kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

রাজবাড়ীর দুটি আসনেই জয়ের প্রত্যাশা বিএনপির

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোটের মাঠে একাট্টা হয়ে কাজ করে রাজবাড়ীর দুটি নির্বাচনী আসনেই জিততে চায় বিএনপি। এবারের নির্বাচনে রাজবাড়ী-১ আসনে সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনে সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাছিরুল হক সাবুকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

যদিও রাজবাড়ী-১ আসনে খৈয়ম ছাড়াও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আসলাম মিয়া, রাজবাড়ী-২ আসনে সাবু ছাড়াও জেলা বিএনপির সহসভাপতি লায়ন আব্দুর রাজ্জাক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন আর রশিদকেও দল থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। পরে নির্বাচনের সুবিধার্থে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনীপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেও বেশ কয়েকটি মামলার শিকার হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ওই সব মামলায় এখন জেলা বিএনপির প্রথমসারির ২৯ জন নেতা রাজবাড়ী কারাগারে রয়েছেন।

একাধিকবার তাঁদের উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত করার চেষ্টা চালানো হলেও প্রতিবার ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে দলটির মাঠপর্যায়ে প্রথমসারির নেতার সংকট রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, তাঁরা নানাভাবে জানতে পেরেছেন, আগামীতে তাঁদের আরো কঠোর পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তাঁরা ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভিন্ন ভিন্ন পন্থায় প্রচারণা চালাবেন। প্রতিপক্ষকে ভোটের মাঠে এক বিন্দুও ছাড় দিতে রাজি নন তাঁরা। অনেক নেতাই বলেছেন, বিএনপির পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বিজয়ী হতে না পারলে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আর মুক্তি পাবেন না। তারেক রহমানকেও আর দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে না। সেই সঙ্গে নেতাকর্মীদের আরো বেশি নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে তাঁরা দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার আপ্রাণ চেষ্টা করবেন।

দলীয় মনোনয়ন পেয়েও চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কালুখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লায়ন আব্দুর রাজ্জাক জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত তাঁরা মেনে নিয়েছেন। তাঁরা ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ভোটের মাঠে থাকবেন। সেই সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষে ভোট দিতে প্রচারণা চালাবেন। এ ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের ভূমিকা রয়েছে অধিক। ওই সব প্রার্থী মান-অভিমান ভুলে চূড়ান্ত মনোনয়ন না পাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে ঘরোয়া আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করবেন। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

রাজবাড়ী-২ আসনের দলীয় প্রার্থী, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাছিরুল হক সাবু জানান, সব কিছুর ঊর্ধ্বে দল। তাই তিনি দলের মধ্যকার ভেদাভেদ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বিষয়ে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথাও বলেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা একাট্টা হয়ে ভোটের মাঠে নামবেন।

রাজবাড়ী-১ আসনের দলীয় প্রার্থী, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জানান, তাঁরা সরকারি দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী কলাকৌশলের খোঁজখবর রাখছেন। ওই সব কৌশলের বিকল্প ভাবনা নিয়ে তাঁরা ভোটের মাঠে থাকবেন। ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না।

মন্তব্য