kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

নৌকার বাধা ‘সেই কুড়াল’

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক)   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নৌকার বাধা ‘সেই কুড়াল’

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসন নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। দুইবারের সাবেক এমপি মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েও মনোনয়ন না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তাঁর প্রতীক হচ্ছে ‘কুড়াল’। ২০০১ সালে এই ‘কুড়াল’ প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন তখনকার আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল মতিন ভূঁইয়া। এ কারণে সেবার বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরে যান সালাম। এবার এ আসন থেকে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বর্তমান এমপি আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন। এদিকে ‘কুড়াল’ প্রতীক নিয়ে তাঁর বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ২০০১ সালে হেরে যাওয়া সালাম। তাই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার বিষয়টিকে অনেকেই নৌকার বিজয়ের পথে বাধা মনে করছেন।

স্থানীয় সূত্র ও সালামের পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশ কয়েক দিন ধরে নিজ বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মীদের ডেকে সভা করেন আবদুস সালাম। সেখানে কিছু নেতাকর্মী তাঁকে নির্বাচনী মাঠে থাকার পরামর্শ দেয়। আবার অনেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার পরামর্শ দেয়। গত শনিবার দলীয় সভায় সিদ্ধান্ত হয় আবদুস সালাম রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ সভাপতি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। গত রবিবার ছিল প্রতীক বরাদ্দের দিন। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে আবদুস সালামকে ‘কুড়াল’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এ সময় তাঁর পক্ষে কেউ প্রতীক নেননি।

এদিকে জানা যায়, ২০০১ সালের নির্বাচনে নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আবদুল মতিন ভূঁইয়া বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ‘কুড়াল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম। নিজ দলের মধ্যে টানাপড়েন থাকায় ওই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে দুজনই হেরে যান। এবারের নির্বাচনেও নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সালাম ‘কুড়াল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে রয়েছেন। এবার আওয়ামী লীগের পদপ্রার্থী হয়েছেন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন। গত নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তুহিন। তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন। অন্যদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সালামও দক্ষতার সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। ফলে এ দুজনের নেতৃত্বে নান্দাইলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এ সুযোগটিই কাজে লাগাতে চাইছে বিএনপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা