kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

শেরপুর ২

দ্বিধাদ্বন্দ্বে বিএনপি স্বস্তিতে আ. লীগ

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনে বিএনপি থেকে তিনজনকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ফলে কে পাচ্ছেন চূড়ান্ত মনোনয়ন, এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ থেকে একমাত্র মনোনীত প্রার্থী কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। ফলে এখানে মোটামুটি স্বস্তিতেই রয়েছে দলটি।

দলের নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, ২৭ নভেম্বর বিএনপির গুলশান কার্যালয় থেকে শেরপুর-২ আসনে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী, সাবেক সচিব বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য ব্যারিস্টার হায়দার আলী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম মোখলেছুর রহমান রিপনকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক বাছাইয়ে রিপনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। ২৮ নভেম্বর ফাহিম ও হায়দার নকলা উপজেলায় সহকারী রিটার্নিং অফিসার জাহিদুর রহমানের কাছে এবং রিপন জেলা রিটার্নিং অফিসার আনার কলি মাহবুবের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগে রিপন নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। নির্বাচন কমিশনে আপিল করে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন রিপন। এই তিন প্রার্থীর কে পাচ্ছেন দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

তবে ফাহিম চৌধুরীকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা দেওয়ার দাবিতে গত শুক্রবার নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক সংবাদ সম্মেলন করে। এতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ আলী, হাবিবুর রহমান লিটন, নকলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রফিজ উদ্দিন রেফাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক দুলালসহ অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল। সম্মেলনে নেতাকর্মীরা জানায়, ফাহিম চৌধুরীকে এ আসন থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা না দেওয়া হলে নেতাকর্মীরা গণহারে পদত্যাগ করবে।

শেরপুর-২ আসনে বেগম মতিয়া চৌধুরী আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী স্থানীয় সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরী। তবে এ আসনে আরো পাঁচজন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বিশেষ করে কৃষক লীগের সাবেক সহসভাপতি কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা। তিনি গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেন। এবারও আলোচনা ছিল, দল থেকে মনোনয়ন না পেলে বাদশা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন কি না। শেষে দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ফলে আওয়ামী লীগ শিবিরে স্বস্তি বিরাজ করছে।

ফাহিম চৌধুরীর সমর্থকরা বলছে, ২০০১ সালে ফাহিম চৌধুরীর বাবা জাহেদ আলী চৌধুরী আওয়ামী লীগের বেগম মতিয়া চৌধুরীকে পরাজিত করে আসনটি বিএনপির দখলে নিয়েছিলেন। ফাহিম চৌধুরীর পক্ষেই সম্ভব বাবার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করা।

হায়দারের সমর্থকরা বলছে, তিনি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন এবং এখন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। তিনি মাঠে কাজও করেছেন। তাই তিনিই এ আসনের যোগ্য প্রার্থী।

রিপনের সমর্থকরা জানায়, তিনি দলের একজন ত্যাগী নেতা। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সব সময় এলাকার মানুষের পাশে ছিলেন, থাকবেন। তাই দল তাঁকেই চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করবে বলে তারা মনে করে।

শেরপুর-২ আসনে ভোটারসংখ্যা তিন লাখ ৪৯ হাজার ১৩৬ (নারী এক লাখ ৭৭ হাজার ২৫১ জন এবং পুরুষ এক লাখ ৭১ হাজার ৮৮৫ জন)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা