kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

কুষ্টিয়ার ১, ২, ৩ ও ৪ আসন

নৌকা-শীষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে শনিবার বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্ট কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। কুষ্টিয়া-১ আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, কুষ্টিয়া-২ আসনে আহসান হাবীব লিংকন, কুষ্টিয়া-৩ আসনে জাকির হোসেন সরকার ও কুষ্টিয়া-৪ আসনে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর আগে আওয়ামী লীগ এই আসনগুলোতে মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। কুষ্টিয়া-১ আসনে সরোয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া-২ আসনে হাসানুল হক ইনু, কুষ্টিয়া-৩ আসনে মাহাবুবউল আলম হানিফ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনে সেলিম আলতাফ জর্জ চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন।

নির্বাচনী এলাকার ভোটার ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার এই চারটি আসনে বরাবরই বিএনপির বেশ শক্ত অবস্থান। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে কোন্দল এখনো প্রকাশ্য। এ কোন্দলে দলের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবউল আলম হানিফের ইন্ধনের অভিযোগ রয়েছে। কেননা তিনি ওই এলাকার কোন্দল নিরসনে কোনো ভূমিকা রাখেননি, বরং একপক্ষকে সমর্থন দিয়েছেন। এ কারণেই দশম সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফাজউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী (রেজাউল হক চৌধুরী) দাঁড় করিয়ে আসনটি ছিনিয়ে নেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এজন্য সংক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীরা এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে। তবে এবার তারুণ্যের বার্তা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সরোয়ার জাহান বাদশা নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তাও রয়েছে। বিএনপির প্রার্থী দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী কৌশলের কাছে কতটুকু শক্ত অবস্থানে থেকে লড়তে পারবেন নৌকার মাঝি বাদশা সেটা এখন দেখার বিষয়।

বিএনপি ও তাঁর শরিক দল জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে। এখানে ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু নৌকা প্রতীকে হেভিওয়েট প্রার্থী। তাঁর বিপরীতে জাপার (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লিংকন ঐক্যফ্রন্টের শক্ত প্রার্থী। আগের নির্বাচন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইনু ও লিংকন প্রায় সমান জনপ্রিয়। তবে ইনু বিগত দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী থাকায় এলাকায় তাঁর অবস্থান শক্ত করতে পেরেছেন। তবে জাসদ ও আওয়ামী লীগের সম্পর্ক এখানে ভালো নেই। বিএনপি-জামায়াত ও ব্যক্তিগত ইমেজ কাজে লাগিয়ে লিংকন একটা অবস্থানে পৌঁছাবেন। এ অবস্থায় তাঁকে পেছনে ফেলতে বেগ পেতে হবে ইনুকে। এ ছাড়া নিজ দলের সমর্থন তো রয়েছেই।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপির নবাগত প্রার্থী নতুন ঘটনা নয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আব্দুল খালেক চন্টুকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল। চন্টু কখনোই বিএনপির নেতা বা কর্মী ছিলেন না। এলাকায় খুব একটা জনপ্রিয়তাও ছিল না তাঁর। মেজর জেনারেল কে এম আব্দুল ওয়াহেদের ভাই হিসেবে তাঁর পরিচিতি গড়ে উঠেছিল এরশাদের শাসনামলে। সেই নির্বাচনে চন্টু জয়লাভ করেন। তাই এবার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এলাকায় দৃশ্যত যে উন্নয়ন করেছেন, তা বিগত ৪০ বছরে হয়নি। এ কারণে তিনি শক্তিশালী প্রার্থী। এই আসনে জয়-পরাজয় অতীত ইতিহাস থেকে অনুমান করা খুব কঠিন। কারণ এখানে আগেও হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজিত হওয়ার নজির রয়েছে। আবার একেবারে নতুন প্রার্থীর জেতার ইতিহাসও রয়েছে।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসন বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিগত নির্বাচনে এখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্ষীয়ান আওয়ামী নেতা আব্দুল আওয়াল মিয়া এবং ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী দুজনেই ৪০০-৫০০ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। এবার নৌকার প্রার্থী ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ মনোনয়ন লাভ করেছেন। শেখ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখানে বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। পরে তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। যদি আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধভাবে এই আসনে লড়াই করে তবে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী আহমেদ রুমীকে চরম বেগ পেতে হবে।

কুষ্টিয়া-২ আসনে সমীকরণ ছিল সবচেয়ে জটিল। এখানে বিএনপি থেকে তিনজন প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের সমর্থন নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহীদুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুরোধে তিনি তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। 

কুষ্টিয়া-৩ আসনেও মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা ছিল। এখানে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিন এবং জাকির হোসেন সরকারকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী মাহবুবউল আলম হানিফ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা