে পাওয়ার ইচ্ছাই মনে জাগে। দ্বিতীয় ধাপে মানুষটি বুঝতে পারে অপর প্রান্তের মানুষটি আসলে কী রকম। আর শেষ ধাপে ৯ কিংবা ১০ মাসের মধ্যে সম্পর্কটা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

দাম্পত্য জীবনে শরীরের চাহিদা থেকে নিজেদের আবেগ ও মানসিকতার  কতটুকু মিল হচ্ছে সেই ব্যাপারগুলো বেশি দেখা হয়। কোনো সম্পর্কে একজনকে ছেড়ে অন্যজন চলে গেলে, যাকে ছেড়ে গেল সেই মানুষটি বেশি কষ্টে থাকে। কারণ সে এই রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি ছিল না। অনাকাঙ্ক্ষিত এই পরিস্থিতি পরিবারে অন্যদের সঙ্গে তার সম্পর্ক, পড়ালেখা কিংবা অফিসের কাজেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সপ্তম সেমিস্টারে পড়ছেন এমন একজন জানিয়েছেন তাঁর সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরের সময় নিয়ে। তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে একটি ছেলের দুই বছরের মতো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু হঠাত্ করেই তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। ফলে সারাক্ষণ তিনি এক ধরনের মানসিক চাপে থাকেন। এমনকি স্বাভাবিক কাজে মনোনিবেশ করতে না পেরে বেশ কয়েকবার ভুল সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। যার জন্য তাঁকে অনেক সমস্যার সম্মুখীনও হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আসলে তখন অনেক কাজ ছিল যেগুলো বুঝে করা উচিত ছিল, যেটার মাসুল এখন দিতে হচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্র বলেন, কলেজজীবন থেকে তাঁর একজন মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং দিন যতই যায় তাঁদের সম্পর্কের মধুর স্মৃতিগুলো মুছে যেতে থাকে। তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়েছে আট মাস। তাকে ছাড়া আমি থাকতে পারব, এখনো মানসিকভাবে নিজেকে এই ভাবনার জন্য তৈরি করতে পারিনি। যার জন্য তাকে বারবার ফোন দিয়েছি। যাতে করে আমাদের মধ্যে আরো অনেক ঝামেলা হয়েছে। এখন জিনিসগুলো বুঝি যে ব্রেকআপের পর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে আজকের পরিস্থিতি এত খারাপ হতো না। অন্তত বন্ধুত্বটা থাকত।

 

ব্রেকআপের পর...

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সহকারী অধ্যাপক মেখলা সরকার সম্পর্ক বিচ্ছেদের পরে নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য দিয়েছেন নানা পরামর্শ।

* সম্পর্কে বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটলে সেই পরিস্থিতিকে মেনে নিতে হবে। অনেকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে পারেন। সুতরাং এই সময়গুলোতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

হ    সম্পর্ক শেষ হয়ে গেছে, এটি রূঢ় বাস্তবতা। যত বেদনাদায়ক, হাহাকারপূর্ণ বা হতাশাজনকই হোক না কেন, বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। এটি কঠিন, কিন্তু অনিবার্য।

হ    প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। অপর পক্ষের ক্ষতি করার চেষ্টা করবেন না, বিশেষ করে রাগের মাথায় এমন কিছু করবেন না যাতে আইনি জটিলতায় পড়তে হয়।

হ    মুঠোফোন, ফেসবুক, ই-মেইল, হোয়াটস অ্যাপসহ সব ধরনের যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিন। হয়তো তীব্র ইচ্ছা হবে ফোন করি বা কোনোভাবে যোগাযোগ করি, সে তাগিদ সংবরণ করুন, নিজকে সংযত রাখুন। শূন্যতা পূরণের জন্য ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের শরণাপন্ন হোন।

হ    ফেসবুক ব্যবহারে দুটি জিনিস মনে রাখবেন। ব্রেকআপের ঘটনা আকারে-ইঙ্গিতেও পোস্ট দিয়ে জানাবেন না এবং কোনোভাবে গোপনে ওই পক্ষকে অনুসরণ করবেন না।

হ    কাঁদুন, ক্রোধ প্রকাশ করুন, নিজকে হালকা করুন।

হ    এ সময় নিজের দুঃখ ভুলতে চটজলদি অন্য কাউকে বেছে নেবেন না। এতে অপর পক্ষের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। নিজেও শান্তি পাবেন না।

হ    নিজের বাড়িকেই ‘লাভ-ডিটক্স’ সেন্টার বানান (যেমন আমরা মাদকাসক্তি চিকিত্সায় মাদক ডিটক্স সেন্টার গড়ি)। এর জন্য সবচেয়ে জরুরি নিজের মনের জোর। প্রেমের টক্সিন ধীরে ধীরে কেটে গেলে বাস্তব জগতে নতুনভাবে অভিভূত হোন।

হ    অনেক সময় পুরনো সম্পর্ক নতুন করে গড়ে ওঠে। তাই যার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে তার সঙ্গে এমন কিছু করবেন না যাতে আপনি নিজেই ছোট হয়ে যান।

হ    এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিন। ব্যর্থ সম্পর্ক শুধু কষ্ট দেয় না, আমরা এ থেকে জীবনের উত্কৃষ্ট শিক্ষাও নিতে পারি। নিজেকে পুনর্ণির্মাণ করার, ভুল শুধরে আরো উত্তম, আরো উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ নির্মাণ করার এটি বড় সুযোগ।

হ    সৃজনশীল যে কাজগুলোতে আগে অংশগ্রহণ করতে পারেননি সেই কাজগুলো করে নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা